মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৩-২০২১ ইং
খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন
সুচিকিৎসায় বিদেশ নিতে চায় পরিবার * আইন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমীকরণ প্রতিবেদন: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আদালত। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার দন্ড বাতিল করে তাঁর স্থায়ী মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তৃতীয় দফা আবেদন করেছে তাঁর পরিবার। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ভাই শামীম এস্কান্দার গত মঙ্গলবার মুক্তির আবেদন করেন। করোনার সময় নানা প্রতিবন্ধকতায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে আবেদনে তাঁর বিদেশে চিকিৎসার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। আবেদনটি মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সময়টা (বেগম জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ) বোধহয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। সে জন্য তারা আবার সময়টা এক্সটেনশন ও কিছু শর্ত শিথিলের আবেদন করেছেন। এটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত এলে আমাদের যথাযোগ্যদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তারা কী আবেদন করেছেন জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে তিনি চিকিৎসা নিতে পারেননি তা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর দণ্ডাদেশ মওকুফ করা যায় কি না সে বিষয়েও তারা বলেছেন।’ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী হলেন মানবতার জননী। তিনি যখনই কাউকে এ রকম অবস্থায় দেখেন তখন তো তিনি সব সময় তার সহযোগিতা করে থাকেন। এ ক্ষেত্রেও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তাঁকে বাসায় থেকে যাতে উন্নত চিকিৎসা পান এবং তাঁর যে অন্যান্য অসুবিধা ছিল, চিকিৎসা যেন আরও সুন্দরভাবে পান, সে জন্যই শর্ত সাপেক্ষে তাঁর বাসায় থাকার অনুমতির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’ আবেদনে বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাওয়ার কোনো বিষয় আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সব সময় তাঁর চিঠিতে লেখা থাকে। রেফারেন্সে থাকে বিদেশে যাওয়ার, সে রকম লেখা থাকে কিন্তু তিনি তো এখনো কারাগারেই রয়েছেন। তাঁর বাড়িটাই এখন কারাগার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ করোনা মহামারির মধ্যে গত বছরের ২৫ মার্চ সাজা স্থগিত করে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষে তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের আবেদন আমলে নিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। প্রথমে ছয় মাসের সাময়িক মুক্তির পর সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। সেই থেকে ১১ মাসের বেশি সময় ধরে গুলশানে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন বেগম খালেদা জিয়া। চলতি মাসের ২৫ তারিখ শেষ হচ্ছে সেই মেয়াদও। এদিকে সরকার খালেদা জিয়ার স্বাভাবিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে করোনা টিকা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী, বিএনপি কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপাসরন এখনো অসুস্থ। আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হওয়া দরকার। সরকার তাঁর চিকিৎসা করার সুযোগ দিচ্ছে না। স্বাভাবিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর করোনার টিকা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ পেছাল গ্যাটকো মামলার শুনানি: গতকাল গ্যাটকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। পরে ঢাকার বিশেষ জজ-৩-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক নজরুল ইসলাম আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চত করেছেন। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৩ মে তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদা খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী