প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে
- আপলোড তারিখঃ
০৯-০২-২০২১
ইং
জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন : ব্যানার-ফেস্টুন আর প্রচার-প্রচারণায় সরব পুরো শহর
জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ:
প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে আসন্ন জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন। পৌরসভার রাস্তাঘাট, অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লা এখন মিছিল, স্লোগানমুখর। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাঁদের নির্বাচনী এলাকা। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ভোট চাওয়ার সময় প্রার্থীরা পৌরসভায় উন্নয়নমূলক কাজের আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর আর কেউ সে কথা মনে রাখে না। এবারের নির্বাচনে তাই ভোটাররা পৌর পিতা বেছে নেবে ভেবে-চিন্তে। যিনি জীবননগর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভাসহ পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে কাজ করবেন, এমনই সৎ ব্যক্তিকেই ভোট দিবেন তাঁরা।
জীবননগর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সমানভাবে চালাচ্ছেন উঠান বৈঠক ও মাইকিং। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ সাধারণ মানুষকে সেবা করে আসছি। একাধারে তিনবার কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমার প্রথম কাজ হবে পৌরসভায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাটা ও ড্রেন নির্মাণ করা। পাশাপাশি অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে থাকা এবং পৌরবাসীকে সঠিকভাবে সেবা দেওয়া। পৌরবাসীই সবকিছুর মালিক, আমি শুধু তাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে সকলের মতামতে উন্নয়নমূলক কাজ করব। বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, বাসস্ট্যান্ডে উন্নতমানের রাস্তা নির্মাণ, কাঁচা বাজারের উন্নতিসহ মডেল পৌরসভা নির্মাণে কাজ করব। জীবননগর পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করার জন্য পৌরসভার আয় বৃদ্ধিরও উদ্যোগ নেব। ব্যবসায়ীদের এই এলকালায় শিল্প ও কলকারখানা করার বিষয়েও তাগিদ দেব। তা ছাড়া আমি সবসময় প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের মানুষের কথা শুনেছি। দল-মত নির্বিশেষে সকলের পাশে দাঁড়িয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসায় বিভিন্ন সহযোগিতা করেছি। করোনাকালীন সময়েও মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। গরীব-দুঃখী মানুষের দোয়া আছে আমার প্রতি। আমি আশাবাদী, এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষ আমাকে ভোট দিবে।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শাজাহান কবির বলেন, ‘যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, সাধারণ ভোটাররা যদি ঠিকমতো ভোট দিতে পারে, তাহলে আমিই জীবননগর পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হব।’
ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খোকন মিয়া বলেন, ‘যদি ইসলামিক আইন বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে দল-মত নির্বিশেষে ইসলামিক পথে আসতে হবে। নির্বাচনে ভোট দিতে হবে। সুষ্ঠু ভোট হলে ভোটাররা হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
জীবননগর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭৬৭ জন। পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১২৯ এবং মহিলা ভোটার ১০ হাজার ৬৩৮ জন। জীবননগর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ১৯৮ জন। পুরুষ ভোটার ৫৯৫ জন, মহিলা ভোটার ৬০৩ জন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২৯৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ হাজার ১৪৮, মহিলা ভোটার ১ হাজার ১৪৭, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৫৩৯, পুরুষ ভোটার ১ হাজার ২৪২, মহিলা ভোটার ১ হাজার ২৯৭ জন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১৯৩ জন, পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৫৮ জন, মহিলা ভোটার ১ হাজার ১৩৫ জন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৪৬৮ জন, পুরুষ ভোটার ১ হাজার ২০৮ ও মহিলা ভোটার ১ হাজার ২৬০ জন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১৮১। পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৩৩ ও মহিলা ভোটার ১ হাজার ১৪৮ জন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৪৭৯। পুরুষ ভোটার ১ হাজার ১৮৫ ও মহিলা ভোটার ১ হাজার ২৯৪। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬২৩। পুরুষ ভোটার ১ হাজার ২৯০ জন, মহিলা ভোটার ১৩৩ জন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭৯১ জন, পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৩৭০ এবং মহিলা ভোটার ১ হাজার ৪২১ জন।
কমেন্ট বক্স