মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ, ইউএনও’র ওপর হামলা

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৩-২০২১ ইং
লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ, ইউএনও’র ওপর হামলা
জীবননগরের কাটাপোলে ইটভাটার মাটি বোঝায় ট্রাক্টর চাপায় বাইসাইকেল আরোহী নিহত ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার কাটাপোল গ্রামে ইটভাটার মাটি বোঝায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে অহিদুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অহিদুলের শিশুসন্তান ইয়াসিন আলী (৭)। এদিকে, খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাঁর ওপর হামলা করে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী। গতকাল মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে জীবননগর উপজেলার কাটাপোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ঘাতক ট্রাক্টরটি আটকসহ ট্রাক্টরের মালিক আনছারের বিরুদ্ধে হত্যাসহ দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর আগে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শঙ্করহুদা-বাথানগাছী গ্রামের অহিদুল ইসলাম (৪০) তাঁর ৫ বছরের শিশুসন্তান ইয়াসিন আলী ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বাইসাইকেলযোগে শ্বশুরবাড়ী জীবননগর উপজেলার নতুন চাকলা গ্রাম থেকে ভায়রা-ভাইয়ের বাড়ি মিনাজপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে কাটাপোল দক্ষিণপাড়ায় পৌঁছালে ইটভাটার মাটিভর্তি বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক্টরের ধাক্কায় তাঁরা বাইসাইকেল থেকে পড়ে যায়। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাক্টরটি অহিদুলের মাথা ও তার ছেলে ইয়াসিনের পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং তাঁর স্ত্রী অন্যদিকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান। এর কিছুক্ষণ পরই অহিদুল ইসলাম মারা যান। পুলিশ আহত শিশু রাসেলকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ ঘটনার পরপর স্থানীয় জনতা মাটি-বালু কাটা ও মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। বিক্ষোভ চলাকালে গ্রামবাসীদের মধ্যে ]গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ইউএনও মুনিম লিংকন ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছেন এবং সেই মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের ধাক্কায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করতে গেলে গ্রামবাসীরা সোজা জানিয়ে দেন, লাশটি নিতে হলে ইউএনওকে কাটাপোল গ্রামে আসতে হবে। খবর পেয়ে ইউএনও মুনিম লিংকন গ্রামটিতে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়েন। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে তিনি সেখান থেকে দৌঁড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে গেলে উত্তেজিত জনতার নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে মাথায় আঘাত পান। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি স্থানীয় জমির উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই বাড়ি ঘেরাও করে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়েন। গ্রামবাসী জানায়, কাটাপোল গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াতসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র বেশ কিছু দিন থেকে এলাকার বিভিন্ন জমি হতে মাটি কেটে ইটের ভাটায় বিক্রি করে আসছিল। জীবননগর নতুন চাকলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবর রহমান মণ্টু অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছেন। গত ৯ মার্চ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে শিক্ষক মজিবর রহমান মণ্টু গ্রামে গিয়ে প্রচার চালান যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মাটি কাটার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আগে ৫০ ট্রাক্টর মাটি কাটা হতো, এখন ৭০ ট্রাক্টর মাটি কাটা হবে। এ ধরনের কথা নির্বাহী কর্মকর্তার কানে গেলে তিনি হাসাদাহ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামালকে মাটি বোঝায় ট্রাক্টর আটকের জন্য নির্দেশ দেন। নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পরও তিনি ঘটনাস্থলে না এসে এসআই কামালকে পাঠানোর বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি গ্রামবাসী। যে কারণেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ট্রাক্টর দুর্ঘটনাটি ঘটার পর। ইউএনও মুনিম লিংকন বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে যাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন, তিনি গ্রামে ফিরে জানান, ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যে কারণে গ্রামবাসী বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারপর এ দুর্ঘটনায় ক্ষোভ বেড়ে যায়। অথচ জরিমানার টাকা চালানের মাধ্যমে পরদিন সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলে, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে শতাধিক লোকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। এসময় বিক্ষুদ্ধ কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আঘাতের হাত থেকে বাঁচতে দৌঁড়ে পালাতে গেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একটি ইট মাথায় এসে লাগলে রক্তাক্ত জখম হই।’ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আক্তার শিমু জানান, নির্বাহী কর্মকর্তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এদিকে, এ ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে করেন। জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন শতাধিক মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। বিক্ষুব্ধ লোকজন খুবই উত্তেজিত ছিল। কৌশলে তাঁকে উদ্ধার করে তাঁর জীবননগর বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ৫ মিনিট আগে আমরা ওখানে পৌঁছায়। বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাড়ি থেকে নামার পরই উত্তেজিত লোকজন তার ওপর হামলা চালায়।’ তিনি আরও বলেন, ঘাতক ট্রাক্টরটি আটকসহ ট্রাক্টরের মালিক আনছারের বিরুদ্ধে হত্যাসহ দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমি দুটি মামলা করতে বলেছি। আসামিদের ধরতে পুলিশকে বলা হয়েছে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী