বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নিরুত্তাপ ভোটে নৌকার মতিয়ার মেয়র নির্বাচিত

  • আপলোড তারিখঃ ৩১-০১-২০২১ ইং
নিরুত্তাপ ভোটে নৌকার মতিয়ার মেয়র নির্বাচিত
বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও প্রার্থীদের নানা অভিযোগের মধ্যদিয়ে দর্শনা পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন নিজস্ব প্রতিবেদক/দর্শনা অফিস: চারবারের মতো দর্শনা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান। গতকাল শনিবার ১৭ হাজার ৭৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বুলেট ১ হাজার ১৯৪ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রাথী আশকার আলী মোবাইল মার্কায় ৪৩৩ ভোট পেয়েছেন। সারা দেশের ৬৪টি পৌরসভার সঙ্গে একযোগে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তাঁদের ভোট নিয়ে তারপর গণনা কার্যক্রম শুরু করা হয়। ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে ১৬টি কেন্দ্রে, ৮২টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা পৌরসভার মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫২০ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৯ হাজার ৬৫৩ জন। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১৯ হাজার ৩৬৩টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ২৯০টি। এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা পৌরসভা নির্বাচনের কেন্দ্রসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমানসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দর্শনা পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং টিম, ঈগল-১ টিম মোতায়েনসহ প্রতিটা ভোট কেন্দ্রে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। ৯টি ওয়ার্ডের জন্য ৯ জন নির্বাহী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছিল।`` এদিকে, সকালের দিকে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও সারা দিনে ভোটার উপস্থিতি তেমন ছিল না। কেন্দ্রগুলো ছিল নিরুত্তাপ। প্রায় কেন্দ্রের সামনে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের দেখা মেলেনি। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছাড়া ভোট কেন্দ্রের প্রবেশ মুখগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি তেমন উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। বরং পুরো ভোট অনুষ্ঠান মনে হয়েছে একতরফা বলে অনেককেই মন্তব্য করতে শোনা গেছে। তবে ছোট-খাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন বলছে শান্তিপূর্ণভাবে দর্শনা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, নির্বাচন চলাকালীন সময় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বুলেট ভোট বর্জন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেওয়া, জোর করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে নেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার কারণে ভোট বর্জন করা হলো।``মোবাইল প্রতীকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আসকার আলী এই নির্বাচন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাকেও গালাগালি করা হয়েছে। প্রথম থেকেই আমাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে।’ তবে সুষ্ঠু নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান জানান, ‘মানুষের ভোট কেন্দ্রে আসা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মানুষ উন্নয়ন চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে মানুষের শতভাগ বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে।’ জেলা নির্বাচন অফিসার ও পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার তারেক আহম্মেদ জানান, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কাজ করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি মাঠে র‌্যাব ও আনসার সদস্যরাও ছিলেন। এই নির্বাচনটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।’ অপর দিকে, ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত মেয়র মতিয়ার রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগর টগর। দর্শনা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটির (পিপি) অ্যাড. বেলাল হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবুসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত মেয়র মতিয়ার রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণও দেখা দেখে। একই সঙ্গে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিতরাও কর্মী, সমর্থকদের সঙ্গে মিষ্টিমুখ করেন।`` কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল খালেক (পানির বোতল) মার্কায় ৬৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী নাসির উদ্দিন খেদু (উটপাখি) মার্কায় ৬৬০ ভোট পেয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে এনামুল হক (পাঞ্জাবি) মার্কায় ৮৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস (টেবিল ল্যাম্প) মার্কায় ৮৬২ ভোট পেয়েছেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল ইসলাম সুমন (উটপাখি) মার্কায় ১০৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প) মার্কায় ৪৮১ ভোট পেয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মনির সরদার (ব্রিজ) মার্কায় ১ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কভু (পাঞ্জাবি) মার্কায় ৫৩৮ ভোট পেয়েছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম মুকুল (ডালিম) প্রতীকে ৬৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী নজরুল ইসলাম (পাঞ্জাবি) মার্কায় ভোট পেয়েছেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রেজাউল ইসলাম (পানির বোতল) মার্কায় ১ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী কামরুল ইসলাম তরফদার (টেবিল ল্যাম্প) মার্কায় ৮৩৫ ভোট পেয়েছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাবির হোসেন মিকা (পাঞ্জাবি) মার্কায় ৫৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মতি (ডালিম) মার্কায় ৪৫৩ ভোট পেয়েছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিল্লাল হোসেন (উটপাখি) মার্কায় ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী শরীফ উদ্দিন (টেবিল ল্যাম্প) মার্কায় ভোট পেয়েছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আসুর উদ্দিন (উটপাখি) মার্কায় ৬২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির (টেবিল ল্যাম্প) মার্কা ৫১১ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আম্বিয়া খাতুন (আনারস) মার্কায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জাহানারা খাতুন (চশমা) মার্কায় ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ফাহিমা বেগম (টেলিফোন) মার্কায় নির্বাচিত হয়েছেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী