বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গার খাদিমপুরে পুকুরে মিলল যুবকের গলিত লাশ

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১২-২০২০ ইং
আলমডাঙ্গার খাদিমপুরে পুকুরে মিলল যুবকের গলিত লাশ
পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজন থানা হেফাজতে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আফজালুল হক/নাহিদ: আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুরে নিখোঁজের ৫৪ দিন পর পুকুরের কচুরিপনার নিচ থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল আটটার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়ায় একটি পুকুর পরিষ্কারের সময় অর্ধগলিত লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অর্ধগলিত লাশটির পরনের প্যান্ট দেখে এলাকার কাতব আলী বিশ্বাস দাবি করেন লাশটি তাঁর নিখোঁজ ছেলে আলমগীর হোসেনের (২৭)। পিতা কাতব আলীর অভিযোগ, এলাকার আব্দুর রশিদের স্কুলপড়ুয়া ছেলে শিপন তাঁর ছেলে আলমগীরকে টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা পর পুকুরে ফেলে দিয়েছে। এ ঘটনায় স্কুলপড়ুয়া শিপন ও তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ইভাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিপন এলাকার বিশ্বাসপাড়ার আব্দুর রশীদের ছেলে ও চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিহত আলমগীরের পিতা কাতব আলী ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে আরও বলেন, নিখোঁজের বেশ কিছুদিন আগে থেকে বয়সের পার্থক্য থাকলেও আলমগীরের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুর রশিদের স্কুলপড়ুয়া ছেলে শিপনের (১৫) বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। প্রায় সময়ই তারা একসঙ্গে থাকত। গত ১০ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে আলমগীর নিখোঁজ হয়। আলমগীরের কাছে থাকা ১৫-১৬ হাজার টাকা দামের মুঠোফোন ও প্রায় ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতেই এই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে শিপন। কাতব আলী বলেন, ‘আমার ছেলেকে খুনের পর টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে শিপন তার প্রেমিকা ইভাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পারিবারিক উদ্যোগে তাদের ১৫ দিন আগে বিয়েও দেওয়া হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমার ছেলেকে না পাওয়ায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।’ নিহত আলমগীরের বড় ভাই বলেন, ‘বয়সে পার্থক্য থাকলেও শিপনের সঙ্গে আলমগীরের বন্ধুত্ব ছিল। ওই শিপন গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছিল। আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার রাতেই একটি মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় রাত দুইটার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়ায় টহলরত পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সে সময় শিপনের নিকট থেকে নগদ ৫২ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। আমাদের ধারণা, আলমগীরের টাকাগুলো হাতিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে খুন করে লাশ পুকুরে কচুরিপনার নিচে চাপা দিয়ে রাখে শিপন।’ এদিকে অভিযুক্ত শিপন ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই রাতে যাওয়ার পূর্বে আলমগীরের সঙ্গে আমার কোনো প্রকার যোগাযোগ হয়নি। আমার বড় ভাই বিদেশে থাকে। ক’দিন আগে ভাই ৫০ হাজার টাকা বাড়ির জন্য আমার কাছে পাঠালে, আমি সেই টাকা নিজের কাছে রাখি।’ এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আলমগীর কাতব আলীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান। ১২ বছর আগে তার মা মারা যান। এরপর আবারও বিবাহ করেন কাতব আলী। বর্তমানে কাতব আলী দ্বিতীয় স্ত্রী ও পাঁচ বছরের একটি ছেলেকে নিয়ে সংসার করছেন। সে জন্য নিহত আলমগীর পরিবারের সঙ্গে না থেকে পাশেই তাঁর ফুফুর বাড়ির সঙ্গে একটি টিনের ঘরে একাই থাকতেন। আলমগীরের ফুফু বলেন, ‘আমি অনেকবার বলেছি আমার বাড়িতে এসে থাকতে। সে থাকেনি। গরুর ব্যবসা করত, তাই তার কাছে অনেক টাকা থাকত। এজন্য আমি সব সময়ই তার খোঁজখবর নিতাম।’ এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। নিখোঁজের পর পরিবারের করা জিডির ওপর ভিত্তি করে তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় স্কুলছাত্র শিপন ও তার স্ত্রী ইভাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘাতক যেই হোক, শিগগিরই তাকে খুঁজে গ্রেপ্তার করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, লাশটি কঙ্কাল হয়ে গেছে। নিহতের পরিবার পরনের প্যান্ট দেখে আলমগীরকে শনাক্ত করেছে। আগামীকাল শনিবার (আজ) ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’