জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার বেশির ভাগ স্কুলেই চলছে অবৈধ নোট গাইডের রমরমা ব্যবসা এ ব্যবসার সাথে বেশির ভাগ স্কুল শিক্ষকরাই জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের করতোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক অভিযোগ করে বলেন ,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বলে দিয়েছে বাজার থেকে পপি গাইড কিনতে হবে অন্য গাইড কিনলে হবে না। এদিকে বাজারে পপি গাইড বেশ কয়েকটি দোকানে না পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবক মহল হতাশা হয়ে পড়েছেন। এদিকে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা পপি গাইড কিনতে যেয়ে ৪দিনের জোন হাজিরা চলে যাচ্ছে বলে অনেকে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ছাড়িয়ে বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে। এ ব্যপারে একজন অভিভাবক নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক অভিযোগ করে বলেন ,আমি এক জন দিন মুজুর কাজ করি একদিন জোনে গেলে আমার ১শ ৫০টাকা হাজিরা পায় আমার পরিবারে ৩সন্তানসহ ৫জনের সংসার সমস্থ জিনিস পত্র কিনে খেতে হয়। সমস্থ জিনিস পত্র কেনার পরে আমার সন্তানদের লেখাপড়া করানো সম্ভব ছিল না বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীবদের ফ্রি লেখাপড়া করার জন্য সুযোগ দেওয়ায় আমি আমার ৩সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করি, কিন্তু বর্তমান স্কুলের শিক্ষকরা যে গাইড কিনতে বলেছে তার দাম ৮শ ৫০টাকা যা আমার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। তা ছাড়া স্কুল থেকে শিক্ষকরা যে সমস্থ গাইড কিনতে বলেছে তা অনেক লাইব্রেরীতে পাওয়া যায় না। এ ব্যপারে করতোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌফিকুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি দির্ঘ ১৪ দিন ছুটিতে ছিলাম টাকার ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কোন কোম্পানীর নিকট থেকে টাকা নেয়নি যারা এ ধরনের অভিযোগ করেছে তা সম্পন্ন মিথ্যা। একটি সুত্রে জানা গেছে স্কুলের শিক্ষকরা বিভিন্ন বই কোম্পানীগুলোর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই সব কোম্পানীগুলোর বই কেনার জন্য ছাত্র-ছাত্রীকে নির্দেশ প্রদান করেন। যেখানে বর্তমান সরকার গাইড বই নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন সেখানে শিক্ষকরা কি ভাবে ছাত্রছাত্রীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করেন এমনটাই প্রশ্ন অভিভাবকসহ সচেতন মহলের। এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা মাদ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমযাদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমরা প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকদের আগে থেকে সর্তক করে দিয়েছি যাতে কোরে কোন শিক্ষক গাইড বই বিক্রি না করতে পারে তা ছাড়া যে সমস্থ শিক্ষক এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত আছে যদি সঠিক প্রমান পাওয়া যায় তা হলে সে সমস্থ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন