অস্ত্রের কোপে যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক : চাপাতি-ছুরি উদ্ধার!
- আপলোড তারিখঃ
২৪-১২-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গার বোয়ালমারিতে দিনদুপুরে ছাগল চুরির চেষ্টা : তিন ডাকাত সদস্যকে স্থানীয়দের গণধোলাই
জনতার জনরোষ পড়ে পুলিশের এক এসআই ও তিন কনস্টেবল আহত : থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারি গ্রামে দিনদুপুরে ছাগল চুরির সময় ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিল্টন (২৬) নামের এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। আহত মিল্টন বোয়ালমারি গ্রামের আত্তাব আলীর ছেলে। এসময় উত্তেজিত গ্রামবাসী তিন ডাকাতকে ধরে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই তিন ডাকাতকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদেরকে থানা হেফাজতে নেয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। গতকাল বুধবার বুধবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়ার মিরাজুল ইসলামের ছেলে আকাশ (২০), একই এলাকার অহিদুলের ছেলে অমিত (১৯) ও সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র গ্রামের স্কুলপাড়ার মৃত সাজু মণ্ডলের ছেলে হৃদয় (২২)। পুলিশ বলছে, এই চক্রটি চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করে বেড়ায়। তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী বোয়ালমারি গ্রাম সংলগ্ন সড়কে রাতে চলাচলকারী যানবাহন-পরিবহনসহ গ্রামের বিভিন্ন স্থানে গতরাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিকেল থেকে ওই গ্রামে অবস্থান করছিল তাঁরা।
গ্রামবাসী জানায়, বুধবার বেলা তিনটার দিকে বোয়ালমারি গ্রামের একটি মাঠের মধ্য থেকে কয়েকজন গ্রামের অতিয়ারের একটি ছাগল চুরি করে অটোরিকশায় তুলছিল। বিষয়টি গ্রামের মিল্টন দেখে ফেললে প্রতিবাদ করায় তাঁদের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিল্টনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ডাকাতরা। এসময় আহত মিল্টনের চিৎকার-চেঁচামেচিতে গ্রামবাসী ছুটে আছে এবং ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতকে আটক করে। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাঁদেরকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তিন ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে। এসময় গ্রামের উত্তেজিত জনতা পুলিশের নিকট থেকে ওই তিন ডাকাতকে আরও গণপিটুনি দেওয়ার জন্য ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই তিন ডাকাতকে জনতার জনরোষ থেকে উদ্ধারের সময় পুলিশের তিনজন কনস্টেবল ও এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) জনগণের মধ্যে পড়ে কিছুটা বেকায়দা পড়ে আহত হন। পরে আহত মিল্টন ও তিন ডাকাত সদস্যকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। এসময় ডাকাত সদস্যদের নিকট থেকে একটি ধারালো চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আহত মিল্টন জানান, ‘বুধবার বিকেলে দেখি কয়েকজন মিলে গ্রামের অতিয়ারের একটি ছাগল চুরি করে অটোতে তুলছিল। এসময় আমি কাছে গিয়ে প্রতিবাদ করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে তারা।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান বলেন, আহত মিল্টনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার বুকের ডান দিকে কোপের আঘাতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শরীরের প্রায় ২০টা সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, ‘এরা একটি ডাকাত চক্র। এই চক্রটি চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করে বেড়ায়। আটক তিন ডাকাত সদস্যদের স্বীকারোক্তি মতে বুধবার রাতে বোয়ালমারি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিকেল থেকে ওই গ্রামে অবস্থান করছিল। বিকেলে একটি ছাগল চুরির সময় গ্রামের মিল্টন নামের এক যুবক দেখে ফেলায় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তিন ডাকাত সদস্যকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর কাছ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে। এসময় তাদের নিকট থেকে একটি চাপাতি ও ছোরা পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে আটক করা হয়। এবিষয়ে সদর থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ আহত হননি। তবে জনরোষে ধাক্কাধাক্কির শিকার হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য।’
কমেন্ট বক্স