বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ফার্নিচার ব্যবসায়ীর মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৪-২০২০ ইং
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ফার্নিচার ব্যবসায়ীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক/হিজলগাড়ি প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর করোনা উপসর্গ নিয়ে জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় তাঁর। জাহিদুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বলদিয়া দাশপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ বৃহস্পতিবার বিকেলে করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে ওই বাড়ি পুলিশি পাহারায় লকডাউন নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ি বাজারে ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন জাহিদুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। কয়েকদিন পূর্বে তিনি ঠাণ্ডা, জ্বরে আক্রান্ত হন। করোনা মহামারিতে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) থেকে হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় জাহিদুলকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জাহিদুলকে রাজশাহী রেফার্ড করেন। বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাজশাহী নেওয়া হবে, পরিবারের সদস্যদের এমন সিদ্ধান্তে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর তাঁর মৃত্যু হয়। বলদিয়া দাশপাড়ার শরিফুল ইসলাম নামের এক প্রতিবেশী বলেন, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত হার্টের রোগে ভুগছিলেন। হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে তাঁর শরীরে করোনা উপসর্গের কথা লেখা থাকলেও পরিবারের লোকজন বিষয়টি গোপন করেছে। হিজলগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কিশোর বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে একজন মারা গেছেন, এমন সংবাদ পেয়ে বলদিয়া গ্রামে উপস্থিত হই। এ সময় গ্রামবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের বক্তব্য শুনি। তারপরও মৃত জাহিদুলের পিতার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। বাড়িটি লাল পতাকা টাঙিয়ে লকডাউন করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়ায় মৃত ব্যক্তির বাড়িটি গ্রাম পুলিশ ও হিজলগাড়ি ক্যাম্প পুলিশি পাহারায় লকডাউন নিশ্চত করা হয়েছে। নিহতের নমুনা সংগ্রহ ও দাফনকার্যে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু নিহত ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তিনি করোনা আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত নয়। সে কারণে শুধুমাত্র প্রশাসনিকভাবে উক্ত বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, ঠাণ্ডা, জ্বর ও নিউমোনিয়া নিয়ে বুধবার দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন জাহিদুল ইসলাম। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুলের শরীরে করোনা উপসর্গ ঠাণ্ডা, জ্বর দেখলে তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। বৃহস্পতিবার সকালে শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতাল থেকে যাওয়ার পূর্বে তাঁর নমুনা সংগ্রহের কথা থাকলেও নমুনা না দিয়েই পরিবারের সদস্যরা জাহিদুলকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারি। বিকেলে তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পাঠানো হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মেয়র প্রার্থী আওসাফ আবিরের ব্যতিক্রম উদ্যোগ