কঙ্কালের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন, হত্যা মামলা
- আপলোড তারিখঃ
২৩-১১-২০২০
ইং
দামুড়হুদা উজিরপুরে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রীর
প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রীর কঙ্কাল তাঁর মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে কঙ্কালের ময়নাতদন্ত শেষে কলেজছাত্রী মিমের বাবা মধু খানম ও মা সাজো খাতুনের কাছে কঙ্কাল ও জামাকাপড় হস্তান্তর করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাদী হয়ে গতকাল বিকেলে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে পুলিশ।
কলেজছাত্রী মিমের বাবা-মা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিম খানম কুষ্টিয়া আমলা সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ১লা সেক্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া সুলতানপুর নানীর বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় মিম খানম। তার বাবা-মা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মিমের বাবা দৌলতপুর থানায় জিডি করতে গেলে থানার কর্মকতা জিডি নেননি। সে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করা হয় তাকে। নিখোঁজের ২ মাস ২২ দিনের মাথায় দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ উজিরপুর মাদ্রাসার পিছনে নদীর ধার থেকে কঙ্কাল এবং তাঁর ব্যবহত জামা-কাপড় ও ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে। পরে ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা মিমের এসএসসির সার্টিফিকেট ও টিকা দেওয়ার কার্ড থেকে পুলিশ জানতে পারে মিমের ঠিকানা। পরে মিমের বাবা-মায়ের খবর দিলে তারা এসে জামা-কাপড়, ভ্যানিটি ব্যাগ ও এক জোড়া স্যান্ডেল দেখে চিনতে পারে যে এই সব জিনিসপত্র তাদের মিমের। পরে ময়নাতদন্ত শেষে কঙ্কাল ও তাঁর জামা-কাপড়-ভ্যানিটি ব্যাগ মিমের বাবার নিকট হস্তান্তর করে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মিমের কঙ্কালের জানাজা শেষে পিপলিয়া গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ব্যপারে দামুড়হুদা মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে।
মিমের মা নাজো খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী একজন দিনমজুর। আমার তিন মেয়ে, তার মধ্যে মিম সবার ছোট। আমরা অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করানোর চেষ্ট করছিলাম। কিন্তু এ আমার কী হয়ে গেল। কারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার চাই।’
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কঙ্কালের সাথে একটি ভেনেটি ব্যাগে তার ঠিকানা পাওয়া যায়। সেই ঠিকানা অনুযায়ী তার বাবা-মাকে খবর দিলে তারা শনাক্ত করে যে এই কঙ্কাল তাদের মেয়ের। পরে তাদের কাছে মৃত লাশের কঙ্কাল হস্তান্তর করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনে অভিযান অব্যহত রয়েছে।
কমেন্ট বক্স