বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় ভুল চিকিৎসায় রাজমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-০১-২০২১ ইং
আলমডাঙ্গায় ভুল চিকিৎসায় রাজমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা: আলমডাঙ্গায় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় ঝরে গেল রাজমিস্ত্রি শুকুর আলীর তাজা প্রাণ। ভুল চিকিৎসা ও ভুল অপারেশনের শিকার হয়ে গতকাল বুধবার রাতে মৃত্যু হয় উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে শুকুর আলীর। শুকুর আলীর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও ভুল অপারেশনের কারণেই শুকুর আলীর আজ এই পরিণতি, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। ভুল চিকিৎসার বর্ণনা দিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, দেড় মাস আগে হঠাৎ পেটে ব্যথা দেখা দিলে শুকুর আলীকে আলমডাঙ্গা শহরের চাতাল মোড়ে অবস্থিত শেফা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল ইমরান রাজমিস্ত্রি শুকুর আলীকে দেখার পর বলেন, তাঁর পিত্তথলিতে পাথর আছে, দ্রুত অপারেশন করতে হবে। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী ১৩ হাজার টাকার বিনিময় তাঁকে অপারেশন করানো হয় শেফা ক্লিনিকেই। অপারেশনের পর আরও প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয় পরিবারের। এত টাকার ওষুধ কেনা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের কাছে। অনেক কষ্টে পরিবারের হাঁস-মুরগি থেকে শুরু করে ছাগল ও সংসারের জমানো টাকা ব্যয় হয়ে যায় ওষুধ কেনার পেছনে। অপারেশনের পর এক সপ্তাহ ক্লিনিকে রেখে শুকুর আলীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দিন দিন শুকুর আলী সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে ক্রমেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাঁকে আবারও চিকিৎসার জন্য শেফা ক্লিনিকের ডাক্তার আল ইমরানের কাছে নেওয়া হয়। ডাক্তার বলেন, রোগীকে আবার অপারেশন করতে হবে। পরিবারের সদস্যরা শুকুর আলীর সুস্থতার জন্য ডাক্তার আল ইমরানের কথায় দ্বিতীয়বার অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়। দ্বিতীয়বার অপারেশন করার পর শুকুর আলীর অবস্থা পূর্বের থেকে আরও খারাপ হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক টের পেয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে শুকুর আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। মৃত শুকুর আলীর স্ত্রী ফতে খাতুন বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডাক্তার রোগী দেখার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান অপারেশনের সময় রোগীর নাড়ির একটি স্থান কাটা পড়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ দিন কাটানোর পর দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম না হওয়ায় তাঁকে আবারো নিজগ্রাম বেলগাছিতে ফিরিয়ে আনেন তাঁরা। ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়। সম্প্রতি শেফা ক্লিনিকের ম্যানেজার রবিউল হক প্রতিদিন শুকুর আলীর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসতেন বলে জানান মৃত শুকুর আলীর স্ত্রী।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’