মিয়ানমারে আবারও সেনা অভ্যুত্থান, নিন্দিত নেত্রী সূ চি বন্দী
- আপলোড তারিখঃ
০২-০২-২০২১
ইং
প্রতিবাদের ডাক সু চির, সারা দেশ কার্যত অচল
সমীকরণ প্রতিবেদন:
আবারও অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী। গতকাল সোমবার ভোরে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্টসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়ে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। সেনাবাহিনীর টেলিভিশন মিয়াওয়াদিতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের সংবিধান অনুযায়ী আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা শেষে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে সেনাবাহিনী। রাজধানী নেপিদোসহ বড় শহর ইয়াঙ্গুনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পার্লামেন্ট ঘিরে রেখেছে সেনারা। এদিকে অং সান সু চি জনগণকে সেনা অভ্যুত্থান মেনে না নিয়ে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারে ফের সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা। খবর:বিবিসি, সিএনএন ও আলজাজিরার।
কেন এখন অভ্যুত্থান?
গত ৮ নভেম্বর সর্বশেষ মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সু চির এনএলডি পার্টি ৮৩ শতাংশ আসন পেয়েছে। অন্যদিকে সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি ৪৭৬টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩৩টি আসন পেয়েছে। নির্বাচনের ফলকে সু চির বেসামরিক সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। গতকাল সোমবার এনএলডি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল জাও মিন তুন নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনী ৮৬ লাখ ভোট জালিয়াতির তথ্য পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সেনা অভ্যুত্থান হতে পারে। নির্বাচন কমিশন ভোট কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করার পর সেনাবাহিনী আবারও ক্ষমতা দখল করবে এমন গুঞ্জন চলছিল। যদিও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনী জানায়, তারা সংবিধান মেনে চলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে। পার্লামেন্ট অধিবেশনের কয়েক ঘণ্টা আগে এনএলডি নেত্রী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডি দল ও সরকারের বেশ জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করে সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, ইউনিয়ন ও জাতীয় সংহতির বিভেদ ঘটায় ও সার্বভৌম ক্ষমতা কমিয়ে আনে, এমন গুরুতর পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান ক্ষমতা নিতে পারবেন। তবে শুধু জরুরি অবস্থা চলাকালীন তিনি ক্ষমতা নিতে পারবেন এবং সেই জরুরি অবস্থা বেসামরিক প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করতে পারবেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট একমাত্র ব্যক্তি যিনি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। তাকেও সু চির সঙ্গে আটক করা হয়। এরপর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়েকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করা হয়। তিনিই জরুরি অবস্থা জারি করেন। সেনাবাহিনী পরিচালিত মিয়াওয়াদি টিভিতে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের শাসন ক্ষমতা সেনাপ্রধান মিন অং লাইংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল। বর্তমানে সেনাপ্রধান লাইংয়ের ওপর ২০১৯ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা ঝুলছে যুক্তরাষ্ট্রের। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজধানী নেপিডো এবং ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সেনা টহল:
রাজধানী নেপিডোতে পার্লামেন্টের সদস্যদের বাসভবনের বাইরে পাহারা দিচ্ছে সেনারা। সাই লিন মিয়াত নামে হাউজের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অধিবেশন চলার সময় আইনপ্রণেতারা যে সরকারি ভবনগুলোতে অবস্থান করেন তার বাইরের প্রবেশ মুখে সামরিক ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ভেতরে যারা রয়েছেন তারা সবাই সুস্থ থাকলেও কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। নেপিডোতে পার্লামেন্টের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। বন্ধ রাস্তায় ব্যারিকেডের পাশাপাশি ভারী সামরিক যান ও অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সেনা সদস্যদের। ইয়াঙ্গুনে সেনা অভ্যুত্থানের সমর্থনে উল্লাস করেছে স্বঘোষিত কিছু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্য। তারা সুয়েডাগন প্যাগোডার বাইরে শহিদদের সমাধিস্থলের কাছে গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। গত তিন দিন ধরে জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণই রয়েছে। এর পালটা কোনো বিক্ষোভ কিংবা অভ্যুত্থানবিরোধী কোনো বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়নি। ইয়াঙ্গুন শহরের আঞ্চলিক পার্লামেন্ট এবং আঞ্চলিক সরকারি অফিসগুলোর দখল নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বেসামরিক কর্মকর্তাদের এসব দপ্তরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দারা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাইরে বের হয়ে খাবার ও শুকনো খাবার কিনতে শুরু করেছেন।
ইন্টারনেট ও সব ধরনের ব্যাংক সাময়িক বন্ধ:
সোমবার সকালে মিয়ানমারের নাগরিকদের ঘুম ভাঙে ইন্টারনেট সংযোগ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে। সেনাবাহিনী চালিত মিয়াওয়াদি চ্যানেল ছাড়া দেশটির সব টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মিয়ানমারের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে দেশটির বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে জানায়, ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকার কারণে ব্যাংকগুলোতে সব ধরনের অর্থনৈতিক সেবা সাময়িক বন্ধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো বন্ধের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নেবে এবং এর পরই কবে থেকে আবার তাদের সেবা চালু হবে সে বিষয়ে জানাবে। সোমবার ইয়াঙ্গুন স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, লেনদেন স্থগিত লিখে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে নেপিডোতে মিয়ানমার সরকার পরিচালিত টেলিকম নেটওয়ার্ক আবার চালু হয়েছে।
জরুরি অবস্থা শেষ হলে নির্বাচন:
গতকাল সামরিক বাহিনীর জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে এবং নিয়মানুযায়ী ভোটার তালিকা তদন্ত এবং পর্যালোচনা করা হবে। জরুরি অবস্থা শেষে একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করবে সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর ফেসবুক পেইজে দেওয়া ঐ বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা প্রকৃত বহু-দলীয় গণতন্ত্র চর্চা করব। যেখানে পূর্ণ ভারসাম্য এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। তবে মিয়ানমারের সুপরিচিত ইতিহাসবিদ এবং লেখক থান্ট মিন্ট-উ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, একটি ভিন্ন ভবিষ্যতের দরজা উন্মুক্ত হয়েছে।
প্রতিবাদের ডাক অং সান সু চির:
গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল এনএলডি তাদের ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সামরিক অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ করার ডাক দিয়েছে। সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি সু চির বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা দেশকে একনায়কতন্ত্রে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। জনগণকে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন এটা মেনে না নেয়। তারা যেন সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। বিবৃতির নিচে সু চির নাম থাকলেও তার কোনো সই নেই। তবে বিবৃতির নিচে এনএলডির চেয়ারম্যান উইন টিনের হাতে লেখা একটি নোট রয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন, এই বিবৃতি সু চির ইচ্ছার প্রতিফলন এবং এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তিনি লেখেন, আমি কসম করে বলছি অং সান সু চি নিজে জনগণের প্রতি এই আহ্বান জানাচ্ছেন।
সু চির বিক্ষোভের ডাকে দেশটির অনেক মানুষ সাড়া দেবেন বলে মনে করেন মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন। জাপানের টোকিওতে ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির সামনে অং সান সু চির পক্ষে বিক্ষোভ করেছে মিয়ানমারের একদল অধিকারকর্মী। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে সেনাদের ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। এর আগে এনএলডির মুখপাত্র মিও নয়েন্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফোনে বলেন, দলীয় নেত্রী সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও দলের অন্য নেতাদের ভোরে তুলে নেওয়া হয়েছে। আমি জনগণকে চটজলদি কিছু না করার জন্য অনুরোধ করছি। আইন মেনে চলতে বলছি। এনএলডির মুখপাত্র মিও নয়েন্ট নিজেও গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আবারও বন্দি সু চি:
মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল অং সানের মেয়ে অং সান সু চি। তার যখন দুই বছর বয়স তখন তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল। সু চি দশকের পর দশক ধরে সামরিক জেনারেলদের চ্যালেঞ্জ করে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন চালিয়েছেন। ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ১৫ বছর বন্দি জীবন কাটিয়েছেন সু চি। ১৯৯১ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১০ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার অনুষ্ঠিত অবাধ নির্বাচনে তার দল এনএলডি বড় ধরনের জয় পায়। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি কারণ তার সন্তানেরা বাইরের দেশের নাগরিক। তার পরও মিয়ানমারের কার্যত সরকারপ্রধান তিনিই ছিলেন। তবে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় তার ভূমিকার কারণে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হন সু চি।
মিয়ানমারে আবারও সেনা শাসন:
সেনাদের ক্ষমতা দখলের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতার পর ১৯৬২ সালে বেসামরিক প্রশাসন বাতিল করেন জেনারেল নি উইন। এরপর টানা ২৬ বছর সামরিক সরকার ক্ষমতায় ছিল। ১৯৮৮ সালে অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন নি উইন। এর কয়েক সপ্তাহ পর সামরিক নেতাদের নতুন একটি দল ক্ষমতায় আসে। ২০১১ সালে জান্তা সরকারের নেতা জেনারেল থান সুয়ে পদত্যাগ করেন। দেশের সংবিধান মেনে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের সমন্বয়ে গঠিত সরকারের কাছে তিনি ক্ষমতা ছাড়েন। এর আগে ২০০৮ সালে মিয়ানমারের সংবিধানে দেশটির সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্ষমতা দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর হাতে স্বরাষ্ট্র, সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়। পার্লামেন্টে নির্ধারিত আসনের এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির সেনাবাহিনী। ২০১১ সালে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার উত্তরণ ঘটে। ২০১২ সালের নির্বাচনে সু চির এনএলডি বিরোধী দল হলেও ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে তারা ক্ষমতায় আসে। গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা দ্বিতীয় বারের মতো সরকার চালানোর সমর্থন পায় সু চির দল এনএলডি।
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের কয়েকটি দেশ তাদের সদস্য মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানকে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে বিবেচনা করছে। জোটের পক্ষ থেকে অথবা সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের সরাসরি কোনো নিন্দা করা হয়নি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দিশের এই জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রুনেই এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জোট আশা করে জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান রেখে সংলাপের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। আসিয়ান চেয়ারম্যানের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আসিয়ান জোটের সদস্য দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এই এলাকার শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আসিয়ানের তিনটি সদস্য দেশ কম্বোডিয়া, ফিলিপিন্স এবং থাইল্যান্ড খোলাখুলি বলেছে, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা তাদের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেছেন, অভ্যুত্থান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে একই মন্তব্য করেছেন। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট দুতের্তের একজন মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং এ নিয়ে আমরা কোনো নাক গলাতে চাইনা, তবে আমরা আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা আশা করে মিয়ানমারে নির্বাচন নিয়ে যে বিরোধ সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষ বসে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে ফেলবে। তবে নিন্দা না করলেও অপেক্ষাকৃত শক্ত ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর।
কমেন্ট বক্স