বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মরণরোগে রাজনৈতিক দল!

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-১১-২০২০ ইং
মরণরোগে রাজনৈতিক দল!
সমীকরণ প্রতিবেদন: * কমিটি সংকটে মৃতপ্রায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো * আওয়ামী লীগে কমিটি গঠনে জটিলতা, ছাত্রলীগে নেই ক্ষমতা * তারুণ্য সংকটে আগামীর রাজনীতি নিয়ে বিপদ সঙ্কেত মরণ রোগে আক্রান্ত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। গণতান্ত্রিক নিয়মে তৈরি হচ্ছে না নেতৃত্ব। মাস গিয়ে বছর পার হলেও নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে না। দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ সকল দলেই নেতৃত্ব সংকটের দৃশ্যপট। দীর্ঘদিন বিএনপিতে কাউন্সিল নেই। অঙ্গ সংগঠনে মেয়াদ ফুরিয়ে যায়, কমিটি হয় না। আবার আংশিক কমিটি হলেও তা নিয়েই মেয়াদ শেষ হয় সংগঠনগুলোর। কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদ পূরণে কোনো উদ্যোগ নেই দলটির হাইকমান্ডের। দলটির ১১টি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রায় সবকটির অবস্থাই করুণ। যার কারণে চেইন অব কমান্ড নেই দলটিতে। কেউ কাউকে মানছেন না, গুরুত্বও দিচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একই অবস্থা। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন কিংবা দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নেও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। এই দলে আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা। এছাড়া কমিটি গঠনে জটিলতা, ক্যাসিনো, নানান দুর্নীতি, ধর্ষণসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বে গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী লীগ। সূত্র মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে উপকমিটি গঠনে জটিলতায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে সমস্যা দীর্ঘ হচ্ছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব চরমে। ভাই নেতার অনুসারীদের প্রভাব। প্রত্যেকেই অনুগতদের বড় পদে আনতে চাচ্ছেন। এছাড়া নানান বিতর্কে ঝুলে আছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। ৭ সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বাদ পড়েছেন। চলমান ভারপ্রাপ্তদের হাতে নেই সাংগঠনিক ক্ষমতা। যার কারণে দলটির রাজনীতিও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নয় একই সমস্যা দেশের সবগুলো দলে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নীতি থাকবে, আদর্শ থাকবে, গণন্ত্রণ থাকবে, স্বচ্ছতা থাকবে, জবাবদিহিতা থাকবে। কিন্তু বর্তমানে এগুলো কিছুই নেই। তাহলে সেই রাজনৈতিক দলগুলোকে কীভাবে সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে। রাজনীতির নামে দেশে নৈরাজ্য চলছে। দেশের একটি রাজনৈতিক দলও গণতান্ত্রিক নয়। কেউ সঠিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে না। সবাই শুধু একে অপরের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত। নৈরাজ্য নিয়ে ব্যস্ত। এভাবে রাজনীতি চলতে থাকলে কোনোদিনও আগামীর জন্য সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে না। তরুণরা রাজনীতিকে ঘৃণা করে দূরে সরে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোতে এগুলো প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এরপর সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে। এও মনে করা হচ্ছে, দেশে এখন কোনো রাজনৈতিক দল দেখা যায় না। আদর্শিক নেতৃত্ব নেই। যেগুলো হচ্ছে সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীরা যেমন সিন্ডিকেট তৈরি করে টাকা আয় করেন, দেশের রাজনীতিতেও একই অবস্থা। কমিটি সংকটে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন মৃত্যুশয্যায় : বিএনপিতে কাউন্সিল নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদ পূরণে কোনো উদ্যোগ নেই দলটির হাইকমান্ডের। খুব শিগগির দলটির কাউন্সিলের সম্ভাবনাও নেই। যার কারণে চেইন অব কমান্ড নেই বিএনপিতে। কেউ কাউকে মানছেন না, গুরুত্বও দিচ্ছেন না। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একই অবস্থা। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন কিংবা দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নেও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। এছাড়া দলটির ১১টি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রায় সবকটির অবস্থাই করুণ। মেয়াদ ফুরিয়ে যায়, কমিটি হয় না। আবার আংশিক কমিটি হলেও তা নিয়েই মেয়াদ শেষ হয় সংগঠনগুলোর। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ৬ ফেব্রুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১০৯ জনকে পদ-পদবি দেয়া হয়। এখনো সংগঠনটি পায়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক অবস্থা ভয়ঙ্কর খারাপ। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছর পর ফের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়ে দুই দফা কমিটি হলেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি স্বেচ্ছাসেবক দল। কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করার দীর্ঘদিন পর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় গত বছরের ১৮ অক্টোবর। কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর ৬০ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু বিগত ১১ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি বিএনপির এই সংগঠনটি। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আনোয়ার হোসাইনকে সভাপতি ও নূরুল ইসলাম নাসিমকে সাধারণ সম্পাদক করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে এ সংগঠনটি। ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি এবং শফিউজ্জামান খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯১ সদস্যবিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে মুক্তিযোদ্ধা দল। এছাড়া জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নেতাকর্মীরা বিভক্ত। তাদের অনুসারীদের মধ্যে কয়েকবার হাতাহাতি, মারামারি ও চুল টানাটানি হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। সংশ্লিষ্ট কমিটির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন দেশে করোনাকাল চলছে। এ অবস্থায় সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো কঠিন। তবুও আমি মনে করি, বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেয়া হবে। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের দিয়েই কমিটি হবে। কমিটি গঠনে জটিলতা, নেতৃত্বে গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী লীগ : কমিটি গঠনে জটিলতা, ক্যাসিনো, নানান দুর্নীতি, ধর্ষণসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বে গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে উপকমিটি গঠনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। উপকমিটির সহ-সম্পাদক পদটি বাতিল করা হলেও গঠনতন্ত্রে প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদের বিপরীতে উপকমিটি গঠন করার কথা উল্লেখ আছে। তবে কমিটির সদস্য সংখ্যার বিষয়ে কিছু বলা নেই। উপকমিটি নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এবার সর্বোচ্চ ৩৫ সদস্য নিয়ে তা গঠন করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক অনেক সম্পাদকই মনে করছেন, এ সংখ্যা যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়েই ৩৫ জনের সংখ্যা পার হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে যে কর্মীরা পরিশ্রম করেন, বিষয়ভিত্তিক উপকমিটির জন্য কাজ করেন, তাদের জায়গা দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। এদিকে তৃণমূল আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব চরমে। নিজস্ব ও ব্যক্তিবলয় তৈরি করতে গিয়ে এ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন নেতারা। বেশির ভাগ জায়গায় আওয়ামী লীগের চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ভাইলীগ। এমপি, জেলা-উপজেলা নেতা এবং সাবেক এমপি ও সাবেক জেলা-উপজেলা নেতারা তৈরি করছেন নিজস্ব গ্রুপ। এই গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক জায়গায় অপদস্থ হচ্ছেন দলের ত্যাগী ও পুরনো নেতাকর্মীরা। সমস্যা সমাধানে বারবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ টিম করে সফর করলেও ফল আসছে না। কেন্দ্রে ডেকে মিটিং করেও লাভ হচ্ছে না। সব নির্দেশনা, উপদেশ আর দেন-দরবার থেকে যাচ্ছে আনুষ্ঠানিকতায়। বেশির ভাগ জায়গায় জেলা, উপজেলা ও এমপিদের নেতৃত্বে তিন গ্রুপে বিভক্ত আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়ি যেসব এলাকায় সেখানে তাদের সমর্থনেও গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপ, সাব গ্রুপ দলীয় নির্দেশনা ও কমসূচি পালনের চেয়ে নেতার নির্দেশনা পালনে বেশি তৎপর। অনেক জায়গায় পালন করা হয় পৃথকভাবে কর্মসূচি। এছাড়া নানান বিতর্কে ঝুলে আছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। দলের হাইকমান্ড থেকে একাধিকবার সংশোধন (সংযোজন-বিয়োজন) করে কমিটি দিতে বললেও আশানুরূপ সাড়া দিতে পারেননি নগরের দুই শাখার চার নেতা। যার কারণে সৃষ্ট জটিলতায় সহসাই অমুমোদন পাচ্ছে না ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। মহানগর নেতারা ‘কমিটি আওয়ামী লীগ সভাপতির দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে, তার অনুমোদন পেলেই প্রকাশ হবে’ বলেই দায় সারছেন। দলটির আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। সেই ছাত্রসংগঠনটি থেকে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বাদ পড়েছেন। অভিযোগ তোলা হয় বিতর্কিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, মধুর ক্যান্টিনে অনিয়মিত যাওয়া, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন পভৃৃতি। একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করানোর অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তাদের পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের হাতে নেই সাংগঠনিক ক্ষমতা। আসছে না নতুন নেতৃত্ব। দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, সঠিক সময়ে কমিটি না হওয়ায় হঠাৎ করে দলে ভাই নেতার অনুসারীরা বড় পদে আসায় প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলটির রাজনীতিও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন আমার সংবাদকে বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দলের কেন্দ্র কিংবা তৃণমূলে সঠিক সময়ে সম্মেলন না হলে তরুণ নেতৃত্ব ঝরে পড়ার শঙ্কা থাকে। এজন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঠিক সময়ে সম্মেলন করাই উচিত। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কারণে অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন করা সম্ভব হয় না। তৃণমূলপর্যায়ে এটির আরও বেহাল অবস্থা হয়। তবে সবগুলো রাজনৈতিক দলের উচিত কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতৃত্বকে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সুসংগঠিত করা। যাতে তরুণ বা আগামী প্রজন্ম যেন ঝরে না পড়ে। যদি তারা ঝরে যায় তাহলে আগামীতে রাজনীতিতে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হয় জানিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ আবুল মকসূদ আমার সংবাদকে বলেছেন, যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঠিক নেতৃত্ব তৈরি করতে হলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তৈরি করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে কোনো রাজনৈতি দল এই পদ্ধতি অবলম্বন করে না। ফলে আগামীতে সঠিক নেতৃত্বের সংকট হবে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটিও আগের মতো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব তৈরি করে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্ব তৈরি করা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। অথচ দলের প্রধানরা একক ক্ষমতা দেখিয়ে চলেন। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব তৈরির জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন না। যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠন করা হয় তাহলে শতভাগ যোগ্য ও সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের দেশে কোথায় রাজনৈতিক দল দেখেন। আমি কোনো রাজনৈতিক দল দেখি না। যেগুলো দেখি, এগুলো হচ্ছে সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীরা যেমন সিন্ডিকেট তৈরি করে টাকা আয় করেন, দেশের রাজনীতিতেও একই অবস্থা। রাজনীতিতে একটি আদর্শ থাকবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নীতি থাকবে, আদর্শ থাকবে, গণন্ত্রণ থাকবে, স্বচ্ছতা থাকবে, জবাবদিহিতা থাকবে কিন্তু বর্তমানে এগুলো কিছুই নেই। তাহলে সেই রাজনৈতিক দলগুলোতে কীভাবে সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলোতে এগুলো প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এরপর সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে। দেশের একটি রাজনৈতিক দলও গণতান্ত্রিক নয় উল্লেখ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রাজনীতির নামে দেশে নৈরাজ্য চলছে। দেশের একটি রাজনৈতিক দলও গণতান্ত্রিক নয়। কেউ সঠিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে না। সবাই শুধু একে অপরের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত। নৈরাজ্য নিয়ে ব্যস্ত। এভাবে রাজনীতি চলতে থাকলে কোনোদিনও আগামীর জন্য সঠিক নেতৃত্ব তৈরি হবে না। তরুণরা রাজনীতিকে ঘৃণা করে দূরে সরে যাবে। তিনি আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই বলেন, তারা দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে রাজনীতি করেন। কিন্তু তা শুধুই নামে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বেশি কথা বলা যায় না।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’