মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কবি নজরুল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উভয়েই শোষিতের পক্ষে ছিলেন

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৩-২০২১ ইং
কবি নজরুল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উভয়েই শোষিতের পক্ষে ছিলেন
কার্পাসডাঙ্গায় সাহিত্য সংসদ অনলাইনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কবি মিলনমেলায় ডিসি নজরুল ইসলাম প্রতিবেদক, কার্পাসডাঙ্গা: মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতীয় কবির চিন্তা-চেতনা গণমানুষের বিকশিত করার লক্ষে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় নজরুল সাহিত্য সংসদ অনলাইনের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কবি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে চার্চ অব বাংলাদেশ কার্পাসডাঙ্গা মিশনের মধ্য ও দক্ষিণ বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের হলরুমে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কবিদের মিলনমেলা ও নজরুল স্মৃৃৃৃতি সাহিত্য সংসদ অনলাইনের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়। সাহিত্য সংসদের সভাপতি লাবলু হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কবি শিমুল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় কবি নজরুল স্মৃৃৃতিচারণ আলোচনা, কবিতা আবৃৃৃত্তি ও নজরুল সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি-সম্পাদক ও গবেষক মাহমুদুল হাসান নিজামী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্পাসডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম ও কার্পাসডাঙ্গা মিশনের চার্চ রেভা মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চলচ্চিত্র শিল্পী এবিএম সোহেল রশিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা, কবি আকলিমা খাতুন, এইচ এম সিরাজ প্রমুখ। পরে বেলা তিনটায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নজরুল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ ও দার্শনিক। যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন বাঙালি মনীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দুই বাংলাতেই তার কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। বঙ্গবন্ধু ও কাজী নজরুলের স্বপ্ন এক সুতোয় গাঁথা। তাঁরা সবাই অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। নজরুল ও বঙ্গবন্ধু উভয়েই শোষিতের পক্ষে ছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, নজরুল তাঁর লেখনীতে যে সাম্যের বার্তা দিয়েছেন, তা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবতা এবং সুবিচারের বিবেচনায় সুতীক্ষ্ম ও উজ্জ্বল। তাঁর কল্পনা কখনো ধর্মীয় উদারতা, কখনো স্বাধীনতা, কখনো মানবতা আবার কখনো নৈরাজ্যকে স্পর্শ করেছে। সমাজবিধানের অসংগতি, স্ববিরোধিতা, জাতিবৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্যের প্রতি তাঁর কণ্ঠ সব সময়ই সোচ্চার ছিল। এ সকল কিছুর মূল ছিল মানবমুক্তি ও মানব কল্যাণ।’ প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাঈফ। তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত, সাহিত্য ও রাজনৈতিক দর্শন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্দোলন, সংগ্রাম ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জুগিয়েছে অনাবিল অনুপ্রেরণা। জাতির পিতা ছিলেন এ মহান কবির একান্ত অনুরক্ত। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায় নজরুলের জীবনেও সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হতাশা-বিষাদ ছিল। নজরুলের বিদ্রোহী কবি হয়ে ওঠার পেছনের কারণ ও দিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নজরুল তাঁর দ্বিতীয় পুত্র বুলবুলকে হারিয়ে বিদ্রোহী সত্তা হতে অধ্যাত্মবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা আব্দুল খালেক, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান, কার্পাসডাঙ্গা রোমান ক্যাথলিক চার্চের ফাদার লাভলু সরকার, নজরুল স্মৃৃৃৃতিবিজড়িত আটচালা ঘরের মালিক মি. প্রকৃতি বিশ্বাস বকুল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কবিবৃৃৃৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী