বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাসভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ!

  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৭-২০২০ ইং
বাসভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ!
চুয়াডাঙ্গা টিটিসির কে এম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নানা অভিযোগ নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেএম মিজানুর রহমানের বাসভবনে তালা দিয়েছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া বিল ভাউচার, মালামাল ক্রয়ে গোলমাল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সম্মানি-পাওনাদি আটকে রাখা ও মারধরের অভিযোগ করে তাঁর বাসভবনে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছে অবরুদ্ধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেএম মিজানুর রহমানের বাসভবনের গেটে ঝুলানো তালা ভেঙে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষরিত লিখিত এক অভিযোগে বলা হয়েছে, নভেম্বর ২০১৬ থেকে অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান বিভিন্ন জালিয়াতি করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য সম্মানি দেননি। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার জোরপূবর্ক ছলচাতুরি করে ভুয়া বিল ভাউচার করে মালামাল রিকুইজেশন দিতে বাধ্য করেছেন। মালামাল ও সম্পূর্ণ সম্মানি দিতে আশ্বস্ত করলেও তা দেননি। বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। তা ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গায়ে হাত তোলাসহ মারার হুমকিও দিয়েছেন। এসব কাজে তাঁর সহযোগিতা করেছেন ইংরেজি ইন্সট্রাক্টর সাখাওয়াত হোসেন। এখন তাঁর বদলির আদেশ হয়েছে। এ অবস্থায় সম্মানি ও মালামাল না বুঝিয়ে দিয়ে কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বদলিকৃত স্থানে চলে যেতে চাইছেন অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান। তাঁর কাছে পাওনাদি দাবি করলে তিনি পাওনাদি না দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করা হুমকি দিয়েছেন। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমানের বদলি হয়েছে সাতক্ষীরায়। আগামীকাল ২৩ জুলাই তিনি সাতক্ষীরায় যোগদান করবেন। অপর দিকে রাতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষুদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর বাসভবনে তালা দিয়েছেন। পাওনা পরিশোধ না করে চুয়াডাঙ্গা ত্যাগ করতে দিবেন না তাঁকে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মিথ্যা। সঠিক বিল ভাউচারেই পণ্য কেনা হয়েছে এবং যখন যখন কেনা হয়েছে, তখন তখন সংশ্লিষ্ট বিভাগের ইন্সট্রাক্টররা তা বুঝে নিয়েছেন। আমার যাওয়ার পর যিনি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করবেন, তিনিও সব বুঝে নিবেন।’ গায়ে হাত তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদের অনেক আগে একটা সমস্যা হয়েছিল। ছাত্ররা মারমুখী হয়েছিল। তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে কারো গায়ে হাত তুলিনি।’ কর্মকর্তাদের সম্মানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেতন ব্যাংক থেকে তাঁদের নিজের নিজের নামেই চেকে টাকা উঠানো হয়। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক তাঁরা সম্মানি পান।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমার সরকারি কোয়ার্টারে তালা লাগিয়েছিল তারা। পরে পুলিশ এসে তালা খুলেছে। আমার কোয়ার্টারে তালা দেওয়ার কী আছে। তারা সরকারি ঊর্ধ্বতন অফিসে অভিযোগ দিত। আমাদের মিনিস্ট্রি আছে, সেখানে জানাতে পারত। আর তাছাড়া এই অভিযোগগুলো এখন কেন? এটাতে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত, নিশ্চয় কোনো বিষয় আছে।’ তালা দেওয়ার ঘনটার সতত্যা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, ‘টিটিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অধ্যক্ষে বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। রাতে তাঁরা আবার অধ্যক্ষের কোয়ার্টারে তালা দিয়েছিলেন। আমি অফিসার পাঠিয়ে তালা খুলে দিয়েছি। তাঁদেরকে সকালে থানায় আসতে বলেছি। পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপারটি আমি নিজে তদন্ত করে দেখব।’


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’