প্রথম ক্রেতা হলেন মানবিক ডিসি নজরুল ইসলাম
- আপলোড তারিখঃ
১১-০২-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জিয়াউর পেলো ঘর ও দোকান
আকিমুল ইসলাম, তিতুদহ:
চুয়াডাঙ্গার বড়শলুয়ার অন্ধ ভিক্ষুক হাফেজ জিয়াউরের বসতঘর হস্তান্তর ও দোকানের উদ্বোধন করলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ফিতা কেটে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন তিনি।
জানা গেছে, গত কয়েকমাস পূর্বে সমাজকর্মী শামীম হোসেন মিজি ও সাংবাদিক আরিফ হাসান অন্ধ ভিক্ষুক জিয়াউরকে হিজলগাড়ীতে ভিক্ষা করতে দেখেন। তাঁরা ভিক্ষুক জিয়াউরকে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে এবং কিছু টাকার বাদাম ও ডিম কিনে দিয়ে ব্যবসায়ের কথা বলে। এতে জিয়াউর রাজি হয়। এবং মিজি ও আরিফের কিনে দেওয়া মালামালগুলো কিছুক্ষণের মধ্যে বিক্রি করে দেন। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর জিয়াউরকে স্বাবলম্বী করার জন্য একটি দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। তবে জিয়াউরের দৈনিক রোজগারের ব্যবস্থা হলেও ছিল না কোনো থাকার ঘর। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা একটি ঘর তৈরী করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে চুয়াডাঙ্গায় করোনাকালীন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য সচিব ঘরটি চুয়াডাঙ্গায় উপহার দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, ঘরটি জিয়াউর রহমানকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
গতকাল ঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেত্বত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালে দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিক নির্দেশনায় এ দেশ বহির্বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্থান পেয়েছে। শেখ হাসিনার দক্ষ পরিচালনায় বাংলাদেশ দ্রুত একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিনত হবে। মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হল বাসস্থান। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়নের ব্যবস্থা শুরু করেছেন। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় অনেক উপকারভোগীরা নতুন ঘর পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গায় পর্যায়ক্রমে আরো ১১ হাজার বাড়ী তৈরি করা হবে। শুধু সরকারী নয় ব্যক্তি উদ্যেগে অনেকে এ সেবায় অংশ নিচ্ছেন। প্রায় ৩২টি ঘর ব্যক্তি উদ্যেগে কাজ শুরু হয়েছে। ভিক্ষুক জিয়াউর রহমানকে ঘর ও স্বনির্ভর করতে পেরে আমি নিজেও অনেক আনন্দিত। সেই সাথে মহতী কাজে যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন তিতুদহ ইউপির প্রশাসক আব্দুল হান্নান, ইউপি সচিব জিয়াউর রহমান, জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি শাহ আলম সনি। দৈনিক সময়ের সমীকরনের হিজলগাড়ী প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফ হাসানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আকছেদ আলি, চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হোসেন মিজি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ভালবাসার বন্ধনের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়নাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আশাবুল হক, বেগমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহম্মেদ, সমাজ সেবক ফারুখ হোসেন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন সহ তিতুদহ ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করেন বড়শলুয়া জামে মসজিদের ইমাম ওসমান গণি।
কমেন্ট বক্স