হুসাইন মালিক: উদ্ধোধনের অপেক্ষায় বহু প্রতিক্ষিত চুয়াডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ পশুহাট সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা সেতুটি। সেতুটিকে ঘিরে নদী পারের ২০ গ্রামের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। এতে ওই এলাকার মানুষের অর্ধশত বছরের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। চলতি মাসে সেতুটি নির্মাণ কাজ হবে। আগামী মাসে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে বলে অনেকেই মনে করছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ পশুহাট-পারকৃষ্ণপুর ঘাটে ব্রিজের দাবি অর্ধশত বছরের। বংশ পরম্পরায় দুর্ভোগ আর ভোগান্তির শিকার হয়েছেন খাদিমপুর ও চিৎলা ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মানুষ। তাদের হাটঘাট থেকে শুরু করে সমস্ত কাজই করতে হয় মাথাভাঙ্গা নদী পার হয়ে। এলাকার ছেলে-মেয়েরাও স্কুল-কলেজে যায় নদী পার হয়ে। শেষমেশ ২০১৫ সালের অক্টোবরে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। এলজিইডির তত্বাবধানে টেকসই গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মান করা হচ্ছে। ৯০মিটার লম্বা আর ৮ মিটার চওড়া সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ টাকা। এতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, এডিবি ও জার্মনির কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম অ্যান্ড এসসি সেতুটি নির্মাণ করছে। ঠিকাদার শামসুজ্জোহা হাসু জানান, সেতুটি মূল অবকঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন দুই পাশের সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। সরেজমিনে সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের তৈরী সাঁকো দিয়ে দুই পারের মানুষ নদী পার হচ্ছে। আবার কেউ নতুন সেতুর উপর দিয়ে হেটে যাচ্ছে। ঘাটের মাঝি অসীত কুমার পাটনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে এখানে খেয়া পারাপার করেছি। এখন বেকার হয়ে যাচ্ছি। তবু আমি খুশি। এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। ভোগান্তি দূর হবে। পার্শ্ববর্তী সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের ছাত্রী পলি খাতুন জানায়, গ্রীস্মকালে বাঁশের সাকোয় ও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় আমরা নদী পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করি। এ ভোগান্তির জন্য অনেক সময় আমাদের স্কুল কামাই হয়ে যেত। নদী পারাপার হতে খুব ভয় পেতাম। ব্রিজ হওয়ায় আমরা খুব খুশি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আহাদ আলী বলেন, ‘নদী পারাপারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে যেত। এখন সেই সমস্যা আর থাকবে না। ছেলে-মেয়েরা হেঁটেই স্কুলে আসতে পারবে।’ ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে কৃষি ও অর্থনীতিতে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সেতুটির মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। এ সেতু নির্মাণের ফলে বিশেষ করে গাংনী উপজেলার সাথে এ এলাকার দূরত্ব অনেক কমে আসবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন সেতুটির স্থায়ীত্ব হবে একশ বছর। আশা করছি আগামী মাসে মানুষ ও যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন