মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আবারও লকডাউন চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর না

  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৩-২০২১ ইং
আবারও লকডাউন চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর না
লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ : করোনায় আরও ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬৫ সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশে করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে। ভাইরাসবিদ এবং রোগতত্ত্ববিদরা এটাকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, বিগত ঢেউয়ের তুলনায় এবারে সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংক্রমণ রেখা সোজা উপরে উঠতে থাকলে আক্রান্তের সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা ধারণা করাও কঠিন। চলতি মার্চ থেকে ১৭ দিনে দেশে করোনা সংক্রমণের তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণে ভয়াবহ চিত্র ফুটেছে। দেখা গেছে ২ মার্চ শনাক্ত রোগী ছিল ৫১৫ জন। ওই দিন মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ মার্চ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০১৮ জন, অর্থাৎ দ্বিগুণ। একইভাবে পরের এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার আরও বেড়ে তারও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৮৬৫ জনে উন্নীত হয়। এর আগে ১৫ ও ১৬ মার্চ নতুন আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৭৭৩ এবং ১৭১৯ জন। এ দুদিনেই মৃত্যু হয়েছিল ২৬ জন করে। ১৪ মার্চ শনাক্ত হন ১১৫৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১২ জনের। এছাড়া ১০, ১১, ১২, ১৩ মার্চ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১০১৮, ১০৫১, ১০৬৬ এবং ১০১৪ জন। এদিকে দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আবার লকডাউন চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তা না হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সমন্বয় রেখে যেকোনো জনসমাগম বন্ধ করাসহ ১২টি সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচাবাজার, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, শপিংমল, মসজিদ, রাজনৈতিক সমাগম, ভোট অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, রমজান মাসের ইফতার মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে সেগুলো বন্ধ রাখতে হবে। অন্যান্য কার্যক্রমও সীমিত করতে হবে। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষা (বিসিএস, এসএসসি, এইচএসসি, মাদ্রাসা, দাখিলসহ) নেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশন করার পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা রোগীদের সংস্পর্শে আসবেন, তাদের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশ থেকে বা প্রবাসী যারা আসবেন তাদের ১৪ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। আগামী ঈদের ছুটি কমিয়ে আনা যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আইন আরও জোরালোভাবে কার্যকর করতে হবে। পোর্ট অব এন্ট্রিতে জনবল আরও বাড়াতে হবে এবং নজরদারির কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সব ধরনের সভা ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে করার উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যটন এলাকায় চলাচল সীমিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে করোনা প্রতিরোধ ও বর্তমানে করণীয় সম্পর্কে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ রোধ করার জন্য বৈঠকে উল্লেখিত ১২টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এসব প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র এবং এনসিডিসি শাখার পরিচালক মোহাম্মদ রোবেদ আমিন সাংবাদিকদের বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে এই সুপারিশগুলো মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখানে যেহেতু পলিসির নানা সিদ্ধান্তের ব্যাপার রয়েছে, সরকার পরবর্তীতে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার বেশ কমে এলেও গত কয়েকদিন ধরে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর আগে গত শনিবার সারা দেশে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১৮৬৫, মৃত্যু ১১ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১ হাজার ৮৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা ৯২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য জানানো হয়েছিল গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। ওইদিন ১ হাজার ৮৭৭ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তবে আগের দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দুই দিনই ২৬ জন করে মারা যান। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২৪ হাজার ২৭৫টি। এতে ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ হাজার ৫১০ জন। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮ হাজার ৬০৮ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৯ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে আটজন ছিলেন পুরুষ ও তিনজন নারী। সবার মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে আটজন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব ও তিনজন পঞ্চাশোর্ধ্ব। এর মধ্যে আটজন ঢাকা এবং একজন করে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্তের তথ্য জানানো হয় ও ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতিতে সারাদেশে আবারও কঠোর লকডাউন নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, লকডাউনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের, এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লকডাউন প্রস্তাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর না: গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে পুনরায় লকডাউনসহ কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও বর্তমানে করণীয় সম্পর্কে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ১২টি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পরে এসব বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এদিকে, বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিসিপিএস কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে লকডাউন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতি রুখতে ১২ দফা সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, যে কোনো পাবলিক পরীক্ষা যেমন- বিসিএস, এসএসসি, এইচএসসিসহ অন্যান্য পরীক্ষা বন্ধ রাখা।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী