মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আজ অস্থায়ী প্রথম রাজধানী দিবস

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৪-২০১৭ ইং
আজ অস্থায়ী প্রথম রাজধানী দিবস
অঞ্জন দত্ত/মারুফ হাসান পলাশ: মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার চুয়াডাঙ্গা মহাকুমা বর্তমানে আমাদের চুয়াডাঙ্গা জেলার গৌরবময় ভূমিকা সর্বজন স্বীকৃত। চুয়াডাঙ্গাতেই সর্বপ্রথম শুরু হয় বিপ্লবী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম। ৭ মার্চ ঢাকায় রেসকোর্সে ঐতিহাসিক জনসভায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা হওয়ার পর চুয়াডাঙ্গায় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। শহরের বড় বাজারে মতিরাম আগরওয়ালার দোতালা ভবনের নিচ তলায় তৎকালিন শহর আওয়ামীলীগের অফিসে। ২৬ মার্চ চুয়াডাঙ্গাতেই প্রথম অস্থায়ী রাজধানীর কার্যক্রম শুরু হয়। রাষ্টীয় কাজে ব্যবহারের জন্য ব্লক মেকার শিল্পী এনএন সাহাকে দায়িত্ব দেয় রাষ্ট্রীয় সীল বানিয়ে দেয়ার জন্য। ‘‘দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চল কমান্ড গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’’ ম্যাপের উপর বাংলাদেশ লেখা। যা পরে সামান্য পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্টীয় মনোগ্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় প্রথম অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে সকল কার্যক্রম তৎকালিন  আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা: আসহাব-উল-হক জোয়ার্দ্দার ওরফে হ্যাবা ডাক্তার এর সব কিছু দিক নির্দেশনা দেন। সশস্ত্র বাহিনী কমান্ড অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেন তৎকালিন ইপিআর এর চুয়াডাঙ্গাস্থ উইংস এর মেজর আবু ওসমান চৌধুরী। পরবর্তীতে এই অস্থায়ী রাজধানীর সাক্ষর সংযুক্ত বহু দলিল পত্র বিপ্লবী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী মুজিবনগর সরকার কার্যক্রমে ব্যবহার হয়। গতিধারা প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগরের ইতিহাস’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, এমপিএ/এমএনএ যারা ভারতে পৌছেছেন, তাদের খুজে বের করার জন্য জহুর আহমেদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কলকাতায় তাদের এক বৈঠকে ৫ জন এমপিএ উপ্িস্থত ছিলেন। সহযোগী নেতাদের সন্ধানে তাজউদ্দীন আহামদ প্রথমে আসামের গোয়ালপাড়ায়, পরে আগরতলায় যান। সেখানে প্রবাসী সরকার গঠনের জন্য আওয়ামী লীগ এমপিএ ও নেতাদের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এর নেতৃত্বে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ২৮ জন এমএনএ‘র উপস্থিতিতে অস্থায়ী রাজধানী ঘোষনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ খবর ডা: আসহাব-উল-হকের কাছে পৌছালে তিনি ১৪ এপ্রিলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকেন। তখনকার নবনির্মিত চুয়াডাঙ্গা আধুনিক সদর হাসপাতাল ভবনকে সচিবলয় নির্বাচন করা হয়। কিন্তু সে খবর আগেভাগেই গণমাধ্যমে বিশ্বময় প্রচারিত হয়ে গেলে চুয়াডাঙ্গা পাক বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়। ১৩ এপ্রিল পাক সেনারা চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা দখল করে নেই। ১৪ এপ্রিল পাক বিমান বাহিনী একাধিকবার উপর্যুপরি হামলা চালায় চুয়াডাঙ্গার মাটিতে। নিক্ষেপ করা হয় নাপাম বোমা। বৃষ্টির মতো ক্রমাগত গুলি ছোড়া হয় ফাইটার জেট বিমান থেকে। বিনা বাধায় পাক বাহিনী দখল করে নেই চুয়াডাঙ্গা শহর। এর ফলে ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ভবনে নির্ধারিত প্রবাসি সরকারের শপথের প্রস্তুতি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় এক সাক্ষাতকারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন। ১০ এপ্রিল আমি স্বাধীন বাংলাদেশে সরকার গঠন করি এবং এদিনই স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী চুয়াডাঙ্গায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিই ১৪ এপ্রিল। এ খবরটা পত্রিকায় আগাম প্রকাশিত হয়ে পড়ায় বর্বর পাকিস্তানিরা পরের দিনই চুয়াডাঙ্গায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণ শুরু করে। সেখানে বহু লোক হতাহত হয়। এই বোমবর্ষণের জন্য সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের চুয়াডাঙ্গা শহর ছাড়তে হয়েছিল। এরপর আমরা মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা নামক স্থানকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী মনোনীত করে এর নাম দিই ‘মুজিবনগর’। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার সাংসদ মিয়া মো: মনসুর আলী, শামসুজ্জামান দুদু, হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন। প্রতিরোধী বাংলার প্রথম রাজধানী যে চুয়াডাঙ্গা ছিল এ বিষয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। যারা সে সময় স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন, ইতিহাসবিদ সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন প্রথম রাজধানী বা অস্থায়ী রাজধানী চুয়াডাঙ্গা। কিন্তু স্থানীয়ভাবে প্রথম রাজধানী দিবস গত ২০০৯ সাল থেকে পালন হলেও রাষ্টীয় স্বীকৃতি ৪৫ বছরে আজও মেলেনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী