শীতের নরম রোদ, মিষ্টি অনুভূতি উধাও
- আপলোড তারিখঃ
০৪-০৩-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় রোদের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ, আগেভাগেই উষ্ণতার দাপট
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বসন্ত যে পুলক নিয়ে এসেছিল এখনও তা অটুট আছে। তা আছে। শীতের মিষ্টি অনুভূতিটুকু আর নেই। নরম রোদ অনেক আগেই উধাও হয়েছে। হঠাৎই চটেছে সূর্য। চোখ রাঙাচ্ছে খুব। সব মিলিয়ে নবীন বসন্তেই একটা গরমাগরম ব্যাপার। আগেভাগেই যারপরনাই উষ্ণ প্রকৃতি। ‘এবার এল সময় রে তোর শুকনো-পাতা-ঝরা-/যায় বেলা যায়, রৌদ্র হল খরা...।’ সেই রোদ আর খরার দিন বুঝি চলেই এসেছে! অথচ মাত্র কদিন আগে বিদায় নিয়েছে শীতের কাল। আনুষ্ঠানিক বিদায়। গ্রীষ্মের এখনও ঢের বাকি। মাঝখানের সময়টা না শীতের না গরমের হয়। হওয়ার কথা। অথচ এখন পুরোপুরি গরম পড়তে শুরু করেছে। গ্রীষ্মের আগে, হ্যাঁ, একটা আগাম বার্তা প্রকৃতি দিয়েই থাকে। তাই বলে এতটা? বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা শহরবাসী ভীষণ অবাক। চুয়াডাঙ্গায় রোদের তীব্রতা বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে গেছে। সূর্য কিরণের দাঁড়িয়ে গা শেকা আর সম্ভব হচ্ছে না। রোদে ভিটামিন ডি আছে। করোনায় বিশেষ উপকার। সব জেনেও ছায়া খুঁজছে মানুষ। এমনকি রোদ থেকে বাঁচতে সঙ্গে ছাতা নিয়ে বের হতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। তারও আগে শীতবস্ত্র তুলে রাখতে শুরু করেছে শহরবাসী। হালকা পোশাকে ঘর থেকে বের হচ্ছে। বাসায় ফ্যান চলছে পুরোদমে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সচল হয়েছে। প্রকৃতির পরিবর্তনের এই ধারা নাকি অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু কেন? ব্যাখ্যা কী? উত্তর খুঁজতে গিয়ে শীতেরই দোষ দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, এবারের শীতকালটা ছিল যারপরনাই দুর্বল। পুরো সময়টাই আবহাওয়ার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। শীতের প্রকোপ কখন খুব বেড়ে গেছে, কখন আবার উষ্ণতার ভাব। শীতের ব্যাপ্তিও ছিল অনেক কম। গরম তাই দ্রুত এসে ঢুকে পড়েছে। আর যে ভিলেনের কথা শোনা যাচ্ছে তার নাম লা নিনা।
আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নানের ভাষ্য, লা নিনার প্রভাবে সাগরে শীতল অবস্থা তৈরি হয়েছিল। অনেক কমে গিয়েছিল তাপমাত্রা। বাতাসে জলীয়বাষ্পের যোগানও কমে গিয়েছিল। এ কারণে শীতকালে যেটুকু বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, হয়নি। আগেভাগে গরমাগরম অবস্থা শুরু হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এটি। তার মতে, গত বছরের মার্চ-এপ্রিল থেকে সাগরে লা নিনার প্রভাব স্পষ্ট হয়। আগামী জুলাই পর্যন্ত এর প্রভাব বজায় থাকতে পারে। এ সময় অচেনার মতোই আচরণ করবে প্রকৃতি। ১০ মার্চের পর মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একটু কম একটু বেশি এই নিয়মে প্রবাহিত হবে তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে রাতের তাপমাত্রাও বাড়বে বলে আভাস। তাই আর দেরি না করে গরমের প্রস্তুতি নেয়াই ভাল। প্রকৃতির যখন যে খেলা সে খেলার অংশ না হয়ে উপায় কী!
কমেন্ট বক্স