ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি বিক্রির মহোৎসব!
- আপলোড তারিখঃ
২০-১২-২০২০
ইং
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামে ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসবে মেতেছে (মাটি ব্যবসায়ী) ভূমিদস্যুরা। একনাগাড়ে চলছে অবৈধভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির মহোৎসব। কৃষি জমি কেটে বানানো হচ্ছে গভীর পুকুর।
এদিকে, একের পর এক কৃষি জমি থেকে এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমি হারাচ্ছে উর্বরতা, আবার অন্যদিকে কমে যাচ্ছে কৃষি জমির পরিমাণও। জমি মালিকেরা মোটা অঙ্কের টাকার লোভে আবাদি জমির মাটি কেটে জমি নষ্টে সহায়তা করছেন এসব ভূমিদস্যুদের। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামে দেখা গেছে, আবাদি জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে পুকুর তৈরি ও জমির মাটি টাকার বিনিময়ে ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রির দৃশ্য। কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নলডাঙ্গা মাঠে গত ১০-১২ দিন যাবত চলছে মাটিকাটা ও বিক্রির এই কাজ।
ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, জমির মালিক কয়রাডাঙ্গা গ্রামের ওমর বিশ্বাসের ছেলে ডালিম বিশ্বাস (৪০) একই গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে এনামুল আলীর কাছে দেড় লক্ষ টাকায় চার বিঘা জমির মাটি বিক্রি করে। এনামুল আলী একজন মাটি ব্যবসায়ী। সে মাঝে-মধ্যে আবাদি জমির মাটি জমির মালিকদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে ও ভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করে। যার কারণে প্রতিবছর নষ্ট হয় ফসলি জমি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রান্তিক চাষীরা জানান, ‘মাঠের মধ্যে পুকুর খনন করাই নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি। পুকুর খননের নামে মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করার জন্য মাটি বহনের কাজে ব্যবহারিত গাড়িগুলোর চলাচলে নষ্ট হচ্ছে অন্যন্য আবাদি জমি। বিক্রেতা ও ক্রেতারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা কোনোভাবেই মাটিকাটা বন্ধ করতে পারছি না। তাই আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মাটি বিক্রি ও আবাদি জমিতে পুকুর খননের কাজ বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এলাকাবাসীর দাবি, মাছ চাষের কথা বলে আবাদি জমিতে পুকুর খনন করে বিভিন্ন ইটভাটা ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাছে মাটি বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট। অন্যদিকে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি আনা-নেওয়ার ফলে খননকৃত পুকুরের আশেপাশের অধিকাংশ ফসলি জমি ও গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।
জমির মালিক ডালিম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে মাটি ব্যবসায়ী এনামুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জমির মালিক নিজের জমিতে পুকুর কাটবে। এখানে সরকারি কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমি জমির মাটি কিনেছি, এখন ভাটায় বিক্রি করবো।’
এদিকে, এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য তথ্য সংগ্রহকালে ফরহাদ আলী নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, ভাই আমরা সাংবাদিকেরা ভাই-ভাই মাটি ব্যবসায়ী এনামুল আলী আমার ভাই। আপনার যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে বলেন। এসময় তিনি অর্থের প্রলোভন দেখান। অর্থের প্রলোভনে রাজি না হওয়ায় তিনি মোবাইল ফোনে নানা প্রকার বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এভাবে মাটি কাটার বিষয়গুলো একের পর এক স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে এসব মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। যার কারণে বন্ধ হচ্ছে না কৃষি জমি নষ্ট করে মাটিকাটা।
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘এভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার বা কৃষি জমিতে পুকুর করার কোনো নিয়ম নেই। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। কোনো ব্যক্তি নিজের জমিতেও এই কাজ করতে পারবেন না।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন আলী বলেন, ‘বর্তমানে শুধু চিৎলা ইউনিয়ন নয়, উপজেলার কোথাও মাটি বিক্রি তো দূরের কথা, নিজের জমির মাটি কাটার অনুমোদনও নেই, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার কাজ করে থাকেন, তাহলে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স