ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা
- আপলোড তারিখঃ
১১-০২-২০২১
ইং
আলমডাঙ্গা পৌর নির্বাচন : ব্যানার-ফেস্টুন আর প্রচার-প্রচারণায় সরব শহর
নাহিদ হাসান:
প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে আসন্ন আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন। পৌরসভার রাস্তাঘাট, অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লা এখন মিছিল, স্লোগানমুখর। ব্যানার- ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাঁদের নির্বাচনী এলাকা। ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যিনি আলমডাঙ্গা পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভাসহ পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে কাজ করবেন, এমনই সৎ ব্যক্তিকেই ভোট দিবেন তাঁরা।
আলমডাঙ্গায় চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিনজন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান মেয়র হাসান কাদির গনু মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব মীর মহিউদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলী।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান কাদের গনু মিয়া বলেন, আমি আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক তিন তিনবারের মেয়র। আমি আশাবাদী মানুষ আমাকে তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। এবং তাঁদের পাশে থাকার সুযোগ করে দেবে। কারণ বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সমগ্র দেশে দৃশ্যমান। সমগ্র দেশের উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভায়ও উন্নয়নের ছোঁয়া দৃশ্যমান। আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌর এলাকার উন্নয়নের চেষ্টা করেছি, পৌর এলাকার প্রায় সব রাস্তার কাজ শেষের পথে। আমি পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছি। রাস্তাঘাটে রোড বাতির ব্যবস্থা করেছি। করোনাকালীন সময়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে সরকারি সহায়তাসহ নিজ উদ্যোগে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পৌরসভার আইসিটি বিষয়ক উন্নয়ন করেছি। তাই আমি আশাবাদী মানুষ আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। আমি যদি আবার জয়যুক্ত হই তবে, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে আরো উন্নয়ন করবো।
নির্বাচন বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মীর মহিউদ্দিন বলেন, পূর্বে আমি মেয়র থাকাকালে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকার। আমি আমার কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছি। তাই আমি আশাবাদী মানুষ এবারের ভোটে আমাকেই তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে, ইনশাআল্লাহ।
অপরদিকে, পৌর নির্বাচনের মোবাইল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলী বলেন, আমি সাধারণ মানুষের নেতা ও একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে আলমডাঙ্গা শহরে তেমন কোনো উন্নয়ন নেই। পূর্বে আমি যখন মেয়র ছিলাম, তখন আলমডাঙ্গার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার সময়ে আলমডাঙ্গা শহরের রোড বাতি জ্বালানো হয়েছে। আমি আলমডাঙ্গা শহরের বৃহত্তম কাঁচাবাজারে শেড নির্মাণ করেছি। আমি মাংস বাজারের ব্যবসায়ীদের বসার শেড নির্মাণ করেছি। আমি আলমডাঙ্গা শহরের টার্মিনাল গড়ার জমি ক্রয় থেকে শুরু করে টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছি। আমি পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডের রাস্তা পাকা করেছি। এছাড়াও আমি তাঁতিবাজার শেড, চাউলপট্টি শেড, মাছের বাজারের সেড নির্মাণসহ তাঁতীবাজারে একটি গণশৌচাগার নির্মাণ ও আলমডাঙ্গা শহরের বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ করেছি। এছাড়াও আমি কুমার নদীতে বেশ কয়েকটি স্নানঘাট নির্মাণের কাজ করেছি। তাই আমি আশাবাদী আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার সাধারণ অবহেলিত মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে আমার মোবাইল মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেবেন।
আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোটার ২৬ হাজার ১শ ৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৫শ ৮১জনও মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৫শ ৫৮জন। মোট ১৫টি ভোট কেন্দ্রে ৭৯টি ভোটকক্ষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কমেন্ট বক্স