নেই বিএসটিআইয়ের অনুমোন, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি!
- আপলোড তারিখঃ
০২-০২-২০২১
ইং
পাইকপাড়ায় ভাই ভাই ফুডে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় ভাই ভাই ফুডের (বেকারি) বিরুদ্ধে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানহীন খাদ্যদ্রব্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। শুধু ভেজাল খাদ্যসামগ্রী নয়, এ বেকারির নেই কোনো লাইসেন্স। এসব বেকারির খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে কেক, বিস্কুট, টোস্ট, পাউরুটিসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য। এসব খাদ্যদ্রব্য প্যাকেটজাত করে নিজেদের ইচ্ছামতো বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি আইন অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএসটিআই থেকে সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ আইনের তোয়াক্কা না করেই কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় গড়ে উঠেছে খাদ্যদ্রব্য তৈরির এই প্রতিষ্ঠানটি। এই বেকারির উৎপন্ন খাদ্যপণ্য পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজের সামনে, বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে বিক্রি হচ্ছে। এসব খাদ্যের প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। অনেক জায়গায় পচা-বাসি খাদ্য বিক্রি করা হয়। টেকনিশিয়ান না থাকায় নিজেদের কলা-কৌশলে আটা, ময়দা, ডালডা, সোডা, বিভিন্ন ধরনের রঙ মানব ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে এ বেকারিতে। এমনকি ময়দা গোলা পাত্রে দেখা গেছে মশা-মাছি। ফলে কোমলমতি শিশুরা পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিএসটিআইয়ের দ্বারস্থ না হওয়ায় এসব বেকারির উৎপন্ন খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন না থাকলেও ভাই ভাই বেকারি অ্যান্ড ফুড কোম্পানির তৈরিকৃত পণ্যের প্যাকেটে ব্যবহার করছে বিএসটিআইয়ের সিল। আছে শুধু ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেকারির মালিক ইমতিয়াজ আহমেদের ছেলে লিটন আহমেদ বলেন, উপজেলার অন্যসব বেকারি যেভাবে চলছে, তারাও সেভাবে চালাচ্ছেন বেকারিটি। অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো অনুমোদন নেই। আমাদের বেকারিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আসছিল, কাগজপত্র না থাকায় কিছু টাকা জরিমানা করে গেছে। তা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি।’ বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি বলেন, টাকা থাকলে বাজারে এমন হাজার হাজার সিল কিনতে পাওয়া যায়।
এদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকার প্রভাবশালী অনেকে এই বেকারির মালিক পক্ষের সঙ্গে জড়িত। পাঁচ বছর ধরে এভাবেই বেকারি মালিক চালাচ্ছেন তাঁর প্রতিষ্ঠানটি। যার কারণে তাঁরা বেকারির বিরুদ্ধে আইনি কোনো অভিযোগ করছেন না। তাঁরা বলেন, ‘বেকারি মালিক বিনা লাইসেন্সে অবৈধভাবে পণ্য বিক্রি করছেন। আমরা মনে করি এই বেআইনি কাজ বন্ধ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কঠোর নজর দেওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ জানান, ‘ইতোপূর্বে আমরা ভাই ভাই ফুড অ্যান্ড বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করেছি। সরকারি বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স না থাকায় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের নিয়ম-নীতি অমান্য করায় বিভিন্ন মেয়াদে জরিমানা করেছি। নিয়ম-নীতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের মালিককে দিকনির্দেশনা প্রদান ও সরকারি নীতিমালা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেছি। অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, তদন্ত সাপেক্ষে যদি আমরা দেখি প্রতিষ্ঠানের মালিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না, তাহলে আমরা তাকে ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কমেন্ট বক্স