ভাড়া করা কৃষক দিয়েই অনশন!
- আপলোড তারিখঃ
১০-০৩-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
৫ শ টাকা, বিরিয়ানির প্যাকেট, জুস, পানির বোতল আর যাতায়াত খরচ দিয়ে কৃষক ভাড়া করে একটি তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে অনশন কর্মসূচি পালন করিয়েছে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি। আর জুস খাইয়ে ওই কৃষকদের অনশন ভাঙিয়েছেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক এবং গাংনী পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আহম্মদ আলী। গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৭০-৮০ জন কৃষক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনশন শেষে প্রত্যেক কৃষককে বিরিয়ানির প্যাকেট, টাকার খাম, জুসের বোতল হাতে ধরিয়ে দিয়ে ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয়। কৃষক সেজে আবুল খায়ের গ্রুপের শামীম রেজা ও মহিবুর নামের দুই প্রতিনিধিও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তামাক ও তামাক জাতীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হলেও দেশীয় তামাক কোম্পানিকে রক্ষার দাবিতে অনশন নামক এমন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ডেকোরেটরের মাধ্যমে তৈরি করা সুসজ্জিত একটি প্যান্ডেলের নিচে কার্পেট বিছিয়ে ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বসে আছে ৭০-৮০ জন কৃষক। দেশীয় তামাক চাষি কল্যাণ সমিতি নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘তামাক শিল্পে বৈষম্যমূলক নীতি প্রত্যাহার করে দেশীয় মালিকানাধীন তামাক শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার রক্ষার্থে অনশন কর্মসূচি।’ কৃষকদের গলায় ঝুলানো রয়েছে নানা স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন।
জানা গেছে, এরা সবাই আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির নিবন্ধিত তামাক চাষি। তাঁদের ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রকৃত তামাক চাষিদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া, তামকের ন্যায্য মূল্য প্রদান, উৎপাদিত সমস্ত তামাক ক্রয়, দেশীয় বন্ধ ও রুগ্ন তামাক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা, বিদেশি আগ্রাসনের হাত থেকে শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন তামাক শিল্পকে বাঁচানো, দেশের টাকা বিদেশে পাঁচার বন্ধ করা, তামাক নির্ভর কৃষি, কৃষক ও শ্রমিকদের সুরক্ষা প্রদান করা। তাঁরা বলছেন, বর্তমানে দুটি বিদেশি ও কয়েকটি কোম্পানি তামাক ক্রয় করছেন। কিন্তু ১০ বছর আগেও ২৫ থেকে ৩০টি দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় করত। দেশীয় কোম্পানিগুলো নিম্নমানের সিগারেট বানাতো এবং কৃষকেরা তাদের জন্য তামাক উৎপাদন করে দিত। বিদেশি কোম্পানিগুলো উচ্চমানের সিগারেট বানাতো। কিন্তু এখন বিদেশী কোম্পানি ‘বিএটিবি’ নিম্নমানের সিগারেট তৈরি করে বাজার দখল করে নিয়েছে। দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতার বাজারে টিক থাকতে পারছে না। ৩০টি দেশীয় কোম্পানির মধ্যে ২৫টি কারখানা কোনোমতে চলছে কিংবা সিগারেট উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তারা আর কৃষকের তামাক কিনছে না। এতে তামাক চাষিরা বিপাকে পড়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে শতভাগ দেশীয় মালিকানাধীন তামাক কোম্পানির জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরি করে ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ করে দিতে বিল পাশ করা হয়েছিল। সেটি বাস্তবান করা হলে তামাক কোম্পানিগুলো তাদের কাছে যাবে এবং তাদের উৎপাদিত তামাক ক্রয় করবে। এতে তারা লাভবান হবেন।
বেলা দুইটার দিকে দিকে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাংনী পৌর মেয়র জুস খাইয়ে কৃষকদে অনশন ভাঙান। পরে শহরের থ্রি স্টার মিষ্টির মেলা হোটেল থেকে বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে হাজির হন তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিরা। কৃষকদের হাতে প্যাকেট ও টাকা তুলে দেওয়া হয়। তামাক চাষিদের অনশন ভাঙানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক জানান, আবুল খায়ের টোব্যাকোর লোকজন ও চাষিরাও ফোন দিয়েছিল, তাই গিয়েছিলাম।
কমেন্ট বক্স