মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

উচ্চশিক্ষায় বাংলার চর্চা কমছেই

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০২-২০২১ ইং
উচ্চশিক্ষায় বাংলার চর্চা কমছেই
সমীকরণ প্রতিবেদন: মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করতে ১৯৫২ সালে দুর্বার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ। যে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য এত ত্যাগ-তিতিক্ষা, উচ্চশিক্ষায় সেই মাতৃভাষার চর্চা দিন দিন কমছে। বিশেষ করে বাংলা তথ্যসূত্র বই পাওয়া যায় না বললেই চলে। উচ্চশিক্ষার মূল কাজ গবেষণা হলেও বাংলা তথ্যসূত্র বইয়ের অভাবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই গবেষণায় আগ্রহী হন না। এতে আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে না। দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পড়ালেখা করে বাংলা মাধ্যমে। অথচ এই শিক্ষার্থীরাই যখন উচ্চশিক্ষায় আসেন তখন বাংলা তথ্যসূত্র বইয়ের চরম সংকটে পড়েন। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইংরেজি তথ্যসূত্র বইয়ের দারস্থ হতে হয়। এতে অনেকেই প্রথম দিকে ঠিকমতো তাল মেলাতে পারেন না। জানা যায়, দেশে এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৯ আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৭। বেশির ভাগই যেহেতু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নতুন বিষয়, ফলে সেখানে বাংলার চর্চা খুবই কম। আবার ইংরেজিভীতির কারণে অনেকেই ধার করা গবেষণাপত্র সামান্য পরিবর্তন করে নিজের বলে চালিয়ে দেন। ফলে বাংলাদেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ন করলেও স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে গবেষণা সীমাবদ্ধ থাকছে। দেশের সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো কিছু বিষয়ে সামান্য হলেও বাংলা তথ্যসূত্র বই পাওয়া যায়। তবে মেডিক্যাল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুরোপুরিই ইংরেজি তথ্যসূত্র বইয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। আর সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নতুন বিষয়ের শিক্ষার্থীদের কাছেও ইংরেজি তথ্যসূত্র বইয়ের বিকল্প তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় বাংলার চর্চা বাড়াতে হলে প্রয়োজনীয় বই দরকার। মৌলিক বইয়ের পাশাপাশি অনেক বই অনুবাদ করতে হবে। চীন, জাপান, কোরিয়া এই কাজগুলো করেছে। আমাদের তা করতে হবে। এ খাতে সরকারকে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে।’ বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিবিএ, এমবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবটিক, সমুদ্রবিজ্ঞান, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইনিংসহ বেশ কিছু বিষয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের পুরনো কিছু বিষয়ে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় লেখার সুযোগ রয়েছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবই করতে হয় ইংরেজিতে। সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ইউজিসি ফুল কমিশনের সিদ্ধান্তে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ এবং ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামের দুটি বিষয় যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউজিসির অনুরোধে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস রচনা করেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। আর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পাদনা করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর দে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমপক্ষে দুই ক্রেডিট যাতে এই বিষয় দুটি পড়ানো হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশনাও জারি করে ইউজিসি, কিন্তু বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই তা মানছে না।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী