মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ : সরকার পতন আন্দোলনের ডাক বিএনপির

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০২-২০২১ ইং
উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ : সরকার পতন আন্দোলনের ডাক বিএনপির
ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধা, বেধড়ক লাঠিপেটায় ১১৯ জন আহত, আটক ২১ সমীকরণ প্রতিবেদন: করোনা মহামারি যখন ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে তখন হুট করেই সক্রিয় হয়েছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। প্রকৃতিতে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন তারা। দেশীয় ও বিদেশি উসকানি, প্রতিবেশী দেশে অস্থিরতা, বিএনপির নয়া কর্মসূচি ও ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার প্রস্তুতি এবং সরকারি দলের মাঠ দখলে রাখার তৎপরতা এই উত্তাপের উপকরণ। এতে বাড়তি জ্বালানি জুগিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ এবং তাতে পুলিশের লাঠিচার্জ। গত ১২ মাস করোনা মহামারিতে স্থবির ছিল জনজীবন। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সবখানে এর প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। তখন সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল বড় কর্মসূচি। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ওই সময় মানবিকতার নজির স্থাপন করেছে। এর মধ্যে চাপা পড়ে যায় সরকারের মুজিবর্ষের নানা কর্মসূচি ও বিএনপির চলমান আন্দোলন। জীবন বাঁচানোই মুখ্য হয়ে ওঠে সেসময়। তবে এর মাঝে হঠাৎ করেই মাঠে নেমেছে বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দির তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে দলটি। এছাড়া ছয় সিটি করপোরেশনে পরাজিত মেয়রপ্রার্থীদের নেতৃত্বে ছয় মহানগরে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশের ডাক দেন তারা। চট্টগ্রামে ১৩ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে ১৮ ফেব্রুয়ারি, খুলনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি, রাজশাহীতে ১ মার্চ, ঢাকা মহানগর উত্তরে ৩ মার্চ ও দক্ষিণে ৪ মার্চ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সমাবেশ থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য দেয়ার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমানুল্লাহ আমান ও হাবিবুন্নবী খান সোহেলসহ কিছু নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে চলে যান। বাকি শত শত নেতাকর্মীর উপর পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করে। নেতাকর্মীরা তখন দিগি¦দিক দৌড়াদৌড়ি করে যেদিকে পারেন পালিয়ে যান। সমাবেশ যথন শেষ পর্যায়ে কদম ফোয়ার দিক থেকে পুলিশ একযোগে সমাবেশের দিকে আসে। মুহূর্তের মধ্যে সমাবেশের নেতাকর্মীরা তোপখানা রোড, জাতীয় প্রেসক্লাবের গেইট ডিঙিয়ে পালাতে থাকে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পুরো সমাবেশ পন্ড করে দেয়। নেতাকর্মীদের পুলিশ এলোপাতারি লাঠিপেটা করে। নেতাকর্মীরাও ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে পুলিশের দিকে। এসময় পুলিশের লাঠিপেটায় কমপক্ষে ১১৯ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। লাঠিপেটা করতে করতে পুলিশ এ সময় ২১ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর প্রেসক্লাব এলাকার পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রেসক্লাবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, নেতাকর্মীদের গুরুতর আহত ও গ্রেফতার করার ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন ১১৯ জনের অধিক নেতাকর্মী। পুলিশ গ্রেফতার করেছে ২১ জনের অধিক নেতাকর্মীকে। বিকেল সাড়ে চারটায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি হানিফ, ঢাকা মহানগর উত্তর সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সরদার নুরুজ্জামান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল উত্তর নেতা সাজ্জাদ হোসেন রুবেল। ``দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ বিএনপির সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় সিনিয়র নেতাসহ অনেকে আহত হয়েছেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের বর্বর হামলার তিনি তীব্র নিন্দা জানান। এর আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিল করার এখতিয়ার কারো নেই। তিনি ‘সরকার হটানোর আন্দোলনে’ সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ড. মোশাররফ বলেন, জিয়াউর রহমানই এদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছে। কার খেতাব আপনারা বাতিল করতে চান। এই জিয়াউর রহমান এদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেক্টার কমান্ডার, এই জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম ফোর্স ‘জেড’ ফোর্সের কমান্ডার। এ জিয়াউর রহমানের অর্জিত খেতাব বাতিলের অধিকার আপনাদের নেই, এই খেতাব বাতিলের অধিকার কারো নেই। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশটা ভাষণে স্বাধীন হয়নি, দেশটা স্বাধীন হয়েছে যুদ্ধে। সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, সেই যুদ্ধের অপর নাম জিয়াউর রহমান। যুদ্ধ মানে জিয়া, গণতন্ত্র মানে জিয়া, দেশপ্রেম মানে জিয়া, সততা মানে জিয়া, আধুনিক বাংলাদেশ মানে জিয়া, স্বনির্ভর বাংলাদেশ মানে জিয়া, বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশীল জাতির নাম জিয়া। জিয়াই বাংলাদেশি জাতি এক কাতারে লেখা। কোনোটাকে কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। জিয়ার খেতাব নিয়ে আমরা ব্যবসা করি না, আমরা গর্ববোধ করি, আমরা উৎসাহিত হই। আমি সকলকে বলি ও খেতাব নিয়ে টানাটানি করুক, সবাই মিলে আমরা ওর গদিটা ধরে টান দেই। ওখান থেকে নামিয়ে নিতে পারলে সব হিসাব-নিকাশ একদিনে চুকে যাবে। মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সভাপতি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার ও উত্তরে আবদুল আলীম নকীর পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, মহানগর বিএনপির মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, ছাত্র দলের ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জন, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, শামীমুর রহমান শামীম, আমিরুজ্জামান শিমুল, আকরামুল হাসান, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, এসএম জাহানঙ্গীর, ইউনুস মৃধা, নবী উল্লাহ নবী, হেলেন জেরিন খান, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, আবদুল কালাম আজাদ, হাসান জাফির তুহিন, আব্দুর রহিম. লিয়াকত আলী, শাহরিন ইসলাম শায়লা, আরিফুর রহমান মোল্লা, জাকির হোসেন রোকনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী