
অঞ্জন দত্ত/ উজ্জল মাসুদ: তেলের অভাবে আবারো বন্ধ রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্স। ফিলিং স্টেশনে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বাকি থাকায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তারা। ফলে সদর হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্সেরই চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে একটানা ১০দিন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ হওয়ায় রোগিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এদিকে, বন্ধ হওয়ার উপক্রম সদর হাসপাতালে জেনারেটর চালিত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তেল সরবরাহ বন্ধের পর থেকে এপর্যন্ত মজুদ থাকা তেল দিয়েই বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জ্বালানি ছাড়া আর জেনারেটর চালানো সম্ভব না বলে জানিয়েছেন অপারেটর রনি। এর আগে ১ডিসেম্বর থেকে জ্বালানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ফিলিং স্টেশন। এরপর আবার ২২ জানুয়ারি থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুই বছরে ৩২ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় ২২ জানুয়ারি থেকে জ্বালানি সরবরাহ করছে না ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার পরও ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বাকি ছিলো। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ৩১ ডিসে¤॥^র পর্যন্ত জ্বালানি বাবদ আরও ৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা বাকি হয়। এর মধ্যে ৪ লাখ টাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যায়। গত ২০ ডিসেম্বর ওই টাকা পরিশোধ করার পর বর্তমানে ৩২ লাখ ১৩ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারি। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজিবুল ইসলাম জানান, আমি সবেমাত্র আরএমও হিসেবে যোগদান করেছি। বিষয়টি নিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদায়ী আরএমও দ্রুত সমস্যা নিরসনের প্রক্রিয়া শুর করে গেছেন। আমিও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে। সদর হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা থেকে মুমূর্ষু রোগীদের সাধারণত ঢাকা ও রাজশাহীতে পাঠানো হয়। সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ১০টাকা। ভাড়ার সঙ্গে সেতু ও ফেরিঘাটের টোল যুক্ত হয়। সে হিসেবে চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী যাওয়ার (যাওয়া-আসা মিলে ৪৫০ কিলোমিটার হিসেবে) ভাড়া হয় ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ঢাকার (৫৪০ কিলোমিটার হিসেবে) ভাড়া হয় ৭ হাজার ৭০০ টাকা। ভুক্তভোগীরা জানান, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে স্বাভাবিক সময়েই এই ভাড়া যথাক্রমে ৭হাজার ও ১১ হাজারের বেশি নেওয়া হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দুটি অচল থাকায় এখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মালিক-চালকেরা খেয়ালখুশিমতো ভাড়া আদায় করছেন। কেউ কেউ দ্বিগুণের বেশি ভাড়া হাঁকছেন। সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা সরকারিভাবে বেতন ভাতা পান। ফলে ৩০ শতাংশ ভাড়া ভর্তুকি দিয়ে রোগী বহন করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো বলে এক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সাংবাদিকদের জানান। সদর হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সেবাদান বন্ধ হয়ে যাওয়া ও জেনারেটর চালিত বিকল্প বিদ্যুৎ এর নড়বড়ে অবস্থায় চিন্তিত ভূক্তভোগীসহ সচেতন মহল।
সমীকরণ প্রতিবেদন