যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ১৩ : দ্রুত ব্রেক কষায় প্রাণে বাঁচল দুজন
- আপলোড তারিখঃ
১৫-০৩-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে সড়কের মধ্যে চলে আসা মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে বিপত্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে সড়কের মধ্যে চলে আসা মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১৩ জনের অধিক আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চারমাইল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও বাসের ধাক্কায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এছাড়াও সামান্য জখম হয়ে কয়েকজন যাত্রী সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যান।
আহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের মৃত মোজাহারের ছেলে মোটরসাইকেল চালক জাহারুল ইসলাম (৫২), মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের কামাল হোসেনে মেয়ে ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের আষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফাবিহা জাবীন (১৩)। বাসের যাত্রীরা হলেন- দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মিম্মাতুল দিশা (২০), চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার এতিমখানাপাড়ার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী তহমিনা খাতুন (৫৫), সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে হাবিবা খাতুন (১৮), শ্রীকোল বোয়ালিয়া গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী সাধনা আক্তার মীম (২১), সরোজগঞ্জ বাজারপাড়ার মনিরুল ইসলামের মেয়ে বিউটি খাতুন (২৬), একই এলাকার হাবীব হোসেনে স্ত্রী আফরোজা বেগম (৫৪), ইমরুল হাসানের স্ত্রী উম্মে হাবীবা (৩৩), চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়িপাড়ার জাহাঙ্গীর হোসেনর স্ত্রী পপি আক্তার (৪০) ও ঝিনাইদহ জেলার ডাকবাংলা গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা খাতুন (২৮) ও হামিদুল ইসলাম (৫০)।
ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শী চারমাইল এলাকার জুনায়েদ আলী বলেন, ‘ঘটনাটি আমার একেবারে সম্মুখে ঘটেছে। ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস চুয়াডাঙ্গা অভিমুখে যাচ্ছিল। বাসটি চারসাইল মোড়ে পৌঁছালে চারমাইল বেগনগর রাস্তা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ করেই রাস্তার ওপর উঠে পড়লে বাসের সামনে চলে আসে। মোটরসাইকেলের পিছনে স্কুলব্যাগ নিয়ে একটি মেয়ে বসেছিল। এসময় বাসটি ওই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে বাঁচাতে কড়া ব্রেক করলে বাসটি সেখানে উল্টে যায়। এসময় মোটরসাইকেলটিও বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রাস্তায় ওপর ছিটকে পড়ে। বাসটির সামনের কাঁচ ভেঙে যাওয়াসহ বাসটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাসের ১০-১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসটি দ্রুত ব্রেক না কষলে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী দুজনেরই হয়ত প্রাণ চলে যেত। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা দ্রুত মোটরসাইকেল চালক, আরোহী ও বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্কুলছাত্রী ফাবিহা জাবীনের মামা জাকির হোসেন জাজান, ফাবিহা নিয়মিত তাঁদের কর্মস্থল ও পরিবারের সদস্য জাহারুল ইসলামের মোটরইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গা কাঠপট্টি এলাকার স্ট্যাডি হোম কোচিং সেন্টারে পড়তে যায়। গতকাল বেলা ১১টার দিকেও কোচিং সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জাহারুল ইসলামের মোটরসাইকেল যোগে রওনা হয়। বাড়ি থেকে বের হবার কয়েক মিনিটের মধ্যেই চারমাইল মোড়ে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে বলে জানতে পারি। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন জানান, এ দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকের শরীরে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগলেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। আহতদের মধ্যে ৯ জনই নারী। তাঁদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে কর্মরত বাসের সময় নিয়ন্ত্রক আশকার আলী বলেন, বাসচালক হায়দার আলী নিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীর জীবন রক্ষা করেছেন। তবে বাসটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যা মেরামতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। একজন মোটরসাইকেল আরোহী হঠাৎ সড়কে উঠে পড়াই তাঁকে বাঁচাতে (ঢাকা মেট্রো-জ-০৪-০৬৯৪) বাসটি ব্রেক করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক, আরোহী, বাসযাত্রীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বাসটি জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স