
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বখাটেদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে মাদকের ব্যবহার, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের ইভটিজিং এখন নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে এবং দিনে দিনে ব্যাপক আকার ধারণ করছে। গতকাল বখাটেদের এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত এবং বাবুর্চিকে মারপিটের মত লজ্জাজনক ঘটিয়েছে স্থানীয় চার বখাটে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লাহস্থ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা ভিমরুল্লাহ নতুন জেলাখানার কোলঘেঁষে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে গৃহস্থালি (হাউজ কিপিং) ট্রেডসহ অন্যান্য ৭টি ট্রেডে এসএসসি ভোকেশনাল, স্বল্প মেয়াদী বিভিন্ন কোর্সে প্রায় ৪শ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীও রয়েছে। আবাসিক কোর্সের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আবাসিকে থেকে কোর্স সম্পূর্ণ করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ সংরক্ষিত হয়। কিন্তু বেশকিছুদিন ধরে স্থানীয় কয়েক যুবক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচির হয়ে ভেতরে ঢুকে মাদকদ্রব্য সেবন করে। তারা নারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। সীমানা প্রাচিরের সাথে রাফিদ পোল্ট্রী ফিডের রাখা ইটের কারণে যুবকরা সহজেই ভেতরে ঢুকতে পারে। চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় যুবকরা ডরমেটরির পেছনে বট গাছের নিচে বসে জুয়া খেলা এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে। তাদেরকে একাধিকবার মৌখিকভাবে নিষেধ করা হলেও তারা কোন তোয়াক্কা করেনি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার ভিমরুল্লাহ এলাকার মৃত আরেফিন আলীর ছেলে বিদ্যুৎ ওরফে আলো (২৪), একই এলাকার বেল্টু শেখ ওরফে আড্ডুর ছেলে শিমুল (২৩), দুখু মিয়ার ছেলে সালমুন (২৪), জিন্নাতের ছেলে স্বাধীন (২২) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকে। এসময় টিটিসির বাবুর্চি আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের ঢুকতে নিষেধ করলে মামুনের ওপর চড়াও হয় যুবকরা। টিটিসির অধ্যক্ষে কে এম মিজানুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে যুবকরা। এসময় বাবুর্চি মামুনের ওপর চড়াও হয়ে তাকে ব্যাপক মারপিট করতে থাকে বিদ্যুৎ ওরফে আলো, শিমুল, সালমুন, স্বাধীন। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান তাদের মারপিট থামাতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে যুবকরা। অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছানোর আগেই যুবকরা সটকে পড়ে। পরে আহত বাবুর্চি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অধ্যক্ষ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। পরবর্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।
সমীকরণ প্রতিবেদন