আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের একাত্মতা জানিয়ে প্রতিবাদ
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৩-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারকে হত্যা মামলায় আসামী করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অবৈধ চাপ সৃষ্টি করছে- জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, ‘দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত শক্তিরা দলের মধ্যে প্রবেশ করে দলকে ক্ষতি করছে। সম্প্রতি বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যে হত্যাকান্ড ঘটেছে, সেই ঘটনা নিয়ে একটি মহল অবৈধ চাপ সৃষ্টি করে যারা জড়িত নয় তাঁদেরকেও দায়ী করছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমি সবাইকে সতর্ক করতে চাই। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনকে। জনাব এসপি সাহেব আপনি কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। আপনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত। আপনার কাছে আমাদের দাবি, যেখানে মার্ডার হলো, সেটা চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে কতদূরে আপনি তা জানেন। যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার সেই মুহূর্তে কোথায় ছিলো, তদন্ত করলেই আপনারা দেখতে পাবেন।’ গতকাল গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বরে জেলা যুবলীগ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের নামে মিথ্যা মামলা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা আওয়ামী যুবলীগ। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ আরও বলেন, ‘এইমাত্র শফি বক্তব্যে বলেছেন, নিহতের পিতার করা মামলায় যুবলীগ নেতা নঈমের নাম ছিলো না। তাহলে কার চাপে নাম দেওয়া হলো। আমি শুধুমাত্র একটি কথা আপনাদের বলতে চাই, এসপি সাহেব, ওসি সাহেব, যাঁরা এই ব্যাপারে দায়িত্বপালন করছেন, নিরাপরাধ কেউ যেন এই জাতীয় মামলার আসামী না হয়। এটা আপনাদের দেখতে হবে, কারা হুমকি দিয়েছে। কারা চাপ সৃষ্টি করছে। নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে এগুলো দেখতে হবে। এই দাবি আপনাদের কাছে থাকলো।’
এই বিক্ষোভ সমাবেশে যুবলীগের পাশাপাশি একাত্মতা জানিয়ে প্রতিবাদ জানায় জেলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জিললু। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ^াস। তিনি বলেন, ‘যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সবাই একসাথে আছি। সবাইকে নিয়েই আজকের এই আয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সুখী সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক এক বাংলার। সে স্বপ্ন আজ যখন পূরণের পথে তখনই স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির লোকজন আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে দলকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য দলের মধ্যে বিভেদ কোন্দল ও অপতৎপরতা বেড়ে গেছে। সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। আজকে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো কারো চাপে কোনো নিরাপরাধ মানুষকে জড়াবেন না। আমরা অনুরোধ করছি, এই মামলা থেকে নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারকে অব্যহতি দিন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, ‘দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা লোকজনই দলের কর্মীকে হত্যা করছে। এ হত্যা চেষ্টার শিকার আমিও হয়েছিলাম। জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম জোর্য়দ্দারকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। যার সাথে এ হত্যাকান্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নঈম জোয়ার্দ্দারের নামে মামলা দেওয়ার আগে আরো একবার মামলা সাজানো হয়েছিল। সে মামলাটিই সঠিক ছিল। অথচ পরে একটি পরিবারের হুকুমে মামলায় পরিবর্তন এনে নঈম জোয়ার্দ্দারকে জড়ানো হয়।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘এ নিয়ে জেলায় পরপর তিনটি হত্যাকাণ্ড নাটক পরিবেশন হলো। এর আগেও দুটি এমন নাটক সাজানো হয়েছিল, সেখানে আমাকেও জড়ানো হয়েছিল। এবার তিন নম্বরে নাটকে নঈম জোয়ার্দ্দার ভাইকে জড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের যে কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে সে একটি পরিবারের লোক, আবার ওই পরিবারের নির্দেশেই হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়। তবে এবার থেকে এমন নাটকের আর সুযোগ নেই। এখন শুধু প্রতিহত করার পালা। এবার যদি কোনো মায়ের কোল খালি করা হয়, আর যদি নতুন নাটকের সৃষ্টি করা হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আজ যে জনসমুদ্র দেখছেন এর থেকেও বেশি জনসমুদ্র দেখানো হবে। সেদিন আর আপনাদের চুয়াডাঙ্গায় জায়গা হবেনা। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এই চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে আপনাদের অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হবে।’
জেলা যুবলীগের সদস্য হাফিজুর রহমান হাপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সোনাহার মন্ডল, জেলা যুবলীগের সদস্য আজাদ আলী, অ্যাড. তসলিম উদ্দিন ফিরোজ, খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাখওয়াত হোসেন টাইগার, জেলা যুবলীগের সদস্য হাপিজুর রহমান হাপু, সাজেদুল ইসলাম লাভলু, আবু বক্কর সিদ্দিক আরিফ, আলমগীর আজম খোকা, জেলা কৃষকলীগের প্রচার সম্পাদক মহাসিন রেজা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুয়েল রানা, ১নং যুগ্ম আহব্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর মাফিজুর রহমান মাফি, ২নং ইমরান আহমেদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক তফসির আহমেদ লাল, যুবলীগ নেতা পিরু মিয়া, শেখ শাহী, মাসুদুর রহমান মাছুম, দরুদ হাসান, জুয়েল জোয়ার্দ্দার, আল ইমরান শুভ, রামীম হাসান সৈকত, সামিউল শেখ সুইট, শেখ রাসেল, তানভীর রেজা টুটুল প্রমুখ। এসময় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের হাজার হাজর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স