অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ, প্রতিবাদ
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০১-২০২১
ইং
গাংনী সমাজসেবা অফিসের ট্রেড প্রশিক্ষক আরিফার বিরুদ্ধে
গাংনী অফিস:
মেহেরপুর গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ট্রেড প্রশিক্ষক আরিফা খাতুনের বিরুদ্ধে ভাতা কার্ড প্রদানে অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ভাতা না পাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার আযান গ্রামের এক ভুক্তভোগী অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এনিয়ে আরিফা খাতুনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী আযান গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান, ‘৮-৯ মাস আগে কাগজপত্র দিয়েছি আরিফা খাতুনের কাছে মাতৃত্ব ভাতার কার্ডের জন্য। তিনি বলেছিলেন সময়মতো মোবাইলে টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টাকার কোনো ম্যাসেজ না আসায় অফিসে জানতে এসেছি। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গেছেন। আমার সাথে যারা আইডি কার্ড জমা দিয়েছিলেন, তাদের সবার টাকা চলে এসেছে।’
অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আরিফা খাতুন বলেন, কার্ড জমা দেওয়ার কথা ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের কাছে জমা দিয়ে যায়। ইউনিয়ন থেকে পর্যায়ক্রমে এগুলো নিয়ে যায়। এর বেশি কিছু আমি জানি না। ওই ব্যক্তির স্ত্রীর মোবাইল নম্বর ভুল হওয়ায় সমস্যা হয়েছে।’
বিভিন্ন ব্যক্তির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ইউনিয়নের কিছু অসাধু মেম্বার (ইউপি সদস্য) অফিস সময়ে আরিফার কাছে ঘুর ঘুর করেন। ওই মেম্বারদের যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে মাতৃত্ব ভাতার কার্ড নিশ্চিত করা হয়। যারা আরিফাকে টাকা দেন না, তাদের কার্ড ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয় না। টাকা দিলেই কার্ড ও নামের তালিকা ওই মেম্বারদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে যায়।
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফা খাতুন গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আধুনিক দর্জি বিজ্ঞান ট্রেডের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অফিস সহকারী পদ শূন্য থাকায় ওই পদের সব কাজই তিনি করতেন। এজন্য তিনি প্রশিক্ষণও পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অফিস সহকারী পদে জনবল নিয়োগ হওয়ায় বেকে বসেছেন আরিফা খাতুন। মাতৃত্ব ভাতার কাজটি তিনি ছাড়তে চাচ্ছেন না। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ভাতা কার্ডের কাজ করার জন্য তাঁর এতো আগ্রহ কেন।
জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। আমি দুই অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, তাই আরিফা অফিসে কী করেন, তা সব সময় জানতে পারি না। বিষয়টি যেহেতু আমাদের সম্মান ও দরিদ্র মানুষের স্বার্থের বিষয়, তাই এটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স