ঢাকায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল : ভারতের সঙ্গে কী চুক্তি, আগেই জানান
- আপলোড তারিখঃ
০৪-০৪-২০১৭
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বা স্মারকের বিরোধিতা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার দাবি করে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে সর্বকালের উষ্ণতম পর্যায়ে আছে। সে ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে কেন ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে হবে তা বোধগম্য নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সম্ভাব্য সব চুক্তি ও স্মারকের বিষয়ে জানানোর আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, শোনা যাচ্ছে, ৭ এপ্রিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা প্রতিরক্ষা বিষয়ে এমওইউ সই হতে পারে। এতে কী থাকছে, তা স্পষ্ট নয়। জনগণকে পাশ কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক মানুষ মেনে নেবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের আগেই এই সফরে সই হতে যাওয়া চুক্তি ও স্মারক প্রকাশ করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কখনোই বাংলাদেশের ভূখন্ডে ভারতবিরোধী কর্মকান্ডকে জায়গা দেব না। আমরা একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি, ভারতও আমাদের অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রতিরক্ষার নামে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলার বা চার হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি করবে। এই টাকা দিয়ে ভারত থেকেই অস্ত্র কিনতে হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতীয় অস্ত্র কেনা লাভজনক হবে না বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিএনপি মহাসচিব। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, ১৯৫০ সালের পর অস্ত্র আমদানিতে এক নম্বরে আছে ভারত। যে দেশ নিজেই অস্ত্র আমদানিতে এক নম্বর, সে দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কেন অস্ত্র কিনতে যাবে? মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সাশ্রয়ী এবং আধুনিক চীনা অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের প্রস্তুতকৃত অধিক দামের অস্ত্র ক্রয় কতটুকু যৌক্তিক, তা নিশ্চয়ই প্রশ্নের দাবি রাখে। ফখরুল বলেন, এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। বাংলাদেশ কী পেল বা কী দিল, তা দেশবাসীর কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, চুক্তি হলে তখন দেখা যাবে।
কমেন্ট বক্স