প্রতিবাদ করায় ইউএনও, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের নামে মামলা
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০২-২০২১
ইং
রায়পুর হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অভিযুক্ত শিক্ষককে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
জীবননগর অফিস/প্রতিবেদক, হাসাদাহ:
জীবননগর রায়পুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ১২ লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন নাহারের বিরুদ্ধে। নিজের দুর্নীতি ও অপরাধ ঢাকতে তিনি মামলা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতিসহ অভিভাবক সদস্যদের বিরুদ্ধে। এদিকে, মামলাবাজ শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের দুর্র্নীতির প্রতিবাদ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, ‘রায়পুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বিগত সময়ে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হত। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে দেশের বিভিন্ন নামি-দামি স্থানে চাকরি করছে। নাহার মাস্টার এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান একেবারে শূন্যের কোটায় পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়মূলক কাজের ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের সামনে ৪২টি দোকানঘর বরাদ্দ দিয়ে সেখান থেকে অগ্রীম ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও দোকানের ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।’
রায়পুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র তৌফিক বলেন, ‘আমাদের স্কুলটি খুব ভালোভাবে চলত এবং এখানে অনেক মানসম্মত লেখাপড়া হত। বর্তমান শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে লেখাপড়ার মান একেবারে নিম্নমানের হয়ে গেছে। স্কুলে লেখাপড়ার চেয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেশি।’
অভিভাবক আব্দুল মমিন খান বলেন, ‘এই বিদ্যালয়টি এক সময় ছিল জেলার অন্যতম বিদ্যালয়। যার জন্য এখানে আমার ছেলেকে লেখাপড়ার জন্য ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু যেখানে স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলের টাকা আত্মসাৎ করে, আর প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে, সেখানে কীভাবে লেখাপড়া হবে, এটা আমার জানা নেই। তাই স্কুলটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হলে দুর্নীতিবাজ শিক্ষককে এখান থেকে অপসারণ করতে হবে।’
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাহারেফ হোসেন বলেন, ‘আমার আগে আনোয়ার হোসেন এই স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্কুলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার নামে এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সেই থেকে এই বিদ্যালয়টি নানা সমস্যার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়টির উন্নয়নের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের নিকট বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি আমাকে হিসাব না দিয়ে উল্টো কোর্টে আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। শুধু আমার নামেই নয়, এই বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি শিক্ষকের নামে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। যাতে তাঁর এই দুর্নীতির কেউ প্রতিবাদ না করতে পারে, সে জন্য তিনি মামলা দিয়েছেন।’
রায়পুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন নাহার বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমি বিদ্যালয়ের কোনো টাকা আত্মসাত করিনি। আমার নামে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সব মিথ্যা। সমাজে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।’
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মুনিম লিংকন বলেন, ‘রায়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছিল, আমি বিদ্যালয়টির সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব নিলে আমার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি যাতে সঠিক ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে আমি সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কমেন্ট বক্স