আমরা সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর -ওসি আবু জিহাদ খান
- আপলোড তারিখঃ
১৩-১১-২০২০
ইং
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হারানো ১০টি স্মার্ট ফোন ও বিকাশের টাকা উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসলে মোবাইল ফোন একটি শখের জিনিস। আমি ভাবতেই পারিনি এতো কষ্ট করে কেনা শখের ওয়ান প্লাস ৭ প্রো হারিয়ে যাবার পরেও তা ফিরে পাবো। পুলিশের আন্তরিকতার কারণেই মোবাইল ফোনটি ফিরে পেলাম। হারিয়ে যাবার সময় কষ্ট হয়েছিলো প্রচুর। এখন তার থেকেও অনেক বেশি ভালো লাগছে। পুলিশ ভাইদের ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। কথাগুলো বলছিলেন, মোবাইল ফোন হারিয়ে যাবার পর পুলিশের সহযোগিতায় ফিরে পাওয়া রাজিব রায়হান। গতকাল বৃহস্পিবার তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া ১০টি মোবাইল ফোন ও বিকাশে মিসিং হওয়া ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিলো চুয়াডাঙ্গা সদর থানা কর্তৃপক্ষ। বিকাশে মিসিং হওয়া ১৬ হাজার টাকা হারিয়ে যাওয়া এক ভুক্তভোগী এরশাদ মিয়া তাঁর পুরো টাকাই ফিরে পেয়ে বললেন, এক টাকাও লাগেনি। থানার জানানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের থেকে আমাকে বলা হয়, আপনার টাকা উদ্ধার করা গেছে। ভেবেছিলাম মিসিং হওয়া টাকা পাবো কিনা। কিন্তু পুলিশের আন্তরিকতা দেখলাম, তাতে আমি সত্যিই মুগ্ধ।
জানা গেছে, মোবাইল ফোন হারিয়ে যাবার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব মোবাইল ফোন বিভিন্ন সময় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে বা চুরি হয়ে যায় বলে জানা যায়। এর মধ্যে কয়েকটি মোবাইল ফোন এক বছরেরও বেশি সময় আগে হারিয়ে বা চুরি হয়ে যায়। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান আন্তরিকতার সাথে সার্বিক তত্ত্বাবধান করে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিম হাসানকে এগুলোর দায়িত্ব দেন।
উপপরিদর্শক (এসআই) শামিম হাসান তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ফোনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে থাকেন। পর্যায়ক্রমে একে একে উদ্ধার হয় ১০ বিভিন্ন ব্রান্ডের দামি মোবাইল ফোন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকতার সাথে সবার হাতে মোবাইল ফোন ও বিকাশে মিসিং হওয়া টাকা তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবির, ফোনগুলো উদ্ধারকারী উপপরিদর্শক (এসআই) শামিম হাসানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, হারিয়ে গেলে বা চুরি গেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করবেন। পুলিশ জনগণের বন্ধু। আমরা সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর। সাধারণ ডায়েরি করতে এক টাকাও লাগে না। তিনি আরও বলেন, এই যে মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি দিয়ে চাঁদাবাজী করা হয়েছে। মামলা হয়েছে, আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদও করা হয়েছে। মোবাইল হারিয়ে যাওয়া নিছক কোনো খেলার বিষয় নয়। আপনি যদি আইনি পদক্ষেপ না নে, তাহলে হারিয়ে যাওয়া ফোন ব্যবহার করে ঘটানো অপরাধের কিছুটা দায়িত্ব আপনার ওপরেও বর্তায়। তাই ব্যবস্থা নিন, আমাদেরকে জানান।
কমেন্ট বক্স