প্রথম ধাপেই থাকছে চুয়াডাঙ্গা, তারিখ পেছালে প্রশাসক নিয়োগ
- আপলোড তারিখঃ
১১-১১-২০২০
ইং
চলতি মাসেই পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা : জানুয়ারিতে হতে পারে ভোটগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এগিয়ে এসেছে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচন। এ মাসেই ঘোষণা হতে পারে তফসিল। চুয়াডাঙ্গা জেলার চার পৌরসভারই মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বা অন্য কোনো কারণে যদি নির্বাচন পেছাই, তাহলে প্রশাসক নিয়োগেরও সম্ভাবনা আছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে ২৫৯টি পৌরসভা নির্বাচন উপযোগী বলে ইসিকে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে যেসব পৌরসভার মেয়াদ আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে শেষ হবে সেগুলোর নির্বাচনী কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ৫ বছর পূর্ণ করবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বর্তমান পরিষদ। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়ে গেছে।
এদিকে, জীবননগর পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি ও দর্শনা পৌরসভার ১৫ ফেব্রুয়রি। তবে আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়াদ ফেব্রুয়ারি মাস পেরিয়ে ১লা মার্চে পূর্ণ হওয়ার কথা। একে একে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সবকটিতে।
নির্বাচন কমিশনের বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল এ মাসের ১২ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে। পর্যায়ক্রমে মেয়াদপূর্ণ হওয়া প্রত্যেকটি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের একই সূত্রে জানা গেছে, যেই পৌরসভাগুলোর মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও করোনা ভাইরাস বা অন্য কোনো কারণে তফসিল ঘোষণা বা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেরি হবে, সেগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গার দুটি ইউনিয়ন পরিষদসহ দেশের কয়েকটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাসহ বাকী তিন পৌরসভাতেও নির্বাচন পেছালে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে প্রত্যেকটি পৌরসভা নির্বাচনেই ইভিএম পদ্ধতিতে হবে। আইনের বাধ্যবাধকতা অনুয়ায়ী তফসিল ঘোষণা হওয়ার ৯০দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সে হিসেবে যদি খুলনা বিভাগের কয়েকটি পৌরসভার সাথে এ মাসের ১২ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হয়, তাহলে আগামী ডিসেম্বর মাসে বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হতে পারে। তবে জেলার বাকী তিনটি পৌরসভার নির্বাচন নির্ভর করছে তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। মহামারী করোনার সময়ে ইতোমধ্যেই প্রার্থীরা লোকজনের পাশে গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন। ইতিমধ্যে পৌর এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে এখন নির্বাচনী মাঠে অনেক প্রার্থী তৎপর থাকলেও মূল লড়াইএ এক তৃতীয়াংশ প্রার্থীই না থাকার সম্ভাবনা আছে।
ইতিমধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন বর্তমান পৌর মেয়র ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান চৌধুরি জিপু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, যুবলীগ নেতা শরীফ হাসান হোসেন দুদু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষে মু. তুষার ইমরান সরকার।
অপরদিকে, বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মজিবুল হক মালিক মজু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুনজুরুল জাহিদ। তাঁরা নির্বাচনী উঠান বৈঠক, বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ও সংগঠনের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এখন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রদানের পরই বোঝা যাবে, পাঁচ বছর মেয়াদী চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে কারা থাকছেন মাঠে।
কমেন্ট বক্স