নবগঠিত গড়াইটুপি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেনের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন চুয়াডাঙ্গা সদরের নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেনের উপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী রাজু মাস্টারের কর্মী-সমর্থকরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতেই নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করাসহ চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেনের গলায় ধারাল দেশীয় অস্ত্র চা-পাতি ধরে তাঁর নির্বাচনী অফিস ও গোডাউন ভাঙ্চুর করার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ঘটনায় অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয় বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় অনেক আগে থেকে আমাকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ক্যাডারা নানা ধরণের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে রোববার রাত ৮টার দিকে খাড়াগোদা গ্রামের মোজাম্মেল হক চেনার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম পিলুর নেতৃত্বে একই গ্রামের মৃত আনিচ উদ্দীনের ছেলে মানোয়ার হোসেন, মৃত আলীম উদ্দীনের ছেলে সম্রাটসহ রাজু মাস্টারের ক্যাডার বাহিনী আমার অফিসের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্লাসসহ নানান জিনিষ ভাঙ্চুর করে। এসময় আমি প্রতিবাদ করলে তারা আমার গলায় ধারাল চাপাতি ধরে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসময় তারা বলে, আমি নাকি ডিএসবি মিঠুনের কাছে তাদের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছি।’ এদিকে, বিএনপি মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেনের অফিসে হামলা চলাকালীন সময়ে সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশের এই ধরণের ভূমিকা দেখে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে বলেও অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকে পায়নি।’
এ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল। এসময় তিনি বলেন, ‘এই ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত আছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম স্যারের দিকনির্দেশনায় আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাব বলেও ওসি জানান।