ত্রাণের খাবার চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত হেফাজতে!
- আপলোড তারিখঃ
০৭-০৩-২০২১
ইং
রাতভর অভিযানে ৮৪ প্যাকেট শুকনো খাবার জব্দ : গোডাউন সিলগালা
ঝিনাইদহ অফিস:
অবৈধ পন্থায় প্রায় ৬ কোটি টাকা উপার্র্জন মামলার আসামি কালীগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দীন চৌধুরী এবার ত্রাণের ৮৪ বস্তা শুকনো খাবার নিজের গোডাউনে রেখে চরম স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলার পর একজন জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে সিলগালা গোডাউন দুপুরে খুলে দিতে বাধ্য হয় জেলা প্রশাসন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রসাশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর এরফানুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীনের নিজ গ্রাম পুকুরিয়ার একটি গোডাউন থেকে ৮৪ বস্তা শুকনো খাবার উদ্ধার করা হয়। এসব মালামাল উদ্ধারের পর জানা যায় সেগুলো স্থানীয় এমপিকে দিয়ে ৭ মার্চ বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু এমপি ঢাকায় থাকার কারণে সেগুলো ওই গোডাউনে রাখা হয়। তবে সরকারি জিনিস চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখা বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খোলেননি।
জেলা প্রশাসন ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুকুরিয়া গ্রামে নাছির চেয়ারম্যানের গোডাউন থেকে ৮৪ বস্তা শুকনো খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়। সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয় গোডাউনটি। নড়েচড়ে বসে দুদকের দায়ের করা মামলার আসামি দলিল লেখক থেকে চেয়ারম্যান হওয়া নাছির উদ্দীন। অনেকেই সে সময় আশঙ্কা করছিলেন উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে ভিজিডির চাল থাকতে পারে। প্রথম দিকে প্রশাসনের কেউ কেউ স্বীকারও করে বসেন। পরে সংশোধন করা হয়। গতকাল সকাল থেকে যতই সময় গড়াই, ততই বিষয়টি খোলসা হতে থাকে। দুপুরের দিকে রাজনৈতিক চাপে গোডাউনের সিলগালা খুলে দেওয়া হয়।
সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শাফায়েত হোসেন বলেন, সরকারিভাবে যা কিছু পাওয়া গেছে, সবই বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও জব্দকৃত এই মালামাল সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহা জানান, ‘শনিবার দুপুরের দিকে গোডাউন খুলে দিয়ে মাস্টার রোলের কাগজ তলব করা হয়েছে। আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করব।’ তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ কেন চেয়ারম্যান তার নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।
সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন জানান, গত বুধবার উত্তোলন করে এগুলো বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমার আব্বার ইন্তেকাল জনিত কারণে বিতরণ করতে পারিনি। তিনি জানান, এই প্যাকেটে কিছু চাল, ডাল, নুডুলস, চিড়া, মুড়ি ও তেল আছে। পুকুরিয়া গ্রামে একটি এতিমখানার ভবনে শুকনো খাবারের প্যাকেটগুলো রাখা হয়েছিল। সেটি তাঁর গোডাউন নয়। সরকারি জিনিস কেন ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখলেন, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি চেয়ারম্যান নাছির।
কমেন্ট বক্স