চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন
দ্রুত টিকা সরবরাহের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ দিলেন এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার
সমীকরণ প্রতিবেদক:
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে দেশব্যাপী জাতীয়ভাবে করোনা টিকাদান শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক এই আয়োজনের প্রথম দিনে সরকারের মন্ত্রী, আমলা, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সর্বস্তরের ৩১ হাজার ১৬০ জন মানুষ টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৮৫৭ ও নারী ৭ হাজার ৩০৩ জন। ২১ জনের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন, জ্বর ও টিকা নেওয়ার স্থানে লাল হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা গেছে। ঢাকা বিভাগে মোট ৯ হাজার ৩১৪, খুলনায় ৩ হাজার ২৩৩, ময়মনসিংহে ১ হাজার ৬৯৩, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৪৪৩, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৭৫৭, রংপুরে ২ হাজার ৯১২, বরিশালে ১ হাজার ৪১২, সিলেটে ২ হাজার ৩৯৬ জনসহ মোট ৩১ হাজার ১৬০ প্রথম দিন টিকা নিয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজে টিকা নেওয়ার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি 'ভ্যাকসিন ফর ভিক্টরি, ভ্যাকসিন নিলে জয়, ভ্যাকসিনে নেই ভয়' বলে মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, জন-প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বন ও পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একসঙ্গে টিকা নেন। তারা প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন। তবে কারও শরীরেই কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানান।
এদিকে, সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার পৃথক আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসব জেলার সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
চুয়াডাঙ্গা:

সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের টিকাদানের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। প্রথম দিনে মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ও সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসানসহ জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এ টিকা নিয়েছেন।
সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, ‘কোভিড মহামারিতে সারাবিশ্ব যখন স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ কিন্তু স্থবির হয়নি। বাংলাদেশ কিন্তু অগ্রযাত্রায় সমানতালে চলেছিল। মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ‘একটা বিশেষ অবস্থানে’ চলে এসেছে, যার ফল দেশবাসী ‘দেখতে পাচ্ছে’। প্রথম অবস্থায় আমরা এ রোগের কিছুই জানতাম না। সবার ভেতরে কিন্তু একটা আতঙ্ক ছিল, আজকে কিন্তু সেই জায়গাটা নেই।’ এসময় তিনি করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম ভারতকে ধন্যবাদ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘টিকা নিতে আমাদের আগ্রহী হতে হবে। সরকার যখন দিচ্ছে, তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। কোনো প্রকার গুজবে কান দেওয়া যাবে না।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত ২০ লাখ টিকা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। করোনাভাইরাস নিয়ে আর ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিদ্রুতই দেশের সকলেই টিকা পাবেন।’

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৬টি কেন্দ্রে (১) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, (২) চুয়াডাঙ্গা পুলিশ হাসপাতাল, (৩) চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি হাসপাতাল, (৪) হারদী (আলমডাঙ্গা) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, (৫) চিৎলা (দামুড়হুদা) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, (৬) জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিন (টিকা) প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোট ১৯৩ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রে ৫৮ জন, পুলিশ হাসপাতালে ৪৫ জন ও বিজিবি হাসপাতালে ৪০ জন। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হবে। সিভিল সার্জনের পর টিকা নেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হিরক চৌধুরী ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ। পরে একে একে চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, ৫৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা এ টিকা গ্রহণ করেন। পুলিশ হাসপাতালে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। এরপর সেখানেও পুলিশের অন্য সদস্যরা টিকা গ্রহণ করেন। সদর হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স রোজিনা খাতুন টিকা পুশ করেন। টিকা নেওয়ার পর প্রত্যেককে সেখানে আধাঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, বিএমএ’র সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান, সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন, কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডা. আবুল হোসেন, গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আকলিমা খাতুন, শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলনসহ স্বাস্থ্যবিভাগ ও জেলা পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত টিকা নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় কেউ অসুস্থ হয়েছেন, এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি।
আলমডাঙ্গা:

আলমডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলমডাঙ্গার হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন প্রথম টিকা গ্রহণ করেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, সাংবাদিক এমদাদ হোসেন, ফাহিম ফয়সালসহ প্রথম দিন শেষে আলমডাঙ্গায় টিকা গ্রহণ করেছেন ২১ জন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিটন আলী, ডা. লিয়াকত আলী, ডা. সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডা. রাকিব শাহরিয়ার, ডা. সেলিম রেজা, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. আবুল কালাম আজাদ, ডা. রাসেদুজ্জামান পলাশ, ডা. শারমিন আক্তার, সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা খাতুন, আনোয়ারা খাতুন, সুমিতা পারভীন, আশমত আরা, আমাতূল বারী, আলেয়া পারভীন প্রমুখ।
দামুড়হুদা:

দামুড়হুদায় করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় চিৎলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬েক্স টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে টিকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘টিকা নেওয়ার ফলে দেশের পরিস্থিতি আবারও স্বাভাবিক হবে, আবারও মানুষের কাজের গতি ফিরে পাবে। টিকা কে ভয় না পেয়ে নিজে টিকা নিন, অন্যকেও উৎসাহ দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাফুজুর রহমান মনজু, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ স¤পাদক হযরত আলীসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
জীবননগর:

জীবননগরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহমুদা খাতুন প্রথমে টিকা গ্রহণ করেন। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম মুনিম লিংকনের সভাপতিত্বে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিনা আক্তার, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী প্রমুখ। জীবননগরে টিকাদানের প্রথম দিনে রেজিস্ট্রেশনকৃত ২৩ জনকে টিকা প্রদান করা হয়। পর্যায়ক্রমে জীবননগর উপজেলায় ৩ হাজার ব্যক্তিকে এই টিকা প্রদান করা হবে।
মেহেরপুর:

মেহেরপুরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের টিকা গ্রহণের মধ্যদিয়ে মেহেরপুরে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জুমের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলি ও সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন। টিকাদান কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। মেহেরপুর সিভিল সার্জেন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, শনিবার পর্যন্ত মেহেরপুরে ১২শ এর অধিক মানুষ অনলাইনে টিকা প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে। টিকা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা প্রদান করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ:

ঝিনাইদহে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। ঝিনাইদহে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি। পরে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা টিকা গ্রহণ করেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, টিকাদান কর্মসূচীর প্রথম দিনে ১০৪ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির পূর্বে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগমসহ আরও অনেকে।
কালীগঞ্জ:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রথম করোনা টিকা নিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি টিকা গ্রহন করে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামিমা শিরিন লুবনা, হাসপাতাল স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য, মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল ও কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জামির হোসেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামিমা শিরিন লুবনা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের শরীরে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। করোনা টিকা প্রদানের প্রথম দিনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কালীগঞ্জের ১৫১ জন এই টিকা গ্রহন করেছেন। ইতোমধ্যে আমাদের হাতে ৯’শ ৫৬ ভায়াল করোনা ভ্যাকসিন এসে পৌঁচেছে। হাসপাতালের অভিজ্ঞ সিনিয়র স্টাফ নার্সদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। টিকা গ্রহণের পর গ্রহণকারীরা ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালেই অবস্থান করবেন। করোনা ভ্যাকসিন প্রদান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার দাস, ডা. অরুন কুমার দাস, ডা. সুলতান আহম্মেদ, ডা. খুরশিদ নাজনিন, ডা. সম্পা মোদক ও গনমাধ্যম কর্মীসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল চিকিৎসক কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।