মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নির্বাচনকালীন সরকার এবার আলোচনায়

  • আপলোড তারিখঃ ১১-০২-২০১৭ ইং
নির্বাচনকালীন সরকার এবার আলোচনায়

সমীকরণ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ভাষায় নির্বাচনকালীন সরকার আর বিএনপি বলছে নির্বাচন সহায়ক সরকার। ইসি গঠিত হয়ে যাওয়ার পর এখন আলোচনায় নির্বাচনকালীন সরকার। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা প্রশ্নে বিএনপি আপত্তি জানালেও কঠোর অবস্থানে না গিয়ে দলটি নির্বাচন সহায়ক সরকার গঠনকে গুরুত্ব দিয়ে এগুচ্ছে। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন। বিএনপিকে স্বরাষ্ট্রসহ তাদের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাবও করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিএনপি সে প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। তারা নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দেয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগ সাংবিধানিক সঙ্কট এড়াতে নির্বাচন অনিবার্য বলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিএনপির ব্যাপক আন্দোলনের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ওই নির্বাচনকালীন সরকারে অংশগ্রহণ না করলেও এরশাদের জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচনকালীন সরকারে যোগদান করেছিল। বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসে নির্বাচন সহায়ক সরকারের কথা বলছে। আওয়ামী লীগ একই ধরনের নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে বলেছে বিগত নির্বাচনের সময়ে। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি এখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই নির্বাচনমুখী কর্মসূচি শুরু করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘুরছেন নিজেদের নির্বাচনী এলাকাতে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রধান এইচএম এরশাদ বিভিন্ন জনসভায় নির্বাচনী বক্তব্য রাখছেন। বিএনপি ভেতরে ভেতরে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সূত্র বলেছে, গত নির্বাচনের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী একটি নির্বাচনকালীন সরকারের আহ্বান জানাতে পারেন। তবে সে প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির ঠাঁই নাও হতে পারে। সূত্র বলছে, গতবারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে বিএনপি আসতে পারবে না। কারণ চলতি দশম সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব নেই। আরেকটি সূত্র বলেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার নির্বাচনের আগেই সংবিধানের সঙ্গে মিল রেখে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ইসি গঠন হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর চোখ নির্বাচনের দিকে। কারণ নির্বাচনই হচ্ছে সরকার বদলের একমাত্র স্বীকৃত পন্থা। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তো সংবিধানে স্পষ্ট করা আছে, সেভাবে নির্বাচন হবে। তবে হ্যাঁ এটা এখন রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেছেন, সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে বলা আছে, সে অনুসারে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, এখন আগামী নির্বাচনের বিষয়টি আলোচিত হবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেছেন, আদালতের রায়ে এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। রাজনৈতিক দলগুলোও সে দাবি থেকে সরে এসেছে। এখন বাকি আছে সংবিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। সেটা নির্বাচনকালীন সরকার, স্বাভাবিকভাবেই দলগুলোর মাঝে তা নিয়ে আলোচনা থাকবে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১০ মে প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। এ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়। তবে রায়ে বলা হয়, রায়-পরবর্তী দুটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু রায়ে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়নি। সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১২৩ অনুচ্ছেদে দেশে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের কথা রয়েছে। এই সংসদ সদস্য নির্বাচনের অর্থই হল সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করা হয়। ‘সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৩ দফার ক উপদফা অনুসারে প্রতিটি সংসদের মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ অনুসারে চলমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুসারে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে। তবে নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদটি বিবেচিত হয় নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী