হেলপারের চালানো ট্রাকের ধাক্কায় চারজন আহত
- আপলোড তারিখঃ
১৩-০২-২০২১
ইং
শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কালীগঞ্জে আবারও সড়ক দুর্ঘটনা
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):
লাশের মিছিলের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সড়কে আবারও ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এ দফায় সাত-সকালে হেলপারের চালানো ট্রাকে গুড়িয়ে দিলো চায়ের স্টল। গুরুতর আহত হয়েছেন এ স্টলে বসে থাকা চারজন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ শহরের হক চিড়া মিলের সামনে। আহতরা হলেন- মধুগঞ্জ বাজারের মুশফিকুর রহমান টুটুল (৪৮), উপজেলার দয়াপুর গ্রামের ফারুক হোসেন (৪৪), দোকান মালিক দামোদারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪২) ও তালেশ্বর গ্রামের সাবজাল হোসেন (৫২)। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে আহতদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান টুটুল ও সাবজাল হোসেনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ড. মামুনুর রশিদ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি খালি ট্রাক (ঝিনাইদহ-ট-১১-১৬০৮) মহাসড়ক ধরে মেইন বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসছিল। সামনে চলমান একটি ইঞ্জিনচালিত নসিমন গাড়ির পিছনে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকনের ভেতর সজোরে অঘাত করে। এতে দোকানে বসে থাকা দোকান মালিকসহ চারজন গুরুতর আহত হন। প্রত্যাক্ষদর্শীরা আরও জানান, ওই ট্রাকটির হেলপার ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। গতি বেশি থাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগেও হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে ওই স্থানসহ কালীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই, কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাফুজুর রহমান জানান, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র দুই দিন আগে বেপরোয়া গতির কারণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার ঘটল এমন দুর্ঘটনা।
সংসারের সম্বল দোকান, রোজগারকারী সবই শেষ:
এদিকে ট্রাকটির হেলপারের সৃষ্ট এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে হতদরিদ্র দোকান মালিক আব্দুর রাজ্জাকও রয়েছেন। পাঁচ সদস্যের সংসারের তিনিই প্রধান রোজগারকারী। ধার-দেনার মাধ্যমে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচে চা ও খাবারের দোকান দিয়ে নানা অভাবের মধ্যে দিন কাটে তাঁদের। আহত আব্দুর রাজ্জাক ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের দামোদরপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আয়েশা খাতুন জানান, এই দোকানই ছিল তাঁদের সংসারের আয়ের উৎস। শহরের আব্দুর রহমানের বাসায় তারা ভাড়ায় বসবাস করেন। এদিকে রুবাইয়া, নুসরাত ও ইসরাত নামের ছোট ছোট ৩টি কন্যাসন্তান রয়েছে তাদের। বড় মেয়ে রুবাইয়া ৩য় শ্রেণিতে, মেজো মেয়ে নুসরাত শিশু শ্রেণিতে এবং ইসরাতের বয়স মাত্র ১ বছর ২ মাস। সারা দিন দোকানে যা আয় হয়, তা দিয়েই অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটে তাঁদের। ট্রাকটি সরাসরি দোকানে আঘাত করে দোকানসহ যাবতীয় মালামাল মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। বসে থাকা অন্যদের মতো তাঁর স্বামী আব্দুর রাজ্জাকেরও মাথায় কোমরের নিচের অংশে চরম আঘাত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, আঘাতটা বেশ জোরালো। চেতন ফিরলে পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। এখন কোথায় পাবেন স্বামীর সুস্থতার খরচ, আর কী করেই বা চলবে সংসার, এ কথা বলছেন আর অঝোরে কাঁদছেন স্ত্রী আয়েশা। পাশে বসে বাবার জন্য সমানে চোখের পানি ফেলছেন অবুঝ রুবাইয়া ও নুসরাত। আর ছোট্ট ইসরাত সবার দিকে ফ্যালফেলিয়ে চেয়ে থাকছে।
কমেন্ট বক্স