কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের মারধর, ভোট কারচুপিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে আলমডাঙ্গা ও জীবননগর পৌরসভা নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। গতকাল রোববার ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর সকাল সাড়ে ৯টায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জীবননগর পৌর মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবীর। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মীর মহিউদ্দিনও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ধানের শীষের দুই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে জীবননগর পৌর মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবীর বলেন, ‘জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চরম অনিয়ম চলছে। ভোট গ্রহণের কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে থেকে বের করে দেয়। আমাদের নেতা-কর্মীদেরও ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নৌকার ভোটার ছাড়া আর কোনো ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার রাতে জীবননগর পৌর শহরজুড়ে আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে মাইকিং করে নৌকার ভোটার ছাড়া অন্য কাউকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য ভয়-ভীতি দেখায়। প্রশাসনকে বলা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং প্রকাশ্য জনসম্মুখে নৌকায় সিল মেরে নিচ্ছে তারা।’

তবে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন বলেন, ‘সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি কোথাও কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। বিএনপি প্রার্থী যে অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন, আমাদের কাছে এমন কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি তিনি। তাছাড়া ভোট কেন্দ্রে বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্ট দেখতে পাইনি। ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে এবং ভোটাররাও অনেক আনন্দের সঙ্গে ভোট প্রদান করছেন।’
এদিকে, আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মীর মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভোট শুরুর পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরে আমাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে কেন্দ্র দখল করে। সাধারণ মানুষকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমরা প্রহসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম এবং ভোট বর্জন করলাম।’