বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সোয়া ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট আসছে

  • আপলোড তারিখঃ ২১-১২-২০২০ ইং
সোয়া ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট আসছে
সমীকরণ প্রতিবেদন: আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে সোয়া ছয় লাখ কোটি টাকার। করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি দ্রুত চাঙ্গা করতে নানা উদ্যোগ থাকবে বাজেটে। ইতোমধ্যে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রাথমিক ধারণা তৈরি করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম ভাগেই শুরু হবে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া। এই লক্ষ্যে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বৈঠক হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার আরও বড় করার চিন্তা ভাবনা করা হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সোয়া ৬ লাখ কোটি টাকাই প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়। আগামী বাজেটে যেসব বিষয় প্রধান্য পাবে এর মধ্যে রয়েছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়ন করা, করোনাসহ রোগ-বালাই মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা ইত্যাদি। এছাড়া পদ্মা সেতুসহ দশ মেগাপ্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে। করোনায় বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বাজেটেও স্বস্তিদায়ক কর-ভ্যাট নীতি অবলম্বন করা হবে। রূপকল্প-২১ এর ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা শুরু হবে আগামী অর্থবছর থেকে। উন্নত দেশের স্বপ্ন নিয়ে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলছে। করোনার কারণে শতভাগ বাজেট বাস্তবায়নে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরপরও পুরোপুরি বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার। সাধারণত ছয় মাস আগে থেকে বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়। আগামী বাজেটে কোন বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হবে সেই লক্ষ্য নির্ধারণে কাজ শুরু করা হয়েছে। সম্প্রতি করোনা মোকাবেলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থ বিভাগ যে সিরিজ বৈঠক করছে, সেখানেও আগামী বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা করা হয়। শীঘ্রই অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রণয়ন কাজ শুরু করার পাশাপাশি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজিজুল আলম বলেন, করোনা মোকাবেলা ও অর্থনীতি দ্রুত গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হবে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দশ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং করোনা মোকাবেলার মতো বড় কর্মসূচী থাকবে নতুন বাজেটে। তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এবার আরও বেশি পরিমাণে চাওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আইএমএফের সঙ্গে আগামী বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চলতি বাজেটেও সংস্থা দুটির বড় সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বাজেট প্রণয়ন করতে হবে বাস্তবতার নিরিখে। বিশেষ করে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, মুদ্রানীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত হতে হবে। এছাড়া আগামী বাজেটে দুটো বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। টাকা কোথা থেকে আসবে, আর যাবে কোথায়? বাজেটে অগ্রাধিকার পুনর্র্র্নিধারণ করতে হবে। সেখানে বর্তমান প্রয়োজন এবং অদূর ভবিষ্যতে কী প্রয়োজন হতে পারে, সেটা বিবেচনায় আনতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তাই আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে স্বাস্থ্য খাতে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এসবেও প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যদিকে বাজেটের অর্থায়নও গতানুগতিক ধারায় হবে না। কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় হবে না, বিদেশী সহায়তা বেশি নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় এবং অর্থায়নও সঠিক হয়, তবে বাজেট ঘাটতি ৭-৮ শতাংশ হলেও ক্ষতি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, গতানুগতিক ধারা থেকে বের হতে না পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। আর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে না এলে অর্থনীতিও সচল হবে না। করোনা সংক্রমণ রোধ করতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। এজন্য সরকার সকলকে বিনা মূল্যে টিকা সরবরাহের চিন্তা করছে। স্বাস্থ্যসেবা দুই ভাগে বিভক্ত। গণস্বাস্থ্য সেবা এবং ব্যক্তিক স্বাস্থ্যসেবা। উভয়ের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হবে। জানা গেছে, করোনায় বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বাজেটে স্বস্তিদায়ক কর-ভ্যাট নীতি অবলম্বন করা হবে। নাগরিকদের ওপর করের বোঝা চাপানো হবে না। বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি মেটানো ও ব্যয় সামাল দিতে বিদেশী সহায়তা ও ঋণ গ্রহণ করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিড়ি ও সিগারেটের মতো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট বাড়ানো। এছাড়া করোনার মতো ভাইরাসজনিত রোগবালাই মোকাবেলা ও সুচিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করার কর্মসূচী নেয়া হবে আসন্ন বাজেটে। এসব বিনিয়োগে সহজশর্তের ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হবে। খাদ্যপণ্য আমদানি ও উৎপাদনে এবার কর ছাড় দেয়া হবে। করোনা সঙ্কট উত্তরণে গতানুগতিক পলিসি থেকে সরে এসে নীতিগত সহায়তা প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’