মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ গঠনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৩-২০১৭ ইং
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ গঠনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য

`DSC_3004`

নিজস্ব প্রতিবেদক: সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী। স্বাধীনতার রঙিন উৎসবে বিন¤্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে বীর শহীদদের। যাদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন মাতৃভূমি। স্বাধীনতার বার্ষিকীতে গতকাল দিনভর দেশজুড়ে ছিল নানা আয়োজন। প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ। দুপুরের পর ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। দিনভর সেখানে ঢল ছিল নানা বয়সী মানুষের। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়গুলোতে হয়েছে আলোচনা সভা, র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর কুচকাওয়াজ প্রর্দশনী। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য এই প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন হয়। ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ণিল আয়োজন করা হয়। আমাদের শহর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সারা দেশের মত চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারী ও বেসরকারীভাবে দিনব্যাপী আনন্দ উল্লাস ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৬টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা, উপজেলা ইউনিট কমান্ড নেতৃবৃন্দ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী চুয়াডাঙ্গা শহর প্রদক্ষিণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন, উপজেলা কমান্ডার আ.শু বাঙালী, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা খান, আতিয়ার রহমানসহ সকল ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা চত্ত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুরু হয়। এরপর চৌরাস্তার পাশে হাসান চত্ত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তর্বক অপর্ণ করা হয়। পুষ্পস্তর্বপ অর্পন করেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাস, জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি খুস্তার জামিল, যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, এড. আব্দুল মালেক, আ’লীগ নেতা ফেরদৌস ওয়ারা সুন্না, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জুসহ নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চুয়াডাঙ্গা জেলার উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় রজব আলী মার্কেটস্থ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনশেষে একটি র‌্যালী শহীদ হাসান চত্ত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও ১মিনিট নিরবতা পালন করেন। এদিকে গতকাল বিকাল ৫ টায় রজব আলী মার্কেটস্থ কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মহান স্বাধীনতা ও মেজর জিয়া শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক আবু, মাহমুদুল হক পল্টু। বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা যুবদলের সদস্য হাবিবুর রহমান সাদিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আশাদুল হক বটুল, আবুল কালাম আজাদ, খায়রুল, সুমন পারভেজ, আপেল মাহামুদ, মাবুদ সরকার, রিন্টু মহলদার, ছাত্রনেতা শিপ্লব, নাঈম, শাহাবুদ্দিন প্রমূখ। চুয়াডাঙ্গায় দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচির মধ্যে পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার পর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা চত্বরে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা হয়। এছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভা এলাকার সকল সড়ক ও সড়ক দ্বীপ সমুহে জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকা দ্বারা সাজানো হয় এবং পৌরসভাকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয় । এ ছাড়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুক্তিযুদ্ধ, সুখী-সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার` শীর্ষক আলোচনা ও সিম্পোজিয়াম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশগড়ার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে মহান এ দিবসটি উদযাপন করা হয়। জেলা প্রশাসন,সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করেছে। সকাল সাড়ে ৭টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ মাঠপার্স, কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর মধ্যে ছিলো বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি-জেলা কন্টিনজেন্ট, রোভার স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপি, বয়স্কাউটস, গার্লসগাইড, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, শিশু পরিবার, মুকুলফৌজ ও হলদে পাখি, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দল এবং সংগঠন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস ও  ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে শান্তির প্রতীক শ্বেতকপোত অবমুক্ত ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপর দু-পাইলট এবং প্যারেড কমান্ডার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের আরআই- জামসেদুল হকের চৌকস প্রহরায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের বিশালকার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বীর প্রতীক সাইদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার আঞ্জুমান আরা, বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ড. এবিএম মাহমুদুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেব প্রসাদ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদদীন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি দে সহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক স্টেডিয়ামে আগত সকলের উদ্দেশ্যে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, জঙ্গিবাদ, অপশক্তিমুক্ত বাংলাদেশ, মুক্তিযোদ্ধ, সুখী-সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রানবন্ত বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তে ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি লাল-সবুজ পতাকা ও স্বাধীন সার্বোভৌম রাষ্ট্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো নিপীড়িত-নির্যাতিত জর্জরিত মানুষের এ দেশটি যেনো স্নেহ-প্রেম প্রীতির আবহে পূর্ণ হয়ে সুস্থ মানবতার আবাসভূমি হয়ে উঠতে পারে এবং সেই পরিবেশে বেড়ে উঠে নতুন প্রজন্ম যেনো পরিপূর্ণতার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বিশ্বময় বিশ্বমানবতার জয়গানে মুখর হয়ে উঠতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ যেন মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়। ভাষণ শেষে ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের মনোজ্ঞ মাঠপার্স পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক অনুষ্ঠিত মাঠপার্স ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী উপভোগ করেন। কুচকাওয়াজে  `ক` বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করে যুব রেড ক্রিসেন্ট ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে গার্লস গাইড ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং  তৃতীয় স্থান অধিকার করে গার্লস গাইড সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। `খ` বিভাগে প্রথমস্থান অধিকার করে সরকারি শিশু পরিবার, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পুলিশ লাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং  তৃতীয় স্থান অধিকার করে কাবদল (ছাত্রী) এমএবারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শরীরচর্চা প্রদর্শনীতে ‘ক’ গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করে সরকারি শিশুসদন, ২য় স্থান অধিকার করে গার্লস গাইড সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, এবং ৩য় স্থান অধিকার করে গাল্র্স গাইড আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়। ‘খ’ বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করে কাবদল (ছাত্র) রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,২য় স্থান অধিকার করে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৩য় স্থান অধিকার করে কাবদল (ছাত্র)ইসলাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শরীরচর্চা প্রদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক, চুয়াডাঙ্গা (ভারপ্রাপ্ত) পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়রসহ আমন্ত্রিত অতিথীবৃন্দ কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সাত্বনা পুরস্কার ও ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকারীদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এনডিসি তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আগত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দলগুলোর জন্য প্রচন্ড গরমে বিনা মুল্যে পানি সরবরাহ করে গ্রীনফুড ও জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবপ্রসাদ পালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধূরী জিপু, বীর প্রতিক সাইদুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন। আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহবায়ক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃনাল কান্তি দে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মুন্সী আবু সাইফ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৩জন জীবিত মুক্তিযোদ্ধার জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরে তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ পুরস্কারে ভুষিত করা হয়। এরা হলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমেন জোয়ার্দ্দার, বীরমুক্তিযোদ্দা মেজর (অব:) আ: রহমান জোয়ার্দ্দার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আ: হান্নান। এ ছাড়া ১৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দু-হাজার করে নগত অর্থ দেয়া হয়। পৃথক আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানায় জেলা পুলিশ, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি উপজেলার অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা ও জীবননগর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) আরিফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) সুজয় সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজগার ফটিক প্রমুখ। সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এদিকে, বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।  চুয়াডাঙ্গার প্রাক্তন খেলোয়াড় বনাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা একাদশ, মুক্তিযোদ্ধা একাদশ বনাম সোনালি অতীত একাদশ, চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক একাদশ বনাম জেলা দোকান মালিক সমিতি/জেলা শিল্প বনিক সমিতি এবং জেলা প্রশাসন একাদশ বনাম পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন একাদশের অধিনায়ক ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস এবং পৌরসভা একাদশের অধিনায়ক ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধূরী জিপু এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্যানেল মেয়র একরামুল হক মুক্তা। প্রথম ৪টি ম্যাচই গোলশূন্য ড্র হলেও জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশের মধ্যেকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র-হয়। তবে আনন্দঘণ এ ম্যাচে মজার বিষয় ছিলো- ৩০ মিনিটের খেলায় একই সাথে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ প্রায় দেড় শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেয়। ধারণা করা হয় ফিফার রেকর্ডে এই প্রথম কোনো ম্যাচে একই মাঠে একই সময়ে ২২ জনের বিপরিতে দেড় শতাধিক খেলোয়াড়। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে অংশগ্রহনকারী সকল খেলোয়াড়দেকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পুরস্কার দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলাদের অংশ গ্রহণে ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা ক্রিড়া সংস্থার আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক আনজুমান আরা। নুঝাত পারভিনের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬টি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৮জন কে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও উপস্থিত সবাইকে শান্তনা পুরস্কার দেওয়া হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সুখী-সমৃদ্ধ, বাংলাদেশ গঠনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা ও সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মুন্সী আবু সাইফের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, (চুসক) অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, (আসমক) অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ  সাঈদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হোসেন। আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচনা তুলে ধরেন  বীর প্রতিক মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, গতকাল রবিবার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাসে দিনভর যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন করে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ইউনিভার্সিটিতে সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা ও ইউনিভার্সিটির পতাকা উত্তোলন করেন ইউনিভার্সিটির ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মোত্তালেব, রেজিস্ট্রার প্রফেসর হারুন-অর রশীদসহ, সকল শিক্ষক, স্ব-স্ব বিভাগীয় ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মোত্তালেব সাহেবের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় আলোচনা অুনষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, আলোচক হিসাবে ছিলেন অত্র ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের উপদেষ্ট কুষ্টিয়া ইসলামী ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর সেলিম তোহা, অত্র ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার প্রফেসর হারুন-অর রশীদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাইফ, অত্র ইউনিভার্সিটির অর্থ পরিচালক জনাব আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ অনেকে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ইউনিভার্সিটিতে বঙ্গবন্ধুর উপর রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এবং স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৭ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অত্র ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারসহ সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের মঙ্গলকামনা করে দোয়া করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের দিনভর অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইউনিভার্সিটির সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার। মাখালডাঙ্গা-দিননাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রিড়া সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার দিনব্যাপি এ অয়োজন করা হয়। বিজয় দিবসটি উপলক্ষে অত্র বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সরোজগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। ২৬ শে মার্চ  স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকাল ৮টার দিকে সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, তেতুল শেখ কলেজ, ছাদেমান নেছা বালিকা বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, যুগিরহুদা আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, বোয়ালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীননগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল কিন্টারগার্ডেন, শিশু নিকেতন, শোনামনি কিন্টারগার্ডেন, সরোজগঞ্জ বেবী নাসিং স্কুল, সরোজগঞ্জ চাইল্ড কেয়ার হোম, আননূর ইসলামী একাডেমি সহ সরোজগঞ্জ বাজারে নবগঠিত রামিম ক্লাব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা পতাকা হাতে নিয়ে র‌্যালি করতে দেখা গিয়েছে। আমাদরে বদরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যঃ বিদ্যালয়ে গতকাল ২৬শে মার্চ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৮টার সময় আজিজ মাধ্যঃ বিদ্যালয়ে কোরআন তেলায়াতের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা দিবসের কর্মকান্ড শুরু হয়। পরে র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বাজার ঘুরে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল বারী মিয়া, আব্দুল জলিল মিয়া, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক হাসিম খান, সিন্দুরিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ বায়েজিদ হোসেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন আহাম্মেদ। আমাদের আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের যথাযথ মার্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে। ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসুচী শুরু হয়। সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহিদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান, উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভুমি আল ইমরান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতানসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে উপজেলা চত্বরে আনুষ্ঠানিক ভাবে পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। পরে স্বাধীনতা র‌্যালি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে শহিদ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালিসহ নানা কর্মসুচী পালন করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নানার কর্মসুচী পালন করা হয়েছে। সকালে দলীয় অফিসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, শহিদ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ কর্মসুচীতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আওরঙ্গজেব মোল্লা টিপু, উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের নানা কর্মসুচীর মাধ্যমে পালন করেছে। সকালে দলীয় অফিসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন পরে শহীদ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষকলীগের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা পালন করা হয়েছে। সকালে শহিদ মাজারে পুস্পস্তব অর্পণ, দলীয় অফিসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য আজিজুল হক, শাহ আলম মন্টু। আলমডাঙ্গা চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন করেছে, ৬৪নং চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সাস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবকসহ ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, আলমডাঙ্গা কাশিপুর-কেদারনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন হয়েছে, ৫৪নং কাশিপুর-কেদারনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সাস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়। অভিভাবকসহ ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। আমাদের মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন: মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জ ইউনিক কিন্ডারগার্ডেন এর র‌্যালী, সাংস্কৃতিক ও কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আবুল কালাম আজাদ। জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬মার্চ। সারাদেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ। গতকাল রবিবার  সকালে জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তলন এবং জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সভাপতিত্বে সকাল ৮টার সময় বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো.আ. লতিফ অমল, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, জীবননগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সাত্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হকসহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও স্থানীয় নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাই অংশ গ্রহনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতারণ করা হয়। এবং সকাল সাড়ে ১১টার সময় ধোপাখালী মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থানে মাল্যদান প্রদান করা হয়। এদিকে একই সাথে ধোপাখালী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে ধোপাখালী হাইস্কুলে ৫জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মনানা সরুপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন ও উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সালমা জাহান নিপা । আমাদের উথলী প্রতিনিধি জানিয়েছেন,  উথলীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব উদ্যেগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে  সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি আব্দুল মান্নান পিল্টু। আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আতিকুর রহমান আতিক প্রমুখ। আরো যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে, উথলী মহাবিদ্যালয়, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, উথলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেনেরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৃগমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উথলী পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। আমাদের দর্শনা অফিস জানিয়েছেন, দর্শনায় পৃথক আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি মধ্যে গতকাল সকালে দর্শনার বিভিন্ন রাজনৈতিক, কেরুজ কর্তৃপক্ষ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক,শ্রমিক সংগঠনসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ কার্যালয়ের জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলণ করেন। এরপর সকাল সাড়ে ৮দিকে দর্শনা সরকারী কলেজ মাঠে সমবেত হয়। এখানে দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় জাতীয় পতাকা ও মক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে শপথ বাক্য পাঠ করেন এ্যাডঃ কমরেড শহিদুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, দর্শনা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, সাবেক উপাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, জেলা কমিউনিস্ট পাটির সভাপতি সৈয়দ মজনুর রহমান, দর্শনা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগরের সহোদর আলী মুনছুর বাবু, জেলা পরিষদের সদস্য মুন্সি সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, দর্শনা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলেট, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন,বিএনপি নেতা সাফিউল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম,ও লুৎফর রহমান। শপথ ব্যাক্য শেষে এখান থেকে বর্ণঢ্য র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি দর্শনা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেরুজ শহিদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। র‌্যালীতে অংশ নেয়, দর্শনা পৌরসভা, পৌর আ’লীগ, পৌর জাসদ নূরুল আম্বিয়া, বিএনপি, কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ, জাসদ, মোটর শ্রমিক, দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতি, দর্শনা প্রেসক্লাব, পুরাতন বাজার দোকান মালিক সমিতি, কেরুজ শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে তৈয়ব, মাসুদ, হাফিজ, সবুজ, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রিন্স। এছাড়াও অংশ নেয় দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, কেরুজ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দর্শনা সরকারি কলেজ, মেমনগর বিডি, কেরুজ, দক্ষিণচাঁদপুর, মাধমিক বালিক বিদ্যালয়, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, অনির্বাণ থিয়েটার, সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফ্রেন্ডস ক্লাব, রামাযুষ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ফারিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন। এদিকে দিনটি উদযাপন করতে সকালে কেরুজ ক্লাবমাঠে চিনিকল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম আরশাদ হোসেন। সন্ধ্যায় দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের আয়োজনে স্বাধীনতার উপর আলোচনা করেন এ্যাডভোকেট কমরেড শহিদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে কবিতা আবৃতি ও গণ সংগীত পরিবেশিত হয়। কবিতা আবৃতি করেন মুন্সি কবির ও এস আই মাহবুব হোসেন। সব শেষে অনির্বাণ থিয়েটারের পরিবেশনায় গণ সংগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অনির্বাণ থিয়েটারের সদস্য ইসরাইল হোসেন খান ও প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহা। এদিকে, দর্শনায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রীতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরুস্কার বিতরণ করা হয়েছে। দর্শনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে গতকাল সকাল ১০ টার দিকে কলেজ মাঠে পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কলেজের উপাধ্যক্ষ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য রাখেন দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান। আমাদের দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে,  দামুড়হুদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দামুড়হুদার জয়রামপুর শেখপাড়ার স্কুল বটতলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩জন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ায় এলাকার মানুষ সোকাহত হয়ে পড়ায় অনুষ্ঠানের জওলুস হারিয়ে যায়। যার কারনে মহান স্বাধীনতা দিবসের সাংকৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। প্রত্যুষে দামুড়হুদা চৌরাস্থার মোড়ে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু করা হয়। এরপর আটকবরে স্মৃতৃসৌধে পতাকা উত্তলোন, করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। এরপর স্মৃতৃসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন উপজেলা প্রশাসন,আওয়ামীলীগ, মডেল থানা,মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন। এরপর দামুড়হুদা ষ্ঠেডিয়াম মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময় দামুড়হুদা অডিটরিয়াম হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাফুজুর রহমান মনজু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আছির উদ্দীন। এরআগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দের স্বরনে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। ও বিকালে ষ্ঠেডিয়াম মাঠে পুরস্কার বিতরন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বহী অফিসের নাজির হামিদুল ইসলাম। কার্পাসডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় গতকাল  যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। সকালে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন আ: লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ কার্পাসডাঙ্গা ব্রীজ মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও শহীদদের আত্তার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া কামনা সহ র‌্যালী করে। আমাদের মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হচ্ছে। এ দিনটি পালন উপলক্ষে গতকাল রোববার প্রাত্যুশে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে ৩১ বার তপোধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা করা হয়। এরপর সকাল ৬টায় শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, পুলিশের পক্ষ থেকে আনিছুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বশির আহম্মেদ, পৌর সভার পক্ষে মেয়র আলহাজ মোতাচিছম বিল্লাহ মতু, পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মেহেরপুর-১ আসনের এমপি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল সেখানে উপস্থিত হয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। র‌্যালি ও পুষ্পস্তাবক অর্পন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক, সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার সভাপতি শামীম আরা হিরা, জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি কাজী শহিদুল হক, বুড়িপোতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজামালসহ দলীয় নেতাকর্মী। পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম রসুলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অপর এক অংশ স্মৃতিসৌধে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এসময় র‌্যালিতে ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী তহমিনা আবেদীন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন ও যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্কাস আলী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, রাজন মালিথা, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ শেখ  প্রমুখ। পরে একেএকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেহেরপুর ষ্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, রোভার, বয় স্কাউটস, গার্লস গাইডস, কাব ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু-কিশোরদের সমাবেশ এবং কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বিতরণীসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসুচীর আয়োজন করা হয়। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেণ জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। এর আগে তিনি মাঠপার্স শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও মেহেরপুর বাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এসময় তার সাথে ছিলেন পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান। কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কের দু’পাশে রঙিন পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। রাতে গুরুত্বপূর্ন সরকারী ভবন ও স্থাপনায় আলোক সজ্জা করা হয়। এছাড়া এদিন দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, শিশু পরিবার প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়া সুবিধামত সময়ে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। আমাদের গাংনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গাংনীতে নানা আয়োজনের মধ্যেদিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে ৩১ বার তোপধ্বনী, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালী, পুষ্পার্ঘ অর্পন, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ, গাংনী থানা ওসি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুনতাজ আলী, গাংনী প্রেস ক্লাব সভাপতি রমজান আলী। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সেচ্ছাসেবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন। সকালে মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন আয়োজনে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন শেষে একটি  র‌্যালি বের হয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এসময় উপ¯ি’ত ছিলেন,  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. একেএম শফিকুল আলম, নারী নেত্রী নুরজাহান বেগম, শহিদুল ইসলাম শাহসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেত্রবৃন্দ। অন্যদিকে গাংনীতে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা আসনের মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা আক্তার বানু গাংনীর কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন করেন। এসময় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপ¯ি’ত ছিলেন। এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পতাকা উত্তোলন, র‌্যালী ও  শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। প্রথমে গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন পরে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে আলোচনাসভা ও পুষ্পার্ঘ অর্পনের মধ্যেদিয়ে অনুষ্ঠন শেষ হয়। পরে আওয়ামীলীগের পক্ষে থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহিদুজামান খোকনের নেতৃত্বে র‌্যাী ও পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপ¯ি’ত ছিলেন। অন্যদিকে গাংনী পৌরসভার আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে র‌্যালী, আলোচনাসভা  ও শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়। পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে উপ¯ি’ত ছিলন পৌরসভার প্যানেল মেয়র-নবীর উদ্দীন, সাহিদুল ইসলাম, বদরুল আলম বুদু, এনামুল হকসহ সকল কাউন্সিলর ও পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ। এছাড়াও পৌর এলাকায় সুন্দোর্য বর্ধনে বিভিন্ন ভাবে সাজানো হয়েছে। আমাদের বারাদী প্রতিনিধি জানান, আমঝুপিতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। সদর উপজেলার আমঝুপিতে র‌্যালী, পুস্পমাল্য অর্পণের মধ্যে দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা। রবিবার সকালে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন চুন্নু , আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব প্রমূখ। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা আমঝুপি সড়কে পৃথক পৃথক র‌্যালী বের করে। ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহে ২৬ মার্চ রবিবার ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছে। ১৯৭১সালের এই দিনে পাকিস্থান বাহিনীর দমন অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঝিনাইদহের আপামর জনতা সহ বাঙ্গালিজাতী। ঝিনাইদহে প্রতি বছরের ন্যায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটিকে পালন করা হচ্ছে জাতীয় দিবস হিসাবে। তারই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দত্তনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দত্তনগর বিএডিসিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলাধীন দত্তনগর বিএডিসির উদ্যোগে ২৬শে মার্চ সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে বিডিসি’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ যুগ্ম পরিচালক (খামার) অফিস প্রাঙ্গন থেকে র‌্যালি বের হয়ে দত্তনগর এসএম ফার্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি’র যুগ্ম ও উপ-পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিএডিসি’র সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদয় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচলনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী