বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

করোনা আক্রান্ত মা-মেয়েকে ঢাকায় রেফার্ড

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৭-২০২০ ইং
করোনা আক্রান্ত মা-মেয়েকে ঢাকায় রেফার্ড
চুয়াডাঙ্গায় আরও ৮ জনের করোনা শনাক্ত, জেলায় মোট পজিটিভ ২৩৭ নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিনজনসহ জেলায় নতুন ৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৩৭ জন। গতকাল নতুন আক্রান্তরা হলেন চুয়াডাঙ্গা পাসপোর্ট অফিসের একজন, বিদ্যুৎ অফিসের একজন, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসের একজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজন, দামুড়হুদা উপজেলার দশমীপাড়ার দুইজন, দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের ২ জন, দর্শনা বাসস্ট্যান্ডপাড়ার একজনসহ মোট আটজন। এদিকে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন থেকে করোনা আক্রান্ত মা ও মেয়েকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ ট্রিটমেন্ট ইউনিটের অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁদেরকে কুর্মিটোলা জেনারেলে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। করোনা আক্রান্তরা হলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া আবুল হাসানের স্ত্রী ও মেয়ে। গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ফলোআপ নমুনাসহ ৪৬টি, মেহেরপুরের ১৯টি, ঝিনাইদহের ৫২টি, কুষ্টিয়ার ১৩৯টি, নড়াইলের ১১১টি নমুনাসহ মোট ৩৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করে চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৮ জনের, মেহেরপুরের ৭ জনের, ঝিনাইদহের ১৩ জনের, কুষ্টিয়ার ২৬ ও নড়াইলের ৩০ জনেরসহ মোট ৮৪ জনের শরীরে নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলোআপ রিপোর্টসহ বাকি সবগুলো রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ২৫টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। সদর উপজেলা থেকে ১৪টি, দামুড়হুদা উপজেলা থেকে ৬টি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে সংগৃহীত ৩টি ও জীবননগর উপজেলা থেকে দুটি নমুনাসহ সংগৃহীত ২৫টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল জেলায় ৩ পুলিশ ২ জন সাধারণ করোনা রোগীসহ সদস্যসহ নতুন ৫ জন সুস্থ হয়েছেন। সুস্থ ৫ জনের আলমডাঙ্গা উপজেলার ১ জন, দামুড়হুদা ধানার ৩ পুলিশ সদস্য ও দামুড়হুদা উপজেলার আরও একজন। সুস্থ ৩ পুলিশ সদস্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং অন্য দুজন হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির জানান, জেলায় নতুন আক্রান্ত ৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলার তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদেরকে হোম আইসোলেশন ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলার আরও ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন, এর মধ্যে একজনকে রাতেই হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। অন্যদেরকে হোম আইসোলেশন ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভিাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলায় এখন পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২১৮১টি। প্রাপ্ত ফলাফল ২০৫২ টি। করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩৭ জনের, করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে ১৮২৭ জনের। সুস্থ ১৪৫ জন ও মৃত্যু ৩ জন। জানা যায়, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৩০ জুন তাঁরা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ১ জুলাই কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবের ফলাফলে তাঁদের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ওইদিন রাতেই তাঁদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যার পর আবুল হাসানের স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁর উচ্চ রক্তচাপসহ ডায়বেটিস রোগ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা রেফার্ড করা হয়। আক্রান্ত দুজনের পরিবারের সিদ্ধান্তে একই সঙ্গে মা ও মেয়ে দুজনকেই স্থানান্তর করা হয়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিক চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে করোনা আক্রান্ত এক নারী ও তাঁর মেয়ে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভর্তির পর থেকে মা ও মেয়ে দুজনেই স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) সন্ধার পর একজনের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁর শরীরে উচ্চ রক্তচাপসহ ডায়াবেটিস থাকায় যেকোনো সময় তাঁর অবস্থা অবনতির দিকে যেতে পারে। মেডিকেল ন্যাশনাল গাইড লাইন্স অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর শরীরে উচ্চরক্তচাপ জাতীয় রোগ থাকলে তাঁদেরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। করোনা আক্রান্ত ওই নারীর শরীরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। একই পরিবারের একজনকে স্থানান্তরের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে দুজনকেই স্থানান্তর করা হয়েছে। দর্শনা: গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করোনা আক্রান্তের মধ্যে দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর মল্লিকপাড়ার দুজন ও বাসস্ট্যান্ডপাড়ার একজনের করোনা পজিটিভ এসেছে। আক্রান্ত তিনজনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে ছিল বলে জানায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মল্লিক পাড়ার মৃত বদর উদ্দিন শাহ ওরফে বুদো শাহর ছেলে কাওসার আলী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী মৃত কওসার আলীর পরিবারের সদস্যদের গত বুধবার সকালের দিকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষায় গতকাল রাতে মৃত কওসার আলীর পরিবারের দুই সদস্যের করোনা পজিটিভ আসে। তবে কাওসার আলীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁদের বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া দর্শনা বাসস্ট্যান্ড পাড়ার একটি ফার্মেসির মালিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই ফার্মেসির কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তাঁরও নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসে। পরে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড পাড়ার ওই ফার্মেসির কর্মচারীর বাড়িটি লকডাউন করা হয়। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’