২০ দিনের ব্যবধানে ৪ শিশুসহ প্রাণ গেল ৬ জনের
- আপলোড তারিখঃ
২৪-০৮-২০২০
ইং
শৈলকুপায় বৃদ্ধি পেয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব, দংশনে দুই শিশুর মৃত্যু
প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিষধর সাঁপের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাতে পৌর এলাকার চতুড়া ও দুধসর ইউনিয়নের নাকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার চতুড়া গ্রামের শুভর ছেলে রাব্বি (৫) রাতে বাবা-মায়ের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু ছেলেটিকে সাঁপে কামড় দেয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি মারা যায়। এ ছাড়া দুধসর ইউনিয়নের নাকোল গ্রামে বিল্লাল হোসেনের ছেলে তাহসিন (৯) ঘরের মেঝেতে শুয়েছিল। রাত দুইটার দিকে বিষধর সাপে তাকে কামড় দেয়। পড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোরে ছেলেটি মারা যায়।
শিশুটির পিতা বিল্লাল হোসেন জানায়, তাঁর ছেলেকে সাপে কামড় দিলে প্রথমে ওঝাঁ কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে ছেলেটি সুস্থ হয়ে যায়। নিশ্চিত হতে মনের সন্দেহ দূর করতে ছেলেকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটি মারা যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুচিকিৎসা পাওয়ার আশায় হাসাপাতালে সাপ ধরে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলা করা হয়েছে। প্রথমে হাসপাতালে কোনো ডাক্তার ও নার্সকে ডেকে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানায়, সাপে কাটা রোগীগুলো হাসপাতালে নিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যাচ্ছে। সব সমস্যার সমাধান হলেও এই সমস্যার সমাধান কেউ দিতে পারছে না। এই শাখাকানন, কালাচ নামে পরিচিত সাপে কামড়ানো ব্যক্তিদের বেঁচে যাওয়ার রেকর্ড খুবই কম। তাহলে কেন এর অ্যান্টিভেনম ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রাখা হচ্ছে না। আজ পর্যন্ত হাসপাতালে যেয়ে কেউ বাঁচতে পারেনি।
এদিকে, সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ২০ দিনের ব্যবধানে শৈলকুপা উপজেলায় সাপের কামড়ে ৪ শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সাপের উপদ্রব বন্ধে ও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জেলাবাসীর অভিযোগ।
কমেন্ট বক্স