জীবননগর অফিস: জীবননগরে যৌতুকের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মা, মেয়েকে নির্যাতন করলেন পাষন্ড যৌতুক লোভী জামাই। জানা গেছে জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাড়ান্দি পাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জান্নাতুলের সাথে গত ৯বছর আগে মহাধুমধামে একই গ্রামের ওয়াজেদ আলী খাঁর ছেলে যৌতুক লোভী রফিকুল ইসলামের (৩০) সাথে বিবাহ হয়। তাদের কোলে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান আছে যৌতুকের টাকার জন্য রফিকুল প্রায় তাকে চাপ দিত জান্নাতুল তার কথা মত টাকা না নিয়ে আসলে তার উপরে অমানুষিক নির্যাতন করত। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে গিয়ে টাকা এনে তাকে দিত, টাকা শেষ হলেই আবারও তার উপরে অমানুষিক নির্যাতন করত এই সংবাদ শুনে জান্নাতুলের মা রজিনা খাতুন মেয়েকে তার বাড়িতে দেখতে গেলে যৌতুক লোভী রফিকুলের নির্যাতনের হাত থেকে শাশুড়িও রক্ষা পায়না, অবশেষে এলাকার সাধারন জনগন তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যপারে নির্যাতিতা শাশুড়ি রজিনার সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি গত ৯বছর আগে রফিকুলে সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। সেই থেকে রফিকুল প্রায় টাকার জন্য আমার মেয়েকে অত্যাচার করত। আমাদের অভাবেব সংসার হওয়া সত্বেও জামাইয়ের জাহিদা মোতাবেক এ যাবৎ নগদ আড়াই লক্ষ টাকা, খাট, একটি গরুসহ আসবাবপত্র দিয়েছি। কিন্তু তবু আমার মেয়ের উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। অবশেষে বাদ্ধ হয়ে আমি তার নিকট থেকে আমার মেয়েকে তালাক নিয়ে নিই। কিন্তু রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তির কাছে ধন্না দিয়ে আমার মেয়ের উপরে আর কোন অত্যাচার করবে না বলে আবারও আমার মেয়েকে বিয়ে করে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই পুনরায় অবারও যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করতে থাকে। একপর্যায় আমি এই সংবাদ শুনে আমার মেয়ের বাড়িতে গেলে যেয়ে দেখি আমার জামাই আমার মেয়েকে মারধর করছে। আমি বাধা দিলে গেলে আমার জামাই এবং তার বাবা ওয়াজেদ আলী খাঁ আমার মাথার চুল ধরে টানা হেচড়া করতে থাকে। এ সময় আমি মাটিতে পড়ে গেলে আমার জামাই এবং তার বাবা মিলে আমাকে বাঁশের লাটি দিয়ে মারতে থাকে। এ সময় আমি এবং আমার মেয়ে চিৎকার করলে এলাকার সাধারন মানুষ ছুটে আসে এবং আমাদেরকে চিকিৎসার জন্য জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামী এবং তার শ্বশুরের এহেন কান্ড দেখে সাধারন মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছে ।
সমীকরণ প্রতিবেদন