বর্ণাঢ্য আয়োজনে সময়ের সমীকরণ-এর বার্ষিক প্রতিনিধি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
রুদ্র রাসেল:
চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ তিন জেলার জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা সময়ের সমীকরণ-এর প্রতিনিধি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দামুড়হুদা উপজেলার শিবপুরে অবস্থতি ডিসি ইকো পার্কে অনুষ্ঠিত মিলনমেলায় সময়ের সমীকরণের সকল প্রতিনিধি, তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানেরা অংশ নেন। এসময় দীর্ঘদিনে সহকর্মী, সতীর্থ, ভাই ও বন্ধুরা একত্রে এক বিশাল পরিবারের উৎসবে মেতে ওঠে ডিসি ইকো পার্কের মনোরম আনন্দঘন পরিবেশ। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান শুরু হয় সাংবাদিক পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীকের পরিচয়ের মধ্যদিয়ে। এরপরে সাংবাদিক সহধর্মিনীদের বালিশ বদল খেলা, বাচ্চাদের দৌঁড় প্রতিযোগিতা, একসঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ, র্যাফেল ড্র, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পরে দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে ও বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের পরিচালনায় এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকাটির প্রধান উপদেষ্টা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ ও প্রবাসী কল্যাণ শাখা, ডিসি ইকো পার্ক এবং মিডিয়া সেল) মো. হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) লুৎফুল কবির, আন্দুলবাড়ীয়া লতিফ ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল লতিফ ও সময়ের সমীকরণের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. এএসএন হাসেমি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দৈনিক সময়ের সমীকরণ প্রত্রিকাটি আমার অত্যান্ত প্রিয়। পত্রিকাটি যে অনেক অল্প সময়ের মধ্যে জেলায় সুনাম অর্জন করেছে, তা প্রশংসনীয়। একটা পত্রিকার দূর-দূরান্তের এতোগুলো সাংবাদিক (প্রতিবেদক) একত্রিত হয়েছেন। এমন সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমার সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। সকলের সঙ্গে একত্রে বালিশ বদল খেলেছি, জিততে পারিনি, তবে অন্যরকম অনুভূতি অর্জন করেছি। সময়ের সমীকরণের পরিবারকে ধন্যবাদ।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ ও প্রবাসী কল্যাণ শাখা, ডিসি ইকো পার্ক এবং মিডিয়া সেল) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। এই পেশার মানুষকে জাতির বিবেক বলা হয়। এসময় তিনি ‘দাদা আমি সাথে পাছে থাকি না’ নামক কবিতার একটি লাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা যারা বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি পেশায় রয়েছি, তাঁরা অনেকটা এই কবিতায় লেখা দাদা আমি সাথে পাছে থাকি নার মতো থাকতে চাই। নিজের যতটুকু কাঁজ তার বাইরে যেতে চাই না, কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। কিন্তু সাংবাদিকতায় সাথে পাছে সবখানে থাকতে হয়। সততা একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ। অনেক যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকলেও সততার অভাবে অর্জিত সম্মান ধুলোয় মিশে যেতে পারে। যেহেতু গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়, তাই গণমাধ্যমকর্মীদেরও দর্পণের মতো স্বচ্ছ হতে হবে। এটা তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশবিশেষ ও বিশেষ ভূষণও বটে।’
সভাপতির বক্তব্যে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘সাধারণভাবে যিনি সংবাদপত্রের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন ও লিখেন, তাকেই সাংবাদিক বলে অভিহিত করা হয়। তবে বর্তমান সময়ের আধুনিক সাংবাদিকতার বিশাল পরিসরে সাংবাদিককে নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞায় বেঁধে দেওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। এখন সংবাদপত্রের ধরণে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি সাংবাদিকদের কাজের পরিধিতেও পরিবর্তন এসেছে। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। ‘শতভাগ সঠিক সংবাদ প্রচারের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ ঘটনার সঠিক সংবাদ জানতে চায়। সত্য লুকানোর মধ্যে ঘটনার প্রতিকার হয় না। সঠিক ও সৎ সাংবাদিকতা সমাজ বদলে দিতে পারে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, ‘সাংবাদিকতা যতোটা না পেশা, তার চেয়ে অনেক বেশি নেশা, ভালোলাগা। এই নেশাটা হচ্ছে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার নেশা। আমার মনে হয়, একজন চিকিৎসক যেভাবে মানুষের সেবা করতে পারেন, তার চেয়ে অনেক বেশি সেবা করতে পারেন একজন সাংবাদিক। সকল সাংবাদিকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল।’
দৈনিক সময়ের সমীকরণের নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভীর সঞ্চালনায় মিলনমেলার সকল পর্বে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ তিন জেলার বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বরত সংবাদিকবৃন্দ। এরা হলেন- সমীকরণের সহ-সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, সহ-সম্পাদক পলাশ কুমার সাহা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক সেলিমুল হাবিব সেলিম, ডেস্ক ইনচার্জ ফেরদৌস ওয়াহিদ, বিশেষ প্রতিবেদক এস এম শাফায়েত, অনলাইন ডেস্ক ইনচার্জ রাহুল রাজ, শহর প্রতিবেদক আনিস বিশ্বাস, সার্কুলেশন ম্যানেজার আলমগীর হোসেন, অফিস স্টাফ তৌহিদুর রহমান তপু, আলমডাঙ্গা অফিস প্রধান হামিদুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা প্রতিবেদক শেখ শফিউজ্জামান শফি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক (আলমডাঙ্গা) নাহিদ হাসান, জীবননগর প্রতিবেদক জাহিদ বাবু, সহকারী ব্যুরো প্রধান জীবননগর মিঠুন মাহমুদ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক (জীবননগর) এ আর ডাবলু, হাসাদাহ প্রতিবেদক বদরুজ্জামান শ্যামল, উথলী প্রতিবেদক রাসেল হাসেন মুন্না, আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিবেদক জাহিদুল ইসলাম মামুন, মহেশপুর প্রতিবেদক আব্দুর রহিম, সহকারী ব্যুরো প্রধান (দর্শনা) ওয়াসিম রয়েল, দামুড়হুদা প্রতিবেদক মোজাম্মেল শিশির, কার্পাসডাঙ্গা প্রতিবেদক ইকবাল রেজা, রাশেদুল ইসলাম, ভালাইপুর প্রতিবেদক রোকনুজ্জামান, নতিপোতা প্রতিবেদক তৌহিদ তুহিন, আলুকদিয়া প্রতিবেদক তরিকুল ইসলাম সুমন, হিজলগাড়ী প্রতিবেদক আরিফ হাসান, তিতুদহ প্রতিবেদক আকিমুল ইসলাম, সরোজগঞ্জ প্রতিবেদক ইকরামুল হক, ডাকবাংলা প্রতিবেদক সাইফুল ইসলাম, হলিধানী প্রতিবেদক জাহিদুল হক বাবু, কালীগঞ্জ প্রতিবেদক রিয়াজ মোল্লা, কোটচাঁদপুর প্রতিবেদক মামুনুর রশিদ, মেহেরপুর প্রতিবেদক মিজানুর রহমান জনি, মুজিবনগর ব্যুরো প্রধান মুন্সি মোকাদ্দেস হোসেন, মুজিবনগর প্রতিবেদক সোহাগ মণ্ডল, বাড়াদী প্রতিবেদক এসআই বাবু, হামিদুল ইসলাম, আমঝুপি প্রতিবেদক সেলিম রেজা, কুড়ুলগাছি প্রতিবেদক আহাদ আলী, জীবননগর প্রতিবেদক শাকিল হাসান ও উথলী প্রতিবেদক আহাম্মেদ সগীর।

মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত বড়দের বালিশ বদল খেলাটির পরিচালনা করেন প্রধান সম্পাদকের সহধর্মিনী ভিভা। খেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন পত্রিকার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন আলমডাঙ্গা অফিস প্রধান হামিদুল আজম ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন নতিপোতা প্রতিবেদক তৌহিত তুহিন।
সাংবাদিক সহধর্মিনীদের বালিশ বদল খেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন কার্পাসডাঙ্গা প্রতিবেদক ইকবাল রেজার সহধর্মিনী, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের সহধর্মিনী শারমিন মালিক রত্না এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন সার্কুলেশন ম্যানেজার আলমগীর হোসেনের সহধর্মিনী। বাচ্চাদের দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সকলেই প্রথম পুরস্কার চকলেট পেয়েছে। তবে সবার আগে দৌঁড়ে ফিনিশ লাইনে অপেক্ষারত বাবাকে ছুঁয়েছে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক সেলিমুল হাবীবের ছেলে সোয়াদ বাবু।
এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সহ-সম্পাদক (দর্শনা) আওয়াল হোসেন ও জীবননগরের বাঁকা প্রতিবেদক চাষী রমজানের কণ্ঠে ‘বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা’ গাওয়া গানে মেতে ওঠেন উপস্থিত সকলে। পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক এস এম শাফায়েতের কবিতা আবৃত্তি, হিজলগাড়ী প্রতিবেদক আরিফ হাসানের গান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আনন্দের মাত্রা কয়েকগুন বাড়িয়ে তোলে।
এরপর শুরু হয় র্যাফেল ড্র পর্ব। এই পর্বে অতিথি থেকে টিকেট তোলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ ও চুয়াডাঙ্গা পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাফিজুর রহমান মাফি। র্যফেল ড্র’তে ওঠা প্রথম তিনটি টিকেটের ক্রেতাকে বিজয়ী করা হয়। এর মধ্যে তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়। র্যাফেল ড্র-এর প্রথম পুরস্কার জিতেছেন বারাদী প্রতিবেদক এস আই বাবু, দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছেন প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের মেয়ে প্রেরণা এবং তৃতীয় পুরস্কার জিতেছেন বারাদী প্রতিবেদক হামিদুল ইসলাম। বারাদী প্রতিবেদক হামিদুল ইসলাম। সবশেষে সমীকরণের প্রধান সম্পাদক উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মিলনমেলার সমাপনী ঘোষণা করেন।