নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় পৃথক দুইটি দুর্ঘটনায় এক পথচারী ও এক আলমসাধুচালক নিহত হন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জীবননগরের শিয়ালমারী পশুহাটে বাসচাপায় নিহত হন পথচারী একতারপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম শহীদ। রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহত হন তিনি। অপরদিকে, সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের খুদিয়াখালী গ্রামের মোড়ে চলন্ত আলমসাধু উল্টে গুরুতর জখম হন চালক আব্দুল জলিল। আলমডাঙ্গা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। আলমসাধুচালক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামের আব্দুল জলিলকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারী পশুহাটে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন এক পথচারী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি বাস পথচারী শহীদ হোসেনকে ধাক্কা দেয়। দ্রুতগতির ধাক্কায় ছিটকে পড়ে ওই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। নিহত পথচারী শহিদুল ইসলাম শহীদ (৪৮) জীবননগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গোফুরের ছেলে। এদিকে, শহিদুল ইসলাম নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। পরবর্তীতে পুলিশ তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। ওই সড়কে প্রায় আধা ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো। জীবননগর থেকে চুয়াডাঙ্গা মূখে যাওয়া ঘাতক যাত্রীবাহী বাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে ঘাতক বাসটি বনভোজনের ছিলো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে। দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেন জীবননগর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ঘাতক ওই বাসটি কেউ চিনতে না পারায় গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে, গতকাল সকালে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ থেকে আলমসাধুযোগে আসবাবপত্র নিয়ে আলমডাঙ্গায় যান চালক আব্দুল জলিল। বিকেলে আলমডাঙ্গা থেকে বাড়ি সরোজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের খুদিয়াখালী মোড়ে চলন্ত আলমসাধুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে গুরুতর জখম হন আলমসাধুচালক আব্দুল জলিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলমসাধুচালক আব্দুল জলিল (৪৫) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামের মৃত সৈয়দ মল্লিকের ছেলে।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি আকরাম হোসেন জানান, সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা থেকে দ্রুতগতিতে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমসাধু উল্টে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এঘটনায় চালক আব্দুল জলিলকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে সে মারা যায়।
সমীকরণ প্রতিবেদন