শেষ হলো আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা : কাল ভোট গ্রহণ
- আপলোড তারিখঃ
১৩-০২-২০২১
ইং
আলমডাঙ্গা ও জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন : সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গা ও জীবননগর পৌরসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। নির্বাচনের সকল প্রকার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শেষ করেছে জেলা নির্বাচন অফিস, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। শেষ দিনে প্রার্থীরা মাঠে ছিলেন সরব। আখের গোছাতে প্রত্যেক প্রার্থীই ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শেষ সময়টুকু কাজে লাগাতে দেখে গেছে প্রত্যেক প্রার্থীকেই। কোথাও কোথাও দেখা গেছে, ঝটিকা মিছিল, আবার কোথাও কোথাও ছোট ছোট আলোচনা সভা।
এদিকে, পৌর নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোট গ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না। ওই সময়ে কোনো আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবে না। ভোটার বা নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্বরত কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবে না কেউ। কেউ এ আইন ভঙ্গ করলে ন্যূনতম ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও, পৌরসভা নির্বাচনের আইন অনুযায়ী ভোট গ্রহণের আগের দিন দিবাগত রাত ১২টা থেকে নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। অর্থাৎ আজ শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে পৌর এলাকার মধ্যে যানবাহন চলাচল করবে না। এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকার।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার ও আলমডাঙ্গা পৌর নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ বলেন, ‘আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবে না।’
এদিকে, জীবননগর পৌরসভা নির্বাচনে ৩ জন মেয়র প্রার্থী, ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৫৪ জন সাধারণ কাউন্সিলরসহ মোট ৬৬ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শাজাহান ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খোকন মিয়া মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র হাসান কাদির গনু মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব মীর মহিউদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলী। নির্বাচনে ৩ জন মেয়র প্রার্থী, ১২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৩৬ জন সাধারণ কাউন্সিলরসহ মোট ৫১ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন।
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর:
১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলে গঠিত সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ২৩৫ জন। এ ওয়ার্ডে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে কল্পনা খাতুন (চশমা), রুমা খাতুন (জবা ফুল) ও শিপ্রা বিশ^াস (আনারস) প্রতীক পেয়েছেন। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলে গঠিত সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৮৯৮ জন। এ ওয়ার্ডে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে রাবেয়া খাতুন (আনারস), রেখা খাতুন (জবা ফুল), সুফিয়া খাতুন (চশমা) ও আয়েশা সিদ্দিকা (বলপেন) প্রতীক পেয়েছেন। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড মিলে গঠিত সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ৬ জন। এ ওয়ার্ডে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে নুরজাহান খাতুন (টেলিফোন), রীতা খাতুন (জবা ফুল), রসিদা খাতুন (দ্বিতল বাস), আরজিনা খাতুন (আনারস) ও মনোয়ারা খাতুন (চশমা) প্রতীক পেয়েছেন।
সাধারণ কাউন্সিলর:
১ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৮৩ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। এদের মধ্যে আলাল উদ্দিন (পানির বোতল), মাসুদ রানা তুহিন (উটপাখি), শরীফুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প), নাহিদ হাসান তমাল (পাঞ্জাবি) ও মিকাইল হোসেন (ডালিম) প্রতীক পেয়েছেন।
২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৫ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন প্রার্থী। এদের মধ্যে কাজী আলী আজগর সাচ্চুর (উটপাখি) ও খন্দকার মজিবুল ইসলাম (পানির বোতল) প্রতীক পেয়েছেন।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭১৭ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। এদের মধ্যে জহুরুল ইসলাম স্বপন (টেবিল ল্যাম্প), দীনেশ কুমার বিশ^াস (উটপাখি) ও নওশের আলী (পানির বোতল) প্রতীক পেয়েছেন।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩৪৪ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নয়জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সদর উদ্দিন ভোলা (ডালিম), শাহীন রেজা (টেবিল ল্যাম্প), আকতারুজ্জামান (পাঞ্জাবি), ইলিয়াস হোসেন (স্ক্রু ড্রাইভার), আলম হোসেন (উটপাখি), কাজী হাবিবুর রহমান (ফাইল কেবিনেট), পরিমল কুমার ঘোষ কালু (পানির বোতল), বিমল কুমার বিশ^াস (ব্রিজ) ও জয়নাল আবেদীন (ব্লাকবোর্ড) প্রতীক পেয়েছেন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩১৭ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। এদের মধ্যে আব্দুল গাফফার (উটপাখি), সিরাজুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প), শহিদুল ইসলাম (পানির বোতল) ও মশিউর রহমান (ডালিম) প্রতীক পেয়েছেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ২৩৭ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। এদের মধ্যে রেজাউল হক তবা (উটপাখি), ডালিম হোসেন (ডালিম), আবুল কাশেম (টেবিল ল্যাম্প) ও লালন আলী (পানির বোতল) প্রতীক পেয়েছেন।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬০২ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারচন প্রার্থী। এদের মধ্যে ফারুক হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), বাপ্পি (উটপাখি), শামীম আশরাফ (পানির বোতল) ও আসাদুল হক (ডালিম) প্রতীক পেয়েছেন।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১০৪ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। এদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম (উটপাখি), দোলায়ার মোল্লা (ডালিম) ও আশরাফুল হোসেন (পানির বোতল) প্রতীক পেয়েছেন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩ শ জন। এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন প্রার্থী। এদের মধ্যে মামুন অর রশিদ হাসান (টেবিল ল্যাম্প) ও সাইফুল মুন্সি (উটপাখি) প্রতীক পেয়েছেন।
নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ১৩৯ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৫৫৮ জন ও পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৫৮১ জন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কমেন্ট বক্স