নার্সের বিরুদ্ধে রোগীদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
০২-০১-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সাপ্লাই থাকলেও বাইরে থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে সিরিঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সিরিঞ্জ সাপ্লাই নেই বলে সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ী রোগীদের থেকে নিচ্ছেন অতিরিক্ত টাকা। ১ এমএল ইন্সুলিন সিরিঞ্জ হাসপাতালে সাপ্লাই থাকলেও বাইরের ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করে হাসপাতালের ভেতর নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় বসে এসব ঘটনা এখন নিত্যদিনের বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। হাসপাতালে সিরিঞ্জ সাপ্লাই থাকা সত্ত্বেও বাইরের সিরিঞ্জ হাসপাতালের ভেতরে বিক্রি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ী।
ভ্যাকসিন দিতে আসা আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামের পূবালী খাতুনের মেয়ে বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার পর সরকারিভাবে সিরিঞ্জ হাসপাতালে সাপ্লাই নেই বলে তাঁর কাছ থেকে ২০ টাকা নেন কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ী। তিনি আরও বলেন, সিরিঞ্জের প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে ১০ টাকা, অথচ নিচ্ছেন ২০ টাকা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। সরকারি সিরিঞ্জ সাপ্লাই থাকলেও ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছেন তারা।
ভ্যাকসিন দিতে আসা অপর একজন রোগী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছী গ্রামের ঈদগাহ পাড়ার মজিবর রহমানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তাঁকে কুকুরে কামড় দেয়। গতকাল শুক্রবার ভ্যাকসিন দিতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ১১৩ নম্বর কক্ষে যান তিনি। সেখানে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ী তাঁর শরীরে ইনজেকশন পুশ করে সিরিঞ্জের বাবদ ২০ টাকা নেন তাঁর কাছ থেকে। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সরকারিভাব সিরিঞ্জ সাপ্লাই আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ১১৩ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ী। গতকাল নতুন-পুরাতন মিলে মোট ২৪ জনের শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের থেকে ২০ টাকা হারে নেওয়া হয়েছে। যে সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়েছে, ওই সিরিঞ্জ জেএমআই কোম্পানির ১ এমএল ইন্সুলিন সিরিঞ্জ। যার বিক্রয় মূল্য লেখা আছে ১০ টাকা।
এ ব্যাপারে সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ীর নিকট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, গত তিন দিন ধরে ১ এমএল ইন্সুলিন সিরিঞ্জ সাপ্লাই বন্ধ। তাই বাইরের এক ফার্মেসি থেকে নিজ খরচে কিনে রোগীদের থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তবে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়নি।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোরকিপার হাদিউজ্জামান হাদির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ১ এমএল সিরিঞ্জ সাপ্লাই আছে। যদি সিরিঞ্জ ফুরিয়ে যায়, তাহলে আমার নিকট থেকে নিয়ে যাবে। আমাকেও তারা জানায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ১১৩ নম্বর কক্ষে দেড় হাজার ভ্যাকসিন ও দেড় হাজার সিরিঞ্জ দেওয়া হয়েছিল। ভ্যাকসিন এখনো অনেক আছে। তাহলে সিরিঞ্জ কেন নেই, তা আগামীকাল (আজ) খোঁজ নিয়ে দেখব।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাজিদ হাসান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ১ এমএল ইন্সুলিন সিরিঞ্জ সাপ্লাই আছে। সরকারি সিরিঞ্জ বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি বিক্রি করে থাকেন এবং হাসপাতালে সিরিঞ্জ থাকার পরও যদি হাসপাতালের কোনো স্টাফ বাইরে থেকে নিয়ে আসেন এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করেন, তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, হাসপাতালে ১ এমএল সিরিঞ্জ সাপ্লাই আছে। ভ্যাকসিন সরকারিভাবে সম্পূর্ণ ফ্রি। এখানে টাকার নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভা লাহিড়ী সরকারিভাবে সিরিঞ্জ সাপ্লাই নেই জানিয়ে রোগীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেব।
কমেন্ট বক্স