
অঞ্জন দত্ত/আকিমুল ইসলাম: বাংলাদেশকে বলা হয় নদী মাতৃক দেশ। ছোট বড় ৩১০টি এবং মৃত প্রায় ১১৭টি নদীর মধ্যে অন্যতম নবগঙ্গার শাখা নদী চিত্রা। খননের অভাবে চুয়াডাঙ্গার চিত্রা নদী দিনেদিনে পরিণত হয়েছে মরা খালে। ফলে নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে করা হচ্ছে এখন চাষাবাদ। অন্যদিকে নদী দখল উৎসবে মেতে উঠেছেন নদী তীরের বসবাসকারী প্রভাবশালীরা। নদী দখল মুক্ত করতে বা খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কোন পদক্ষেণ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে। নবগঙ্গার এই শাখা চিত্রা নদীতে পাওয়া যেত পর্যাপ্ত ঝিনুক কালের বিবর্তনে সবকিছুই যেন হারিয়ে গেছে। একসময় এই নদীতে পাওয়া যেত মিঠা পানির মাছ, চলাচল করতো বড় বড় নৌকা। যার সূত্র ধরে নদী পাড়ে গড়ে উঠেছিল বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীর পানি দিয়ে করা হত চাষাবাদ। কিন্তুু চিত্র পাল্টে এখন পুরোই উল্টো। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। আর সেই চরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে ধান, সরিষা, কালাই, মশুড়ী, পেয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছে। এছাড়া নদীর খাস জমি দখল করে খনন করা হয়েছে পুকুর যার ফলে নদীর প্রসস্থতা দিনেদিনে আরও কমে এসছে। খননের অভাবে শুকনো নদীর চরে চরানো হচ্ছে গবাদি পশু এছাড়াও নদীতে কমেছে মিঠা পানির বিভিন্ন ধরনের মাছ। বর্ষা মৌসুমে নদীতে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে চলাচল করা যায় পায়ে হেটে। জেলার সব নদী গুলোরই একই অবস্থা। এসব জেগে ওঠা চরে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দেখা দিয়েছে নদী দখল। নদী পাড়ের প্রভাবশালী বাসিন্দারা মেতে উঠেছে নদী দখল উৎসবে। যে কারনে একদিকে যেমন কমছে নদীর প্রশস্ততা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে মাছসহ জলজ প্রানী। পরিবেশ বিদদের দাবী নদীগুলো অতি দ্রুত খনন ও দখল মুক্ত করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহমানতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সৃদৃষ্টি দেন তাহলে চিত্রা নদী ফিরে আবারও পাবে তার সেই আগের যৌবন।
সমীকরণ প্রতিবেদন